২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাই জঙ্গীমুক্ত স্বদেশ

সমালোচনা-আলোচনা বা তর্ক-বিতর্ক যাই থাক, গোটা বিশ্ব যে আজ জঙ্গীবাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এ কথা অস্বীকার করা যায় না। আর জঙ্গীবাদের সূতিকাগার দক্ষিণ এশিয়ার দুটি দেশে একক পরাশক্তি আর তাদের সহযোগীদের সহায়তায় জঙ্গীরা গড়ে ওঠেছিল, সেই জঙ্গীরা সারাবিশ্বে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল তাই নয়, বিশ্ব মানবের জীবনও বিপন্ন প্রায়। জঙ্গীবাদ সৃষ্ট যুদ্ধ আর সন্ত্রাসী তৎপরতায় লাখ লাখ মানুষ যেমন প্রাণ হারানোর তালিকায় উঠে আসছে, তার দ্বিগুণ শরণার্থী হয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে হন্যে হয়ে ঘুরছে। যাদের দৃঢ়তায়, অন্ধতায়, অজ্ঞতায় এ ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, তাদের এই বিপজ্জনক পথে নামিয়েছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর সহযোগিতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন কম যায়নি। সেই সঙ্গে ন্যাটো বাহিনী। আফগানিস্তান আর পাকিস্তান এই দুটি দেশ জঙ্গীবাদের দেশে পরিণত হলেও বাংলাদেশকে সে অবস্থায় উপনীত করা যায়নি। বরং ওই দুই দেশ থেকে এদেশে জঙ্গীবাদের আমদানি করা হয়েছিল অতীতে। সরকারী ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গীরা ২০০১ সালের পর তাদের জঙ্গী মহড়া দিয়ে গেছে সরকারী দল বিএনপি-জামায়াতের তত্ত্বাবধানে ও সহায়তায়। বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গী ও সন্ত্রাসবিরোধী। আর ধর্মব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের ঘৃণা করে আসছে সেই পাকিস্তান যুগ থেকে। স্বয়ং শেখ হাসিনাও কয়েক দফায় জঙ্গীবাদের শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বিপদের কথা, শেখ হাসিনা এখনও জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের প্রধান টার্গেট। বিএনপি-জামায়াত জোটের পক্ষে তারা এ কাজে সক্রিয়। এমনকি গত তিন বছর ধরে দেশে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটাতে বিএনপি-জামায়াত নানা অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা কঠোর হস্তে তা দমন করেছেন। শেখ হাসিনার জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমন কর্মকা-ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রই প্রশংসা করে আসছিল। জাতিসংঘে প্রথম সারির এক বিশ্ব নেতার ভাবমূর্তি নিয়ে উপস্থিত শেখ হাসিনা তার ভাষণে বর্তমান সভ্যতার দুটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে চিহ্নিত করে এ সঙ্কট মোকাবেলায় বিশ্বের সব রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা এমন এক সময়ে ভাষণ দিলেন, যখন আইএসসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদী সংগঠন বিশ্বের এখানে সেখানে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা যদি অন্যান্য বিশ্বনেতার মধ্যে সঞ্চারিত হয়, তাহলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা কঠিন কিছু হবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, দেশে জঙ্গীদের পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সাজা ভ-ুল করাই তাদের উদ্দেশ্য। দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা সাংবাদিকসহ দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অবশ্যই একটা গ্রুপ আছে- তারা একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। যে চেষ্টা তারা করতেই থাকবে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে, আর তারা চুপ করে বসে থাকবে, এটা আশা করা যায় না। একাত্তর-পঁচাত্তরে ওরা প্রতিশোধ নিয়েছে। আর এখন মানুষ পুড়িয়ে মারছে। দুই বিদেশী হত্যাকা- এবং এই সময়ে বিশ্বের কয়েকটি দেশের আকস্মিক ঘোষণাগুলো বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণেœর চেষ্টা হলেও এতে সরকারের অর্জন বিনষ্ট হবে না। বরং তা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাই বলা যায়। জঙ্গীদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার কথা শেখ হাসিনা বারবার বলেছেন। কিন্তু এটা তো বাস্তব সত্য, জনগণকে সেভাবে সচেতন করে তোলার কাজটি হচ্ছে না। যেমন হচ্ছে না জঙ্গীদের দ্রুত বিচার করে শাস্তির আওতায় আনার কাজটিও। প্রশাসনকে শক্তিশালী এবং সরকারে অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা না গেলে কোন সতর্কতাই কাজ দেবে না।