২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতকে সংলাপে বসতেই হবে ॥ নওয়াজ শরীফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ শনিবার বলেন, আগে হোক আর পরে হোক ভারতকে অবশ্যই পাকিস্তানের চার-দফা শান্তি প্রস্তাব মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘বাস্তবসম্মত’ ও ‘যুক্তিযোগ্য’ প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে। সন্ত্রাস নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের তীব্র আক্রমণের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বললেন। খবর ডনের।

নওয়াজ শরীফ অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে বিভিন্ন জঙ্গী-কার্যকলাপে যুক্ত ভারত। সেই সংক্রান্ত প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে। তাঁর দাবি, সেই প্রমাণ তিনি সদ্যসমাপ্ত জাতিসংঘের সাধারণ সভায় পেশও করেছেন। অকারণে যুদ্ধ করে শেষ পর্যন্ত কারোরই লাভ হবে না বলেও মনে করেন শরীফ। শরীফের কথার সুরধরেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় ভারতের ওপরেই চাপালেন পাকিস্তানের নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সরতাজ আজিজ। নিউইয়র্কে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) বার্ষিক সম্মেলনে দাঁড়িয়ে তিনিও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও নাক গলাচ্ছে ভারত। মদত দিচ্ছে সন্ত্রাসে। কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে কথা বলার জন্য ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোকেও অনুরোধ জানান তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শরীফ জানান, ভারতের সামনে তিনি যে প্রস্তাব রেখেছেন তাতে বলা আছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই ছায়া-যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তান স্রেফ ‘বাস্তবসম্মত’ ও ‘যুক্তিযোগ্য’ প্রস্তাবই পেশ করেছে। শরীফ জানান, ওই প্রস্তাবের মধ্যে কাশ্মীর থেকে পুরোপুরি সেনা-প্রত্যাহার ও সিয়াচেন থেকে নিঃশর্ত ও পারস্পরিক সেনা প্রত্যাহারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, উভয় দেশকেই ভারসাম্য বজায় রেখে গত ৭০ বছরের প্রতিকূলতাকে ভেঙে এগোতে হবে। এদিকে পাক সেনাপ্রধান রাহিল শরীফ জানিয়ে দেন যে, কাশ্মীর হলো ভারত-পাক দেশভাগের এক অসম্পূর্ণ অধ্যায়। তাঁর মতে, এই বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে আন্তর্জাতিক মহলের এগিয়ে আসা দরকার, কারণ এর সঙ্গে গোটা অঞ্চলের শান্তির প্রশ্নটি জড়িত।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে ভাষণে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসের পথ থেকে সরে আসুক, তাহলেই ভারত আলোচনায় রাজি। তারপর নওয়াজ শরীফ ভারতকে পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, পাকিস্তানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীর আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। এ প্রসঙ্গকে এড়িয়ে সন্ত্রাস-হামলার কথা বলে আসলে ভারত জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা পিছিয়ে দিতে চাইছে বলে দাবি করেন শরীফ।