১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজারহাটে চামড়া ব্যবসায় ধস

  • চামড়া কিনে মাথায় হাত ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম যশোরের রাজারহাট চামড়ার বাজারে এবার ধস নেমেছে। প্রতিযোগিতায় নেমে ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চড়া দামে চামড়া কিনেছেন। কিন্তু হাটে এসে সেই মূল্য মিলছে না। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মোসুমী ব্যবসায়ীরা। তাদের বাঁচাতে চামড়ার দাম পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী নেতারা।

খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বড় এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার বসে যশোরের রাজারহাটে। ঈদপরবর্তী সময়ে তাই এ বাজারের দিকে নজর থাকে দেশের শীর্ষস্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের। এ জন্য ঈদপরবর্তী কয়েকটি হাটেই কোটি কোটি টাকার চামড়া বিক্রি হয়। তবে এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। ঈদপরবর্তী হাটে যেমন চামড়া ওঠেনি, তেমনি বিক্রি হয়েছে কম। এদিকে যে পরিমাণ চামড়া উঠে তার ন্যায্যমূল্য পাননি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, যে দামে তারা চামড়া কিনেছেন সে দামেও তারা তা বিক্রি করতে পারেননি। বাজার দরের এ অবস্থায় রাজারহাট চামড়া বাজারে ব্যবসায় ধস নেমেছে। এখন লাভ তো দূরের কথা ঋণের টাকা ও লাভ কিভাবে দেবেন তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। হাটে চামড়ার মূল্য না পাওয়ায় অনেকে চামড়া পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন।

মঙ্গলবার রাজারহাটের চামড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাশূন্য বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বিক্রেতারা হাহাকার করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা এলেও তাদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ। গত কোরবানির ঈদের তুলনায় এবার পশুর চামড়া সরবরাহ হয় প্রায় অর্ধেক। বেশিরভাগ বিক্রেতা চামড়া নিয়ে বসে আছেন। কুষ্টিয়া, নাটোর, ঢাকার পাইকাররা চামড়া নিতে এলেও তারা বাজার যাচাই করছেন বেশি। বাজারে ট্যানারি মালিকদের নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫-২০ টাকা বেশি দরে প্রতিফুট চামড়া বিক্রি হচ্ছে। তবে এই দামে মোটেও খুশি নন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার মুকুন্দ বিশ্বাস জানান, তিনি গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে প্রতিফুট ৯০-১০০ টাকা দরে ৭০ পিস গরুর চামড়া কিনেছেন। বাজারে সেই চামড়া ৭০-৮০ টাকা ফুট দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি চামড়ায় প্রায় ৫শ’ টাকা লোকসান হচ্ছে। প্রতিবছর নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় চামড়া কিনেও লাভের মুখ দেখা যায়। সেই আশায় এবারও বেশি দামে চামড়া কিনে তার পথে বসার যোগাড় হয়েছে। নড়াইলের রতন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে সুদে ৪০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে ৩৫টি গরুর চামড়া কিনেছি। কেনা দামেও সেই চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না তিনি। যে দাম উঠছে তাতে অন্তত ১০ হাজার টাকা লোকসানের আশঙ্কায় মাথায় হাত উঠেছে তার। যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অসিত চন্দ্র দাস বলেন, নির্ধারিত দামে গ্রাম-গঞ্জে চামড়া পাওয়া যায়নি। চামড়া কিনতে গিয়ে প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে। তাই যে যার মতো দাম দিয়ে চামড়া কিনেছে। এখন মোকামে বিক্রি করতে এসে তাদের লোকসানের অন্ত নেই। ৩শ’ পিস গরুর চামড়া কিনে এখন প্রতিফুটে তার ২০-২৫ টাকা করে লোকসান হচ্ছে।

রাজারহাটে চামড়া কিনতে আসা কুষ্টিয়ার পাইকারি ব্যবসায়ী লিটন হোসেন বলেন, বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বেশি দামে তাদের কেনার উপায় নেই। কারণ ট্যানারি মালিকরা যদি বাড়তি দাম না দেন, তাহলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়বেন। এ জন্য তিনি বেশি দামে চামড়া না কিনে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।

বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানিপরবর্তী হাটে অর্ধেকের কম চামড়া উঠেছে। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। তিনি আরও জানান, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতাসহ চামড়া পাচাররোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তাই চামড়া পাচারের আশঙ্কা খুব একটা নেই। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাঁচানোর জন্য চামড়ার দাম পুনর্নির্ধারণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।