২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্রিকেটার শাহাদাত আত্মসমর্পণের পর কারাগারে

কোর্ট রিপোর্টার ॥ শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন এখন কারাগারে। গতকাল সোমবার সকালে তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। তবে বিচারক ইউসুফ হোসেন জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই মামলায় শাহাদাতের স্ত্রী জেসমিন জাহান রবিবার থেকে কারাগারে আছেন।

গতকাল ঢাকার মহানগর হাকিম ইউসুফ হোসেনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন শাহাদাত। শুনানিতে শাহাদাতের আইনজীবী কাজি নজিবুল্লাহ আদালতকে বলেন, শাহাদাত জাতীয় দলের একজন ব্যস্ততম ক্রিকেটার। ঘটনার (শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন) সঙ্গে তাঁর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি খেলা নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। ঘর সামলান তার স্ত্রী, যাকে গত রবিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের বিচার আমিও চাই। কিন্তু জাতীয় দলের খেলোয়াড় হওয়ায় সার্বিক দিক বিবেচনা করে শাহাদাতের জামিন চাইছি। বিচার কাজ মামলার গতিতেই চলবে।’

বাদীপক্ষে শুনানি করেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সংস্থার ফাহমিদা আকতার। তিনি আদালতকে বলেন, ‘এই মামলার প্রধান আসামি শাহাদাত। মামলার এজাহার ও নির্যাতনের শিকার শিশুটির জবানবন্দীতে স্পষ্ট হয়েছে, তাকে নির্যাতনের সঙ্গে শাহাদাত জড়িত ছিলেন। তাই আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানাচ্ছি।’

শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রবিবার ভোরে ঢাকার মালিবাগের একটি বাসা থেকে শাহাদাতের স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক তা নাকচ করে তাকে কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

গত ৬ সেপ্টেম্বর কালশী থেকে মারাত্মক আহত অবস্থায় মাহফুজা আক্তার হ্যাপী (১১) নামের গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। ওইদিনই বিকেলে শাহাদাত মিরপুর থানায় তার বাসার গৃহকর্মী হারিয়েছে বলে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। এ হিসেবে রাতে সাংবাদিক খন্দকার মোজ্জাম্মেল হক বাদী হয়ে ক্রিকেটার শাহাদাত ও তার স্ত্রী নিত্যকে আসামি করে মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মারাত্মক আহত হ্যাপী বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন। পাঁচ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসা চলছে।