১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমতলীতে দু’শিশুকন্যা ধর্ষিত ॥ গ্রেফতার-৪

নিজস্ব সংবাদদাতা,আমতলী (বরগুনা)॥ সোমবার বিকেলে বরগুনার আমতলী উপজেলায় পৃথক পৃথক দু’ শিশু কন্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক শিশু কন্যার পিতা গুরুতর আহত হয়। পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, সোমবার বিকেলে উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামের দিন মজুরের শিশু কন্যা (১০) মাদ্রাসায় পড়–য়া দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রীকে একই গ্রামের বখাটে হাসান (২৫),সবুজ (২৬), সাদ্দাম (২০) ফুসলিয়ে সবুজের ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় ওই ঘরে কোন লোকজন ছিল না। পরে বারেক হাওলাদারের ছেলে বখাটে হাসান মেয়েকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায় মেয়ের ডাক চিৎকারে লোকজন ছুটে আসলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পরে মেয়ের বাবা ওহাব মিয়া (৩৫) বখাটে হাসানের কাছে এ বিষয়টি জিজ্ঞেস করলে ধর্ষক তাকে পিটিয়ে ও ধাড়ালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কান ও গলাধারসহ বিভিন্ন স্থানে জখম করে। আহত ওহাব মিয়াকে প্রথমে পটুয়াখালী হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার অবস্থা সংকটজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে আমতলী থানা হাসানসহ ৫ জনকে আসামী করে মামলা করেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক হাসান, সবুজ ও হাসানের মা ফাতেমা এবং চাচী নাসিমাকে গ্রেফতার করেছে।

অপর দিকে একই দিন ৩১ নং দক্ষিণ টেপুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেনীর ছাত্রীকে প্রতিবেশী লোকমান হাওলাদারের ছেলে হাসান তার ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। এ সময় মেয়েটির ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটিকে প্রথমে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক রক্তাক্ত অবস্থায় পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে আমতলী থানায় ৪ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

প্রথম শ্রেনীর ছাত্রীর বাবা আরিফ চৌকিদার জানান আমার মেয়েকে হাসান ওদের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ হয়েছে। ওর ঘর থেকে রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করেছি। আমি এর বিচার চাই।

দ্বিতীয় শ্রেনীর মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্রীর মা জাহানারা বেগম বলেন ওরা আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনা জিজ্ঞাসা করতে গেলে বখাটে হাসান ও সবুজ মিলে আমার স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কান ও গলাধারে জখম করেছে।

প্রথম শ্রেনীর ছাত্রীর তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই বশির জানান মেয়ের ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য আমতলী হাসপাতালে আনা হচ্ছে।

দ্বিতীয় শ্রেনীর মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্রীর মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই রফিকুল ইসলাম পাইক জানান মেয়েকে মঙ্গলবার সকালে ডাক্তারী পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য আমতলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আমতলী হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ইসমত আরা কলি জানান প্রথম শ্রেনীর মেয়েটির গোপন স্থানে ক্ষতে’র চিহৃ রয়েছে। ওই মেয়েটির রক্ত ক্ষরণ বন্ধ করতে না পেরে তাৎক্ষনিক পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। অপর দিকে দ্বিতীয় শ্রেনীর মেয়ের ডাক্তারী পরীক্ষা করা হয়। প্যাথেলজি প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত বলা যাবে না।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা পুলক চন্দ্র রায় জানান রায়বালা গ্রামের ঘটনায় মেয়ের মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনের নামে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান টেপুড়া গ্রামের ঘটনায় শিশু কন্যার বাবা অরিফ চৌকিদার বাদী হয়ে ধর্ষক হাসানসহ ৪ জনকে আসামী দিয়ে মামলা করেছে। এখনো কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।