২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এসডিজি অর্জনে প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতিসংঘে গৃহীত নতুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় দেশের ১ কোটি ২৫ লাখ প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন সমাজ কর্মীরা। তারা বলছেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীগুলোতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রবীণদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। জরুরী ভিত্তিতে এসব প্রবীণের দীর্ঘমেয়াদী সেবা দরকার। দেশের নগর ও শহরগুলো প্রবীণবান্ধব নয়। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল, বিনোদন পার্ক নির্মাণে বয়স্কদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয় না। গণপরিহনে শিশু ও নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণের সীমিত সুবিধা থাকলেও প্রবীণদের জন্য তা নেই। এসডিজি অর্জনে এসব বিষয়ে সচেতনা তৈরির পাশাপাশি জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা এবং পিতা-মাতা ভরণ পোষণ আইন-২০১৩ দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন।

সোমবার রাজধানীর শ্যামলীতে আশা ইউনিভার্সিটির কনফারেন্স হলে ‘নগর পরিবেশে প্রবীণদের অন্তর্ভুক্তি সুনিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন। এনজিও সংগঠন আশা’র সহযোগিতায় ফোরাম ফর দ্য রাইটস অব এল্ডারলি-বাংলাদেশ (এফআরই-বি) এ বৈঠকের আয়োজন করে। প্রবীণদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করে এমন বেশ কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশগ্রহণ করেন। এফআরই-বির সভাপতি ড. কে এম রশিদের (৮৬) সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও আশার প্রেসিডেন্ট মো. সফিকুল হক চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক উল ইসলাম, এফআরই’র সহ-সভাপতি ড. এম কবির, এম কবির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসিব খান, ফেরদৌস আরা, মেজর জেনারেল (অব:) জীবন কানাই দাশ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হীলের চেয়ারপার্সন জেবুন নেসা, বয়স্ক কল্যাণ সমিতির সভাপতি খায়রুল কবির প্রমুখ।

বৈঠকে সমাজকল্যণ সচিব জানান, বর্তমান সরকার এ পর্যন্ত ৩০ লাখ বয়স্ক নারী পুরুষকে ভাতা কার্যক্রমের আওতায় এনেছে। প্রতিবছরই এ খাতে বরাদ্ধ ও ভাতা পাওয়ার যোগ্য প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে। চলতি বছর এজন্য ১০৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রবীণদের সুরক্ষা কার্যক্রমে এনজিও সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবীনদের জন্য বিশেষ ছাড় এবং বিনামূল্যে সেবা পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। না জানার কারণে অনেকেই এসব সেবা নিতে পারছেন না।

বৈঠকে বক্তরা বলেন, সরকার ষাটোর্ধ ব্যক্তিদের ‘সিনিয়র সিটিজেন’ ঘোষণা করেছে। তবে এসব ব্যক্তির বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা এখনো নিশ্চিত করা যায় নি। এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীগুলোতে প্রবীণদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৩ সালে প্রণীত জাতীয় প্রবীন নীতিমালায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জ্যেষ্ঠ নাগরিক বিভাগ চালুর কথা থাকলেও তা এখনো হয় নি। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তাছাড়া কেবল আইন প্রণয়ন করেই প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না। এজন্য প্রবীণদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, সামাজিক মূল্যবোধের চর্চায় তাদের সন্তান ও তরুণ প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।