১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিপিএলে বিদেশী ক্রিকেটারের অভাব হবে না

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্রমেই এগিয়ে আসছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) টি২০ ক্রিকেটের তৃতীয় আসরের সময়। এর আগেই বিপিএলের কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। এবার ৬ দল নিয়ে হবে তৃতীয় আসর। নতুন চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যোগ হয়েছে পূর্বের সিলেট ও রংপুরের সঙ্গে। সোমবার বিপিএল গবর্নিং কাউন্সিল তৃতীয় এ আসরের নানাদিক নিয়ে আলোচনায় কিছু খসড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গবর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরবর্তী সভায় এ সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। আলোচনা হয়েছে ক্রিকেটারদের লটারির তারিখ, টিকিটের রেট, বিদেশী খেলোয়াড়দের মূল্য এবং গ্রেড, দেশী ক্রিকেটারদের মূল্য ও গ্রেড। এ আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন, বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান ও এএইচ মল্লিক। সবাই দাবি করেছেন নিরাপত্তার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে সে কারণে বিপিএলে বিদেশী ক্রিকেটার পাওয়া নিয়ে কোন সঙ্কট তৈরি হবে না।আগামী বুধবার বিসিবির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেই বিপিএলের একটি খসড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে গবর্নিং কাউন্সিল। বিসিবি সভায় সেসব অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। সোমবারের আলোচনা প্রসঙ্গে বিপিএল গবর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান বলেন, ‘আজকে আমরা কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। ৭ তারিখের বোর্ড সভায় এগুলো অনুমোদন করা হবে। এছাড়া একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করতে হবে। কারণ বিপিএলে টেকনিক্যাল অনেক কিছু থাকে। এই কমিটি ৭ তারিখেই হবে। ৩১ অক্টোবর খেলোয়াড়দের লটারি আয়োজন করার (প্লেয়ার বাই চয়েস) একটা সম্ভাবনা আছে।’ এবার বিপিএলে খেলোয়াড় নেয়ার বিষয়ে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকবে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের মূল্যে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আফজালুর বলেন, ‘বিদেশী খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ দাম ৭০ হাজার ডলার, সর্বনিম্ন ৩০ হাজার ডলার। স্থানীয় খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ, সর্বনিম্ন পাঁচ লাখ।’ স্থানীয় খেলোয়াড়দের নেয়ার ক্ষেত্রেও ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কিছু বাধ্যবাধকতা থাকছে। এ বিষয়ে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে যারা আইকন, তাদের মূল্য হবে ৩৫ লাখ টাকা করে।’

প্রথম বিপিএলে ২০১২ সালে ভারত ব্যতীত সব দেশ থেকেই খেলোয়াড় এসেছিল। এবার কোন কোন দেশ থেকে খেলোয়াড় আসবে? সম্প্রতি নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ সফরে আসেনি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার মহিলা ক্রিকেট দলও আসন্ন সফর স্থগিত করেছে। সে বিষয়ে খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘কোন শঙ্কার কারণে না, শ্রীলঙ্কা দল নিউজিল্যান্ডে যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া ব্যস্ত থাকবে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা আছে, আর ভারত তো খেলোয়াড় দেয়-ই না। এই চারটা দেশ বাদে বেশিরভাগ দেশের খেলোয়াড়ই আমরা পাব। কোন শঙ্কার কারণে নয়, ওদের ব্যস্ততার কারণেই ওদের পাব না। যদি কেউ অবসরে থাকে, তাহলে হয়ত আমরা কাউকে পেতে পারি।’

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে খেলোয়াড় পাওয়া নিয়ে কোন সঙ্কট তৈরি হবে না- এমনটা জানালেন জালাল ইউনুসও। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিপিএলে বিদেশী খেলোয়াড় না পাওয়া নিয়ে কোন শঙ্কা নেই। আমরা যাদের সাথে যোগাযোগ করছি, তাদের কাছ থেকে যেভাবে সাড়া পাচ্ছি, তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’ অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ স্থগিত হওয়ার পর বিসিবি এখন জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ আয়োজনের চেষ্টা করছে। সেক্ষেত্রে বিপিএলের উদ্বোধনী আসর এবং প্রথম খেলার তারিখ ২-১ দিন এদিক-ওদিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন জালাল। এছাড়া অনুর্ধ-১৯ দলের সিরিজ থাকবে, তাই সেখান থেকেও সব খেলোয়াড় পাবে না বিপিএল এমনটাই জানিয়েছেন খালেদ মাহমুদ।