২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আনন্দ আয়োজনে উদ্্যাপিত হলো কচিকাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত মিলনায়তন। সবার চোখে-মুখে উদ্ভাসিত আনন্দ-উচ্ছ্বাস। অভিভাবকদের পাশকাটিয়ে চলছে পরস্পরের মধ্যে ভাববিনিময়। কেউ বা আবার প্রস্তুতি নিচ্ছে গান শোনাবার, নৃত্য পরিবেশনের অথবা কবিতা পাঠের। সোমবার শরতের বিকেলে এমন দৃশ্যের দেখা মিলল কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার সেগুন বাগিচার কার্যালয়ে। আর এমন স্নিগ্ধ দৃশ্যপটের উপলক্ষ ছিল মেলার ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সাফল্য ও গৌরবের বিশেষ দিবসটিকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয় আনন্দানুষ্ঠানের।

দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিকেলের পরিবর্তে বিলম্বিত সন্ধ্যায়। প্রথম পর্বে ছিল আলোচনাসভা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট ড. শ্রী বীরেন শিকদার। মেলার পরিচালক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন মেলার সহ-সভাপতি ড. রওশন আরা ফিরোজ। মেলার খুদে বন্ধুদের পক্ষে বক্তৃতা করেন দুই শিশু বক্তা আরমিন ও রাহামণি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরুর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। সম্মেলক সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে সূচনা হয় সাংস্কৃতিক পর্বের। মঞ্চে আসে সোনামণিরা। গানের সুরে বলে যায় নিজেদের সংকল্পের কথা। সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে অনেক কচিকণ্ঠ এক সুরে গেয়ে শোনায়- সূর্যের উজ্জ্বল আলোকের মতো করে জ্বলবো...। দ্বিতীয় গানের চরণে উচ্চারিত হয় কচি-কাঁচার মেলার জন্মদিনের আনন্দময় বার্তাধ্বনি। পরিবেশিত হয় সমবেত সঙ্গীত- বছর ঘুরে আবার এসেছে/স্মৃতিভরা প্রীতিঘেরা আনন্দের দিন/কচি-কাঁচার শুভ জন্মদিন...। সমবেত কণ্ঠে গাওয়া তৃতীয় গানটির শিরোনাম ছিল- একটি কলি একটি শিশু/সুন্দর আগামীর স্বপ্ন ...। একক কণ্ঠে মেলার সদস্য জুনায়েদ গেয়ে শোনায়- লাল পাহাড়ের দেশে যা, রাঙামাটির দেশে যা...। মেলার আরেক খুদে সদস্য ইশরাতের গাওয়া গানের শিরোনাম ছিল- লাল পাতার নূপুর বাজে...। শুক্লা সরকারের পরিচালনায় শিশুরা পরিবেশন করে পাঁচটি কোরাস নৃত্য। নূপুরের নিক্কনধ্বনির সঙ্গে দোলায়িত ছন্দে ছড়া ও কবিতাপাঠ করে সোনামণিরা। এভাবেই নাচ-গান ও কবিতায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনটি হয়ে ওঠে হৃদয়গ্রাহী ও সুন্দর।

হাসান মাহমুদের গান-কবিতার যুগলবন্দী ॥ সময়ের বহমানতায় সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বপ্নকুঁড়ি পাড়ি দিয়েছে প্রতিষ্ঠার ২৯টি বছর। এ উপলক্ষে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে সোমবার অনুষ্ঠিত হলো কবি ও কণ্ঠশিল্পী হাসান মাহমুদের একক গান ও কবিতাপাঠের আসর। গান-কবিতার যুগলবন্দী এ অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিলÑ চাই বন্ধুজীবন। শরতের সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে বয়ে যায় সুর ও ছন্দের যুগলবন্দী স্রোতধারা।

পরিবেশনা পর্ব শুরুর আগে শিল্পী হাসান মাহমুদকে শুভেচ্ছা জানান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, চিত্রপরিচালক শাহ আলম কিরণ, ছড়াকার আমিরুল ইসলাম বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে শিল্পী পরিবেশন করেন স্বরচিত দশটি কবিতা ও ১৫টি গান। কয়েকটি গানের শিরোনাম ছিলÑ ঘুরে এলাম কত দেখে এলাম, আমি ডাকব কেমন করে ও জল থইথই করে আমার মন। দিগ্ভ্রান্ত সহিস, চোখের মতো চিহ্নগুলো ও যে দিকে উপকূল শীর্ষক কাব্যগ্রন্থ থেকে পাঠ করেন কবিতা।

