২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওবামা-হিলারি তীব্র মতভেদ

  • ‘সিরিয়া প্রশ্নে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান নির্বাচনী রাজনীতি’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তার এক সময়কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বিশ্বের জটিল সমস্যাগুলো নিয়ে হোয়াইট হাউসের নির্ধারিত কক্ষে একসঙ্গে বসে কথা বলতেন। তারা সবসময় না হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একমত হতেন এবং সাধারণত বাইরের বিশ্বের সামনে এক ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ব্যক্ত করতেন।

এখন সিরিয়ার বিষয়ে প্রশাসনের নীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়ায় ওবামা ও হিলারির মধ্যে নতুন করে মতভেদ দেখা দিয়েছে। হিলারি সিরিয়া প্রশ্নে আরও কঠোর মনোভাব গ্রহণের পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছেন, আর ওবামা হিলারির ধ্যান ধারণাকে নির্বাচনী রাজনীতি বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

গত দু’দিন ধরে দুই নেতার মধ্যে যে বাক্যবিনিময় চলে, তাতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও তার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের মতভেদ জনগণের চোখে কেবল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দেয়নি, উপরন্তু তাতে প্রেসিডেন্ট পদে কোন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থির তার দলের পদাসীন প্রধানকে না এড়িয়ে গিয়ে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি সুনির্দিষ্টভাবে ব্যক্ত করার চ্যালেঞ্জও আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সিরিয়া ইস্যুটি এক প্রকাশ্য যন্ত্রণার উৎস। হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে আরও আগ্রাসী নীতি অবলম্বনের পক্ষেই কেবল যুক্তি দেখাননি, তিনি এখন ১৫ মাস আগেই ধারণা করছেন যে, যদি তিনি প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হন, তা হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবেলার দায় তার ওপরই পড়বে। ওবামা ইতোপূর্বে বলেন যে, তিনি সিরিয়া ও ইরাকের অংশ বিশেষ দখলকারী সন্ত্রাসী দল ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তার উত্তরাধিকারীর ওপর ন্যস্ত করবেন বলে মনে করছেন। হিলারি বস্টনের টিভি স্টেশনগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতকার দিতে গিয়ে বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তার হতাশা স্পষ্ট করে তোলেন। তিনি ডাব্লিউএইচডিএইচ টিভিকে বলেন, আমি ভূমিতে এবং বিমানের আঘাতে সংঘটিত হত্যাকা- বন্ধ করতে এখন সিরিয়ার আকাশে সিরীয়পক্ষের বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা এবং মানবিক কারণে করিডর সৃষ্টি করা সমর্থন করছি। হোয়াইট হাউস সিরিয়ার আকাশে সিরীয় বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রস্তাব বছরের পর বছর ধরে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং চলতি সপ্তাহে এর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জোশ আর্নেস্ট বলেন, ঠিক কিভাবে কি বলবত করা হবে, ওই এলাকা বাস্তবে রক্ষা করতে হলে কোন ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হবেÑ বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হলে ওই সব প্রশ্ন যুক্তিগতভাবেই উঠবে।

এ কারণেই এই মুহূর্তে আমরা আভাস দিয়েছি যে, সেটি এমন কোন কিছু নয় যা নিয়ে আমরা ঠিক এখন চিন্তাভাবনা করছি। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবামা অভিযোগ করেন যে, তার সিরিয়া নীতির সমলোচকদের কোন ঠেকসই বিকল্প নীতি নেই, তাদের কেবল অপরিপক্ব নিরর্থক ধ্যান-ধারণাই রয়েছে। হিলারিও তাদের মধ্যে পড়েন কিনা, এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ওবামা হিলারিকে তাদের পর্যায়ে ফেলানোর চেষ্টা এড়িয়ে যান, তবে তিনি হিলারির কথাবার্তাকে নির্বাচনী প্রচার বলে উড়িয়ে দেন। ওবামা বলেন, এসব সমস্যার প্রতি হিলারির দৃষ্টিভঙ্গির দিক দিয়ে তিনি অপরিপক্ব নন। তিনি স্পষ্টত আমার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু আমি এটাও মনে করি যে, প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়া এবং প্রেসিডেন্ট হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং আমি জয়েন্ট চিফসের সঙ্গে যে আলোচনা করছি, তা আরও অনেক সুনির্দিষ্ট এবং সেজন্য এক ভিন্নধরনের বিচার-বুদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি। হিলারির অবস্থান এক প্রচার কৌশলÑ এ কথা অস্বীকার করেন তার মুখপাত্র নিক মেরিল। তিনি শনিবার বলেন যে, হিলারি যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মিত্রদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তিনি একে এক বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখেছিলেন। Ñনিউইয়র্ক টাইমস