২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এসডিজির ৮ লক্ষ্যে এগিয়ে বাংলাদেশ- সিপিডি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৮ লক্ষ্যে উন্নয়নশীল অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় অনেকের তুলনায় বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জনে ভালো করার ছিল অনেক আগেই বাংলাদেশে এনিয়ে কাজ শুরু করেছিল বলে জানান বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ‘র (সিপিডি) সম্মানীয় রিসার্চ ফেলো দেব প্রিয় ভট্টাচার্য।

প্রসঙ্গত, আগামী বছর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে এসডিজি।

সোমবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে 'এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় আলোচনায় অংশ নেন সিপিডির প্রধান নির্বাহী ড. মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সিপিডির অতিরিক্তি গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা পরিচালক তৌফিক ইসলাম খান প্রমুখ।

দেব প্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এসডিজির লক্ষ্যের মধ্যে যে সবে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে তা হলো- দারিদ্র, ক্ষুধা ও পুষ্টি, শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, জ্বালানি সমস্যা নিরসন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় আসার পর থেকে কাজ শুরু করেছে। তাই এমডিজিতে ভালো ফল এসেছে। যা এখন এসডিজিতেও সহায়ক হবে। তবে, আরও অনেক কাজ করতে হবে।

এছাড়া তুলনামূলকভাবে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যে সব লক্ষ্যে তা হলো- স্বাস্থ্য, অন্তর্ভূক্তি মূলক কর্মসংস্থান, অবকাঠামো, শিল্পায়ান ও উদ্ভাবন, বৈষম্য দূরীকরণ, নগরায়ন ও মানব বসতি, টেকসই ভোগ ও উৎপাদন, সাগর ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার, ইকো সিস্টেম ও প্রাণী বৈচিত্র এবং সুশাসন।

সিপিডির সম্মানীয় রিসার্চ ফেলো বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশেকে অবশ্যই ৫টি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে- চলমান অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নীতির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হবে, কী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে, কী ধরনের আর্থিক ও সম্পদের প্রবাহ থাকবে, পরিসংখ্যান কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং জবাবদিহিতার কাঠামো ও সবার অংশগ্রহণ কীভাবে নিশ্চিত হবে?

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থায়নের ব্যবস্থা, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছে সিপিডি।

এসডিজির বিষয়ে দেবপ্রিয় জানান, ১৭টি অভীষ্ট ও ১৬৯টি লক্ষ্য নিয়ে এসডিজির গাইড লাইন তৈরি করা হয়েছে। এতে একটি আন্তর্জাতিক ঐক্যমতের প্রকাশ ঘটেছে। এই ঐক্যমতে পৃথিবীর সব মানুষের উন্নতর জীবন-যাপনের আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে সব দেশের সব মানুষের উন্নত জীবন যাপনের বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।

দেবপ্রিয় বলেন, এসডিজি বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) অসম্পূর্ণ থাকা কাজগুলো থেকে। এগুলোর মধ্যে সবার উপরে রয়েছে কর্মসংস্থান। ২০১৫ সালের মধ্যে আমাদের কর্মসংস্থান ১০০ শতাংশ হওয়া কথা। সেখানে হয়েছে ৫৭ শতাংশ। যা ১৯৯১ সালে ছিলো ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের ক্ষত্রে আমরা এগুনো তো দূরের কথা উল্টো পিছিয়ে গেছি। সুতরাং বেকারত্ব হ্রাস, অর্থের সংস্থান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা আগামীতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মসংস্থানের মতোই বনাঞ্চল শোচনীয় পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে দেবপ্রিয় বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিমাণ বনাঞ্চল থাকার কথা গত ১৫ বছরে তা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে বনাঞ্চল ছিলো ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। তা ২০১৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ১ শতাংশে।