বিশ্ব শিশু দিবসের আনন্দ শোভাযাত্রা ॥ শিশু গড়বে সোনার দেশ/পায় যদি সে পরিবেশ সেøাগানে উদ্্যাপিত হলো বিশ্ব শিশু দিবস। এ উপলক্ষে সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত শিশুদের আনন্দ শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়। বর্ণাঢ্য এ শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম এনডিসি ও শিশু একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন। প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশুর সরব উপস্থিতিতে শিশু শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ শিশু একাডেমির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও এনজিও এবং শিশু সংগঠনের সদস্যরা।

শিক্ষকদের সম্মানে মঞ্চস্থ সক্রেটিসের জবানবন্দী ॥ সোমবার ছিল ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এ উপলক্ষে শিক্ষকদের সম্মান জানায় নাট্যদল দৃশ্যপট। সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় দলটি আয়োজন করে ছাত্র-শিক্ষক সম্মিলনী ও সক্রেটিসের জবানবন্দী নাটকের প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও প্রবীণ শিক্ষিকা শ্রীমতী দেবিকা গুহকে সম্মাননা জানানো হয়। সম্মাননা প্রদান শেষে মঞ্চস্থ হয় সক্রেটিসের জবানবন্দী।

সক্রেটিসের জবানবন্দী প্রযোজনাটির উপকরণ সংগৃহীত হয়েছে প্লেটোর ‘আপোলোগিয়া সোক্রাতুস’ রচনাটি থেকে। আর নাটকটি রচনা করেছেন শিশির কুমার দাশ, পরিচালনা করছেন আলী মাহমুদ। এটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনন্ত, জাফর, পারভেজ আখতার, আহসান হাবীব, সজিব, রাকিব চৌধুরী, তিয়াস, আলী মাহমুদ, রাহাদ প্রমুখ।

সেতার-সরোদ কর্মশালার সময় বৃদ্ধি ॥ দেশের তরুণ প্রজন্মের মনন বিকাশে সঙ্গীত-ঐতিহ্যের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা নিরীক্ষার উদ্দেশে শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে ‘সঙ্গীত-অবয়ব’ শীর্ষক সেতার-সরোদ বিষয়ক কর্মশালা। উৎসাহী শিক্ষার্থীদের আশাতীত অংশগ্রহণ ও হাতে-কলমে শেখার আগ্রহে সাড়া দিয়ে কর্মশালার সময়সীমা দুই দিন বাড়িয়েছে আয়োজক কতৃপক্ষ। তিন দিনের সময়সীমা নিয়ে শুরু হওয়া এই কর্মশালাটি এখন পাঁচ দিনের কর্মশালায় পরিণত হয়েছে। চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত কর্মশালার তৃতীয় দিন ছিল সোমবার। প-িত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার ও প-িত কুশল দাসের পরিচালিত কর্মশালায় এদিন বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তন ও জাতীয় সঙ্গীত, নৃত্যকলা ও আবৃত্তি বিভাগের ২০৩ নং মহড়া কক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনের মহড়া কক্ষে প-িত কুশল দাস কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সেতার বাজানোর নানা বিষয়ে তালিম দেন। একই সময়ে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প-িত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার শিক্ষার্থীদের সাথে সরোদের বাদনশৈলী, বাদনরীতি, আবহ সঙ্গীতে সরোদের ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করেন।

পাঁচ দিনের এ কর্মশালায় ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার প্রায় ৪০জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। কর্মশালায় শিক্ষানবিস ও পেশাদার উভয় ধরনের শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।

বিশ্ব শিশু দিবসে খেলাঘরের সেমিনার ॥ ‘শিশু গড়বে সোনার দেশ, পায় যদি সে পরিবেশ’ প্রতিপাদ্যে নানা আয়োজনে পালিত হলো ‘বিশ্ব শিশু দিবস-২০১৫’। এরই অংশ হিসেবে ‘শিশু নির্যাতন বন্ধ কর, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা কর’ সেøাগানে দিবসটি উদযাপন করে শিশু-কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর। এ উপলক্ষে সংগঠনটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় সেমিনার। সোমবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপিকা পান্না কায়সারের সভাপতিত্বে ‘শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশু উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ’ ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুলের ডিন অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন, পঙ্কজ ভট্টচার্য, সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি নূরুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সভাপতি খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতি ম-লীর সদস্য অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী, প্রণয় সাহা, কামাল চৌধুরী, আবদুল মতিন ভূঁইয়া, অমল নাগ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতা ঝুনা চৌধুরী, আবৃত্তি শিল্পী রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

নির্বাচিত সংবাদ