২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভৈরবে এক বছরে ১২ খুন তদন্তে ব্যর্থ পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভৈরব, ৫ অক্টোবর ॥ ভৈরবে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তদন্তে ব্যর্থ হচ্ছে। আবার যে সব ঘটনা তদন্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে সে মামলার বাদী চার্জশীটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন। ফলে মামলা চলে যায় সিআইডির কাছে। গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভৈরবে ১২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ সকল ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ বাদীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আসামির নাম বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট দেয়। বাদী আদালতে নারাজি দিলে মামলা পুনরায় তদন্ত করতে সিআইডির ওপর ন্যস্ত হয়। ভৈরব থানার চাঞ্চল্যকর ৭ মামলা বর্তমানে কিশোরগঞ্জ সিআইডি তদন্ত করছে।

জানা গেছে, গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর ভৈরব পৌরসভার প্যানেল মেয়র আরিফুল ইসলামের কাজের মেয়ে শিমুূল খুন হয়। এ ঘটনায় শিমুলের মা হাজেরা বেগম থাানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে অপমৃত্যু ডায়েরি করে। ফলে হাজেরা বেগম আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় পুলিশ মামলার কোন আসামি না ধরে আসামিদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখে। বাদী মামলাটি সিআইডি তদন্ত করার আবেদন করলে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন।

গেল বছর অক্টোবর মাসে ভৈরবপুর উত্তরপাড়া প্যানেল মেয়র আরিফ এর ভাগিনা পারভেজ খুন হয়। এ মামলাটিও সিআইডি তদন্ত করছে। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা যায় সিআইডিতে।

ভৈরবের গাছতলা ঘাট এলাকার সিএনজির শ্রমিক জামালের লাশ পাওয়া যায় ব্রক্ষপুত্র সেতুর ওপরে। ঘাতকরা তাকে হত্যা করে লাশ সেতুর ওপর ফেলে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্টে হত্যার আলামত ধরা পরে। এ মামলাটি সিআইডি তদন্ত শুরু করে। বেশ কয়েকজন আসামি ধরা পড়ে।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে নিখোঁজের তিনদিন পর ভৈরবে জিল্লুুর রহমান শহর রক্ষাবাঁধের রাস্তার পাশ থেকে পরিবহন ব্যবসায়ী ও কবিরাজ নবী হোসেনের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে শহরের ভৈরবপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেন ফকিরের ছেলে। ঘাতকরা তার লাশ ৬ টুকরা করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখে। পুলিশ ওই টুকরাগুলো বিভিন্নস্থান থেকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ৬ পুলিশ ৭ জনকে আসামি করে মামলা করে। পরে মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনের নাম বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ। ফলে নিহত নবী হোসেনের স্ত্রী পুলিশের দেয়া চার্জশীটের বিরুদ্ধে নারাজি দেন। ফলে মামলা যায় সিআইডিতে।

গত ২৪ আগস্ট ভৈরবপুর এলাকার সবুজ নামে এক যুবককে ৬/৭ সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। এ ঘটনায় নিহত সবুজের পিতা বাদী হয়ে ভৈরব থানায় মামলা করলেও ঘাতকদের আটক করেনি পুলিশ। ফলে মামলাটি সিআইডিতে নেয়ার জন্য আবেদন করে নিহতের পিতা আসাদ মিয়া।

এছাড়া সিএনজি চালক দুলাল হত্যা ও মোমেন হত্যা মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার বাদীরা জানান, পুলিশ হত্যাকারীদের সঙ্গে গোপন রফা করে মামলার প্রধান আসামির নাম বাদ দেয়। এতে একদিকে আসামিরা অপরাধ করলেও সাজা পায় না। অন্যদিকে বাদী পক্ষ হয়রানির শিকার হয়।

এ ব্যাপারে ভৈরব থানার মামলার তদন্তকারী অফিসার বলেন, তদন্ত করে যাদের নাম ও সাক্ষী পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধেই আদালতে চার্জশীট পাঠানো হয়। এর বাইরে অন্য কিছু করার সুযোগ নেই ।