১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আগামী প্রজন্মের নেতারা

  • এনামুল হক

সার্জারিতে মারিয়া পেরেইরা

সার্জারি বা শল্যচিকিৎসার সবচেয়ে পুরনো একটা সমস্যা হলো, কাটা জায়গাটা সেলাই করে জুড়ে দেয়া নিয়ে। সেটা করতে গিয়ে অনেক সময় ঝামেলা হয়। ইনফেকশন হয়। জ্বালা-যন্ত্রণা হয়। কাটা জায়গায় সেলাইয়ের দাগ পড়ে। এ সমস্যার একটা সহজে সমাধান বের করে মারিয়া পেরেইরা সার্জারিতে একটা যুগান্তর সৃষ্টি করতে চলেছেন। তিনি এমন এক গ্লু বা আঠা বের করেছেন, যা হতে যাচ্ছে সেলাইয়ের বিকল্প।

পর্তুগালের মেয়ে পেরেইরা। বয়স ৩০। এমআইটির বৃত্তি নিয়ে বোস্টনে বায়ো ইঞ্চিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন। তারপর উদ্ভাবন করেছেন এই আঠা। সার্জারির পর চিকিৎসক কাটা জায়গা সেলাই না করে এই আঠা লাগিয়ে তার ওপর নির্দিষ্ট মাত্রায় আলো ফেললে তা ক্ষতস্থান জুড়ে দেয়। এমনকি হৃৎপি-ের মতো জায়গা, যেখানে হৃদপেশীর অনবরত সঙ্কোচন প্রসারণ ঘটে চলেছে, তেমন ইলাস্টিক জায়গায় এই আঠা ব্যবহার করা যেতে পারে। পেরেইয়ার উদ্ভাবিত এই আঠা নিয়ে ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এ বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা। তবে তা অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছাতে ২০১৭ সালের প্রথম ভাগ লেগে যেতে পারে।

নিরাপদ সড়ক মিশনে তেওয়ারী

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক সড়কগুলো হচ্ছে ভারতের। দুর্ঘটনাও সে কারণে বেশি। ২০১০ সালে ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫১৩। একই সময় চীনে মারা গেছে ৬৫ হাজার ২২৫ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ হাজারের কম। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করা মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ‘সেভলাইফ’ নামক একটা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন পীযূষ তেওয়ারী। এর কাজ হলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে যে কাজগুলো প্রথমে করা অতি জরুরী, তার ওপর ট্রেনিং দেয়া। বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে, এমনকি দুর্ঘটনায় উদ্ধার কর্মের সঙ্গে যুক্ত পুলিশদেরও এই ট্রেনিং দেয়া হয়। তেওয়ারী বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েকটা মিনিট অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় যারা উদ্ধার করতে আসেন, তাদের ক্রিয়াকলাপের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে আহত ব্যক্তি বাঁচবে কিনা কিম্বা চিরকালের জন্য পঙ্গু হয়ে পড়ে থাকবে, যেমন, আহত ব্যক্তিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়ার সময় তার মাথা ও মেরুদ- স্থিতিশীল বা স্থির অবস্থায় রাখা জরুরী, যাতে করে ওগুলোতে আঘাত লেগে থাকলে নড়াচড়ার কারণে আরও ক্ষতি না হয়ে যায়। এ জন্য শেককলার বা এ জাতীয় জিনিস ব্যবহার করতে হয়। শুধু এ সংক্রান্ত ট্রেনিং দিয়েই ক্ষান্ত নয় ‘সেভ লাইফ’, সড়ক নিরাপত্তা আইনের পক্ষেও তারা লবিং করে আসছে।

অপরাধের বিষচক্র ভাঙছে সাসকিয়া

কারাগারে বন্দীর সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে সপ্তম স্থানে রয়েছে মেক্সিকো। খুন, ডাকাতি, রাহাজানি, মাদক চোরাকারবার, অপহরণ ইত্যাকার অপরাধের দায়ে এসব লোক কারাগারে বন্দী যাদের মধ্যে মহিলার সংখ্যাও কম নয়। মহিলাদের ছোট বাচ্চা থাকলে কোথাও কোথাও বাচ্চার বয়স ৬ বছর না হওয়া পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে কারাগারে রাখার ব্যবস্থা আছে। গোটা মেক্সিকোয় কারাগারে বাস করা এমন শিশুর সংখ্যা তিন শ’রও বেশি। কারাগারের সেই বিষাক্ত পরিবেশের মধ্যে ওই শিশুরা বেড়ে ওঠে।

