১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সঙ্কট কাটাতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের তাগিদ

  • পরিকল্পনা মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন পানি সম্পদমন্ত্রী

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ অর্থ সঙ্কটে পড়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। এ অবস্থায় জরুরীভিত্তিতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের তাগিদ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন পানি সম্পদমন্ত্রী। তিনি ব্যক্তিগতভাবেও দেখা করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের সঙ্গে। তবে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান বলেন, কোন মন্ত্রণালয় অর্থ চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেয়া সম্ভব নয়। এডিপি অনুমোদনের পর কয়েক মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বিশেষ কোন মন্ত্রণালয়কে অর্থ দেয়া সম্ভব নয়। তবে অতি প্রয়োজন হলে আলোচনা সাপেক্ষে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমে প্রচ- ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পেতে জরুরীভিত্তিতে বগুড়া জেলার যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ কাজসহ বিকল্প বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সর্বশেষ সভায় যমুনা অনুমোদন দেয়া হয় এ প্রকল্পটি। এটি বাস্তবায়নে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে নাম মাত্র কয়েক লাখ টাকা বরাদ্দ থাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। একই অবস্থা সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া আরও ছয়টি প্রকল্পের।

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) চূড়ান্ত হওয়ার পর ৯১০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন ছয়টি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে ১০৪ কোটি টাকা দরকার। পরিকল্পনা কমিশন আরও ১৭টি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। তবে এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে থোক বরাদ্দ আছে ১৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যা দিয়ে প্রকল্পগুলোর প্রাথমিক কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

শীঘ্রই একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ১৭ প্রকল্পের প্রত্যেকটির বরাদ্দ কয়েক লাখ টাকা। ফলে এগুলো অনুমোদন পেলেও অর্থ অভাবে পুরোদমে কাজ করতে পারবে না পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। পুরাতন প্রকল্পেও প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় অর্থ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় জরুরীভিত্তিতে কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা চেয়ে সম্প্রতি পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে চিঠিও দিয়েছেন। এতে অনুমোদিত প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শুরু করার জন্য চলতি অর্থবছরে দ্রুত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) থোক বরাদ্দ আরো ৩০০ কোটি বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়েছে।

যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের শুরুতে নাম মাত্র বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা দিয়ে যমুনা নদীর ভাঙ্গন রোধের মতো কাজ করা দুরূহ। তবে অর্থ পেলে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ভয়াবহ ভাঙ্গনের হাত থেকে সরকারী-বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা সম্ভব হবে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান (উন্নয়ন উইং) মন্টু কুমার বিশ^াস বলেন, চলতি অর্থবছরে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক শ’ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু বরাদ্দ আছে মাত্র ২০ কোটি টাকা। এ অর্থ দিয়ে কার্যক্রম চালানো কঠিন। এজন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাছে অর্থ চাওয়া হয়েছে। এটি পেলে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধ, কৃষি জমি রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা, কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান, জলাবদ্ধতা রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। এসব দিক বিবেচনায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে।

গত অর্থবছরের শেষ সময়ে অনুমোদন পেয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এগুলোতেও যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে- ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী এবং উলিপুর উপজেলাকে দুধকুমার ও তিস্তা নদীর হাত থেকে রক্ষা এবং ৪২১ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলায় যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্প। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্থায়ী পুনর্বাসন প্রকল্প, এর ব্যয় ২১০ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পে পরিকল্পনা কমিশন চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়নি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অর্থ ব্যয় নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রশ্ন তুলেছে। একনেকেও পাউবো অর্থ ব্যয় নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। এজন্য পরিকল্পনা কমিশন অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।