২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেরপুরে জাহিদুল হত্যা মামলা ৩ মাসেও তদন্তে অগ্রগতি নেই

শেরপুরে জাহিদুল হত্যা মামলা ৩ মাসেও তদন্তে অগ্রগতি নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর॥ শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর জাহিদুল ইসলাম (২৮) হত্যা মামলায় ৩ মাসেও তদন্তে কোন অগ্রগতি হয়নি। গ্রেফতার হয়নি জাহিদুলের বন্ধু ও মামলার প্রধান আসামী ফারুক হোসেন (২৯)। ঘাতক ফারুক ও তার বাবা মোক্তার হোসেন এলাকায় অবস্থান করে প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও রহস্যজনক কারণে তাদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ। ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশংকায় নিহতের পিতা ইউসুফ আলী এলাকার সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও পুলিশের আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, নালিতাবাড়ী উপজেলার পূর্ব মানিককুড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর পুত্র ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালক জাহিদুল (২৮) পার্শ্ববর্তী কাকরকান্দি গ্রামের সাবেক মেম্বার মোক্তার হোসেনের পুত্র ফারুক হোসেনের (২৯) সাথে আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের সুত্রে প্রায় ৪ বছর পূর্বে স্থানীয় চৌরাস্তা বাজারে ‘ওরা দুইজন ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ’ প্রতিষ্ঠা করে। সমিতির মূলধন প্রায় ১২ লাখ টাকায় উন্নীত হলে ফারুক জাহিদুলকে এড়িয়ে যেতে থাকে। প্রায় ৭ মাস আগে তাদের অংশিদারিত্ব নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হলে হালখাতা শেষে অংশিদারিত্ব ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্তে মনোমালিন্য কাটে। ওই অবস্থায় গত ১১ জানুয়ারী সন্ধ্যার দিকে ফারুক হোসেন তার অজ্ঞাতনামা এক বন্ধুকে নিয়ে জাহিদুলের বাড়িতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী ভোগাইপাড় এলাকায় যাত্রা দেখার কথা বলে তার মোটর সাইকেলসহ নিয়ে যায়। পরদিন ফারুক ফিরে এলেও জাহিদুল ফিরে না আসায়, তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় এবং জাহিদুলের খোঁজ-খবর নিতে তার বাবা ফারুকের বাড়িতে গিয়ে জাহিদুলের পায়ের কেডস দেখতে পাওয়ায় সন্দেহের উদ্রেক হয়। ওই ঘটনায় জাহিদুলের বাবা ইউসুফ আলী নালিতাবাড়ী থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা পুলিশ অভিযোগ না নিয়ে একটি জিডি গ্রহণ করে। এরপর জাহিদুলের এক চাচার মোবাইল ফোনে কয়েক দফা ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলে সে বিষয়টিও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। বিষয়টি স্থানীয় পত্র-পত্রিকাতেও ছাপা হয়। কিন্তু এরপরও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অবশেষে ফারুক ও তার পিতাসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করে ৭ জুলাই আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন জাহিদুলের হতভাগ্য পিতা ইউসুফ আলী। কিন্তু আসামীরা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবস্থান করার সুবাদে মামলা দায়েরের ৩ মাস অতিবাহিত হলেও আজও কোন অগ্রগতি হয়নি তদন্তে। আসামীরা এলাকায় অবস্থান করে প্রকাশ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে মামলার বাদী ও সাক্ষীদেরকে হত্যা, গুমসহ ভয়ভীতি-হুমকি প্রদর্শন করছে। ওই অবস্থায় আসামী ও তার আত্মীয়-স্বজনদের হুমকির মুখে মামলার বাদী, নিহতের স্ত্রী নাজমা খাতুন ও স্কুলপড়–য়া ছেলে স্বাধীন (৯)সহ মামলার সাক্ষীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জাহিদুলের ছবি দেখে মাঝে-মধ্যেই মুর্ছা যায় স্ত্রী নাজমা। কখনওবা খেয়ে না খেয়ে নির্বাক-নিশ্চল হয়ে বাড়িতেই পড়ে থাকতে হয় পরিবারের সকলকে। তাই একমাত্র পুত্র হত্যা মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জাহিদুলের পিতা।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম ফসিহুর রহমানের মোবাইলে যোগাযোগ করে জানা যায়, তিনিসহ ওসি তদন্তও ছুটিতে রয়েছেন। তবে ওসির মোবাইলেই কথা হয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরিফ হোসেনের সাথে। মামলার ৩ মাস পরও তদন্তে অগ্রগতি না থাকার বিষয়ে তিনি মূল বিষয়কে পাশ কাটিয়ে দীর্ঘ বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, ঘটনার ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ায় কললিস্ট পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া বিষয়টি জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ায় মামলাটি এখন সিআইডিতে প্রেরণের কথা ভাবছি।