এমন শিশুদের এক উন্নততর ও সুস্থ পরিবেশ ব্রতী হয়েছেন সাসকিয়া নিনো দ্য বিভেরা। ২৭ বছর বয়সী এ এথলেট প্রতিষ্ঠা করেছেন রিইন্টি’গ্রেট এ মেক্সিকান নামে একটি এনজিও, যার লক্ষ কারাগারগুলোতে শিশুদের পরিবেশ বদলে দেয়া। অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে যতদূর সম্ভব দূরে সরিয়ে রাখতে সংস্থাটি কারাগারে স্থাপন করেছে বাচ্চাদের ক্ষুদে পাঠাগার, যেখানে তাদের জন্য নানা ধরনের আকর্ষণীয় বইপত্র, খেলনা ও বিনব্যাগ আছে। শিশুদের বেশিরভাগ সময় এখানেই কাটে। রাতে ওরা বন্দীদের সঙ্গে একত্রে খায়, তারপর মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে যায়। সাসকিয়া মনে করেন, মেক্সিকোয় অপরাধের বিষচক্র ভাঙ্গার অন্যতম উপায় এটা। কারণ শিশুদের জন্য উন্নততর জীবনের ব্যবস্থা না করলে পরে তারা নিজেরাই অপরাধী বনে যাবে।

সমাজ সংগঠক শ্যাম্পেন

তার নাম মাইকেল রেডহেড শ্যাম্পেন। বয়স ২৮। কানাডার উইনিপেগ এলাকার আদিবাসী জনগোষ্ঠী ক্রি ট্রাইবের এ যুবক দেশের ১৪ লাখ আদিবাসীর অধিকার দাবিতে সোচ্চার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি একজন সুপরিচিত বক্তা ও সমাজ সংগঠক হিসেবে বিপুল জনপ্রিযতা অর্জন করেছেন। শ্যাম্পেন গত ৪ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে উইনিপেগের নর্থ এ্যান্ডে আদিবাসীদের প্রতি সহিংসতা বিরোধী সমাবেশের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

কাজ জুটিয়ে দেন সোফিয়া

সুইডেনের সোফিয়া এপেনগ্রেন প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মিট লিভ’ নামে এক সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যার লক্ষ্য শিক্ষিত বহিরাগতদের সে দেশের চাকরি পাইয়ে দেয়া। এভাবেই ৩৩ বছর বয়স্কা এই নারী নতুন অভিবাসীদের সুইডিশ সমাজের সঙ্গে আত্মস্থ হতে সাহায্য করছেন। সুইডেনে ঢুকতে পারা যেমন সহজ, সেখানকার শ্রমবাজারে প্রবেশ করা ততোধিক কঠিন। এভাবেই অভিবাসীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসে অসাধারণ এক ভূমিকা রাখছেন এই নারী।

সাধনার অপর নাম কাজিয়া

ধৈর্য্য, অধ্যবসায় ও কঠিন সাধনা যে কাউকে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে, জাপানের ব্যালে তারকা ইউরিকো কাজিয়া তারই প্রমাণ। ব্যালে নর্তকী হতে হলে প্রয়োজন লম্বা পদ যুগল ও শরীরকে ধনুকের মতো বাঁকানোর ক্ষমতা। এর কোনটাই কাজিয়ার ছিল না। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা নিজের একাগ্র সাধনার দ্ধারা জয় করে কাজিয়া এখন বিশ্বের একটি মর্যাদাবান ব্যালে কোম্পানির সর্বশীর্ষ আসনে। তার ব্যালে নৃত্যে আজ দর্শকরা বিমোহিত। ব্যালে নৃত্যের এই ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা একান্তভাবেই কাজিয়ার কষ্টার্জিত।

সূত্র : টাইম