২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধান সংগ্রহে অনিয়ম

  • কুড়িগ্রামে ব্যবসায়ীদের দাপট ॥ কৃষক বঞ্চিত

রাজুমোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম ॥ জেলার রাজারহাট খাদ্য গুদামে বোরো ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারী নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ধান সংগ্রহ চলছে। সাধারণ কৃষকরা ধান নিয়ে গেলে মোটা অংকের টাকা দাবি করে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। শুরু করে নানা হয়রানি। রাজাহাট খাদ্য গুদামে সাধারণ কৃষকদের ধান ঢোকানোর দাবিতে একাধিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সাধারণ কৃষক ব্যবসায়ীরা কৌশলে কৃষি ভর্তুকির আইডি কার্ড সংগ্রহ করে রাজারহাট উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে টন প্রতি তিন হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে ধান খাদ্য গুদামে ঢোকাচ্ছে। এতে করে বর্তমান সরকারের দেয়া ভর্তুকির সুবিধা থেকে সাধারণ কৃষক যেমন বঞ্চিত, তেমনি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণœ হচ্ছে।

জানা গেছে, সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের জন্য মোট ২৩০ টন ধান সংগ্রহের বরাদ্দ আসে এবং প্রতিকেজি ধান ২২ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়। রাজারহাট সদর ইউপির ১১৮৮ জন কৃষকের বিপরীতে ৪৫ টন, চাকিরপশার ৬১৭ কৃষকের বিপরীতে ৩৭ টন, বিদ্যানন্দের ৫০২ কৃষকের বিপরীতে ২৫ টন, নাজিমখান ৩০৮ কৃষকের বিপরীতে ৩০ টন, উমর মজিদ ইউপির ২৬৯ কৃষকের বিপরীতে ৩৫ টন, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপির ৫৩৯ কৃষকের বিপরীতে ৩০ টন, ছিনাই ইউপির ৫৭০ কৃষকের বিপরীতে ২৮ টন করে বরাদ্দ দেয়া হয়। অসাধু খাদ্য ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে টনপ্রতি তিন হাজার টাকা উৎকোচের বিনিময়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে খাদ্য গুদামে ধান ঢোকাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সাতটি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষকদের ভর্তুকির কার্ড ম্যানেজ করে ১০/১৫টি কৃষি ভর্তুকির কার্ড একত্রে করে একটি করে বান্ডিল রেখে ওইসব বান্ডিলে ৮ থেকে ১২ ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করা আছে।

চাকির পাশা ইউনিয়নে বাবলু চন্দ্র রায়, শিশু রায় জানান, এক শ’ ৮০ মণ ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে গিয়েছিলাম। গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের ধান ফেরত দিয়েছে কয়েক দফা। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা তার মনোনীত ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ধান সংগ্রহ করেছে। আমরা সাধারণ কৃষক কিছুই করতে পারিনি।

চাকিরপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদ সোহরাওয়ার্দী বাপ্পী জানান, আমার ইউনিয়নের ২১ কৃষকের তালিকা নিয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এবং গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বার বার গিয়েছি। তাদের ধান ঢোকানোর জন্য অনুরোধ করেছি। দুর্নীতিবাজ ওই দুই কর্মকর্তার কারণে আমার ইউনিয়নের কৃষকদের ধান এখন পর্যন্ত নেয়নি।

উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ধান সংগ্রহের ব্যাপারে কোন কথা বলতে অস্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান।