২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চলে গেলেন আদিল

চলে গেলেন আদিল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় খল অভিনেতা রেজউল করিম আদিল আর নেই। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জে তার নিজ বাস ভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী নাসিমা আক্তার মুন, মেয়ে মুনিয়া ও ছেলে বাবুজ রাইয়ান’সহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন আদিল। তিনি অনেক আগে থেকেই অভিনয় ছেড়ে দিয়েছিলেন। শেষের দিকে আইন পেশায় জড়িত ছিলেন। স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ায় গত এক বছর যাবত তিনি ঘরে বসেই সময় পার করতেন। আদিলের স্ত্রী মুন জানান, মূলত স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার কারণে নিজেকে তিনি তার পেশাগত কাজ থেকে সরিয়ে নিয়ে আসেন। তার ডায়াবেটিকস সমস্যা ছিল। কিন্তু তা কন্ট্রোলে ছিল। শনিবার রাতে বলছিল যে তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এই ছিল তার শেষ কথা। নারায়ণগঞ্জের ছেলে আদিলের প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র হাসমত পরিচালিত ‘এখানে আকাশ নীল’। চলচ্চিত্রটি ১৯৭২ সালে মুক্তি পায়। তিনি তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। এর মধ্যে তিনি ‘নসীব’, ‘নীলিমা’ এবং ‘উছিলা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো ‘রাজমহল’, ‘বারুদ’, ‘বন্দুক’, ‘বুলবুল এ বাগদাদ’, ‘ঈমান’, ‘চন্দ্রলেখা’, ‘মোকাবেলা’, ‘তাজ ও তলোয়ার’, ‘সওদাগর’, ‘নাগিনী কন্যা’, ‘তিন বাহাদুর’, ‘শাহী দরবার’, ‘রাজিয়া সুলতানা’, ‘নেপালী মেয়ে’, ‘পাতাল বিজয়’, ‘অশান্তি’, ‘তিন টেক্কা’, ‘রাজ দুলালী’, ‘চাচ্চু’ প্রভৃতি। তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিল ‘কোটি টাকার কাবিন’। সর্বশেষ আদিল শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে বিএফডিসিতে এসেছিলেন।

আদিলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি, প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, বাচসাস পরিবার, বাবিসাস পরিবার’সহ আরও অন্যান্য সংগঠনের নেতারা। চিত্রনায়ক ওমরসানী বলেন, ভিলেন চরিত্রটিকে যিনি নায়কোচিত হিসেবে পর্দায় উপস্থাপন করেছিলেন তিনি আদিল ভাই। আদিল ভাইয়ের না ফেরার দেশে চলে যাওয়াটা সত্যিই তাড়াতাড়ি হয়ে গেল। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসীব করুন। আসছে ৮ অক্টোবর প্রয়াত নায়ক জসীমের মৃত্যুবার্ষিকীতে ঐদিন বিকেলেই বাদ আছর শিল্পী সমিতির আয়োজনে জসীম ও আদিলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ওমর সানী। আদিলের ছেলে বাবুজ রাইয়ান জানান, রবিবার বাদ যোহর নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া পুকুর পাড় বড় মসজিদে নামাজে জানাজার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়। এরপর তাকে নারায়ণগঞ্জ মাজদাইল পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।