২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তরুণ পদার্থবিজ্ঞানী জাহিদ হাসান

আইনজীবী রহমত আলী ও গৃহিণী নাদিরা বেগমের দুই ছেলে এবং এক মেয়ের মধ্যে সবার বড় জাহিদ হাসান। ঢাকার ধানম-ি গভ. বয়েজ স্কুলের ছাত্র জাহিদ উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে পাড়ি জমান টেক্সাসে। সেখানকার টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় ভর্তি হয়ে একত্রে কাজ করেছেন নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী স্টিভেন ভাইনবার্গের সঙ্গে। তার আগ্রহেই জাহিদ পরীক্ষানির্ভর পদার্থবিজ্ঞানে কাজ করতে শুরু করেন। এরপর একটা সুযোগ আসে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের। বর্তমানে তিনি সেখানে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা করছেন।

গ্রহ-নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, গাছপালা, ফুল কিংবা মানুষ সবই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার পিণ্ড। দুনিয়ার এসব বস্তুকণাকে পদার্থ বিজ্ঞানীরা দুই ভাগে ভাগ করেন। যার মধ্যে একটি কণার নাম ফার্মিয়ন। যার একটি উপদল হলো ভাইল ফার্মিয়ন। ভাইল ফার্মিয়ন হলো একটি ভরহীন কণা, যার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যৌগিক কেলাস বা ক্রিস্টালের মধ্যে। আর অন্য জাতের কণা হলো ‘বোসন’, যেটির আবিষ্কারক বাঙালী পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। ‘বোসন’ কণা আবিষ্কারের ঠিক ৯১ বছর পর ভাইল ফার্মিয়নের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নেন আরেক বাঙালী জাহিদ হাসান তাপস।

তরুণ এই পদার্থবিজ্ঞানী বলেছেন, তারা একটি সিনথেটিক ধাতব স্ফটিক, যার নাম ট্যানটালাম আর্সেনাইড, সেটির ভেতর থেকে আবিষ্কার করেছেন ভাইল ফার্মিয়ন। তারা বেজিংয়ে কলাবোরেটিভ ইনোভেশন সেন্টার অব কোয়ান্টাম ম্যাটার এবং ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটিতে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই গবেষণা করেন। গবেষকরা বলছেন, ভাইল ফার্মিয়ন কণা ব্যবহার করে ভরহীন ইলেক্ট্রন তৈরি করা যেতে পারে, যার গতি হবে অত্যন্ত তীব্র। অন্যদিকে ইলেক্ট্রন চলাচলের পথে যদি কোথাও বাধা পায়, তাহলে তা হারিয়ে যায়। এক্ষেত্রে ভাইল ইলেক্ট্রন বাধা পেলেও সোজা চলে যায় সব বাধা উপেক্ষা করে।

কেমন হবে সেই নতুন যুগের ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী? তরুণ এই বাংলাদেশী আবিষ্কারক বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘এটি বর্তমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট পিসি, পিসির জন্য তৈরি ট্রানজিস্টারসহ সকল ইলেক্ট্রনিক্স কম্পোনেন্টের ব্যাপক পরিবর্তন করবে। এ কণা ইলেক্ট্রনের মতো চলতে চলতে ছড়িয়ে পড়ে না। কারণ এটি ভরহীন একটি বস্তু কণা, ফলে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে তাপ উৎপাদন হবে না। মুঠোফোন ব্যবহারের সময় সহজে গরম হবে না। একই সঙ্গে এ কণার ব্যবহার করা হলে ডিভাইসে শক্তি সাশ্রয় হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মোট তিন ধরনের ফার্মিয়নের মধ্যে ডিরাক ও মায়োরানা নামের বাকি দুই উপদলের ফার্মিয়ন বেশ আগেই আবিষ্কৃত হয়েছে। তাই ভাইল ফার্মিয়নের অস্তিত্ব প্রমাণের মাধ্যমে দ্রুতগতির এবং অধিকতর দক্ষ নতুন যুগের ইলেক্ট্রনিকসের সূচনা হবে। ‘উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা ভেবেছেন, নিউট্রিনোই সম্ভবত ভাইল ফার্মিয়ন। কিন্তু ১৯৯৮ সালে নিউট্রিনোর ভরের ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে আবার ভাইল ফার্মিয়নের খোঁজ শুরু হয়।

জাহিদ হাসানের ধারণা, নতুন যুগের ইলেক্ট্রনিকসের জন্য হয়তো আরও ১০ থেকে ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে গবেষক দলের অন্য সদ্যসরা হলেন ইলিয়া বেলোপোলস্কি, ড্যানিয়েল সানচেজ, গুয়াং বিয়ান ও হাও শ্যাং। ইতিমধ্যে নতুন যুগের ইলেক্ট্রনিকসের অন্যতম উপকরণ হিসেবে গ্রাফিন পরিচিতি পেয়েছে। অবশ্য গ্রাফিন তৈরির কাজটি বেশ কঠিন ও ব্যয়বহুল। তবে মজার বিষয় হল, গ্রাফিন আবিষ্কারের জন্য ২০১০ সালে বিজ্ঞানী আন্দ্রে জেইম ও কনস্টানটিন নভোসেলভ পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।

২০১৪ সালে টপোলজিক্যাল ইনসুলেটর নামের এক বিশেষ ধরনের অন্তরক পদার্থ আবিষ্কার করে বাঙালী এই পদার্থবিজ্ঞানী দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানী তথা গবেষকদের।