২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অসন্তোষ অস্থিরতার মধ্যেই বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিক্ষকদের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, শিক্ষানীতি বাস্তবায়নসহ নানা দাবির মধ্য দিয়ে সোমবার পালিত হলো বিশ্ব শিক্ষক দিবস। জাতীয় পে-স্কেল কেন্দ্র করে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষক অসন্তোষের কারণে কিছুটা অস্থিরতার মধ্য দিয়েই এবার পালিত হলো দিবসটি। শিক্ষক সংগঠনগুলোর কর্মসূচীতেও তাই ছিল এর প্রভাব। শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা করার দাবি উঠেছে প্রতিটি কর্মসূচীতেই। ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। দিবসটি শিক্ষকদের অবদান স্মরণ করার জন্য পালন করা হয়। ইউনেস্কোর মতে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পালন করা হয়। বিশ্বের ১০০-এর বেশি দেশে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। এই দিবসটি পালনে এ্যাডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল (ইআই) ও তার সহযোগী ৪০১ সদস্য সংগঠন মূল ভূমিকা রাখে। দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য- জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শিক্ষকদের মর্যাদা ও মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে শিক্ষকের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করা, মানসম্মত শিক্ষা তথা সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে শিক্ষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করা এবং প্রবীণ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাকে জানা ও কাজে লাগানো। এবার এমন একটি সময় দেশে শিক্ষক দিবস পালিত হলো যখন শিক্ষক আন্দোলনে শিক্ষাঙ্গনজুড়ে স্থবিরতা বিরাজ করছে। নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে বেসরকারী স্কুল কলেজের শিক্ষকদের অসন্তোষ মিটেছে, তবে সঙ্কট বেড়েই চলেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। পে-স্কেলে মর্যাদাহানির অভিযোগ এনে আলাদা বেতন স্কেলের দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলনে স্থবির হয়ে আছে দেশের ৩৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

পে-স্কেলে অসন্তোষের কারণে আন্দোলন করছেন দেশের সকল সরকারী কলেজের শিক্ষাকরাও। বিসিএস ক্যাডারের শিক্ষকরা ইতোমধ্যেই কয়েক দফা কর্মবিরতি পালন করেছেন সরকারী কলেজ ও সংশ্লিষ্ট দফতরে। শীঘ্রই আরও বৃহত্তর কর্মসূচীর কথাও ভাবছেন শিক্ষক নেতারা। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নে বড় ধরনের কর্মসূচীর চিন্তা ভাবনা চলছে। দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদানের ঘোষণা হলেও তা বাস্থবায়ন না হওয়ায় আন্দোলনে নেমেছেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। শিক্ষকরা দাবি পূরণ না হলে আসন্য প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বর্জনেরও হুমকি দিয়েছেন। নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও।

দিবসের কমসূচী হিসাবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস জাতীয় উদ্যাপন কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ছাড়াও ইউনেস্কো, গণসাক্ষরতা অভিযান, এ্যাকশনএইড, আহসানিয়া মিশন, আমার অধিকারসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন সদস্যরা এতে অংশ নেন। বিশ্ব শিক্ষক দিবস জাতীয় উদ্যাপন কমিটির সমন্বয়ক অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব প্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে ও শিক্ষকদের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বুয়েটের প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ড. খালেদা ইকরাম, আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আতিক রহমান, আইএলও পরামর্শক আবদুর রফিক প্রমুখের হাতে সম্মাননা সূচক ক্রেস্ট ও শিক্ষানীতি-২০১০ এর কপি এবং স্থাপত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক কয়েকটি বই তাদের হাতে তুলে দেন।