২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বর্ণালী সময়ে সি আর সেভেন

  • টি ইসলাম তারিক

স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ সুপারস্টারের কীর্তিগাথার কমতি নেই। বছরের পর বছর একের পর এক গৌরবময় রেকর্ড গড়ে চলেছেন বর্তমান ফিফা সেরা ফুটবলার। সম্প্রতি আরও কয়েকটি দুর্দান্ত রেকর্ড গড়েছেন সুদর্শন এই সুপারস্টার।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফুটবলে সুইডিশ ক্লাব মালমোর বিরুদ্ধে দুই গোল করে অনন্য ইতিহাস গড়েন রোনাল্ডো। ম্যাচে প্রথম গোল করে পর্র্তুগাল জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে ৫০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এরপর দ্বিতীয় গোল করে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন। এক্ষেত্রে অবশ্য সাবেক তারকা রাউল গঞ্জালেসের সঙ্গে আপাতত রেকর্ডটি ভাগাভাগি করতে হচ্ছে সি আর সেভেনকে। গত ১২ সেপ্টেম্বর স্প্যানিশ লা লীগায় রোনাল্ডোর পাঁচ গোলে এস্পানিওলকে ৬-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল রিয়াল। চারদিন পর আবার তাঁর চমক। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে রোনাল্ডোর হ্যাটট্রিকে শাখতার ডোনেস্ক ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়। এই দুই ম্যাচে আট গোল তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল ৪৯৯ গোলে। কিন্তু এরপর টানা তিন ম্যাচে গোল পাননি! অবশেষে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ম্যাচে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয় সাবেক ম্যানচেস্টার তারকার সামনে। তবে শুধু ৫০০ গোল নয়, আরও কিছু অর্জনও এখন রোনাল্ডোর হাতের মুঠোয়। এবারের জোড়া গোল রাউল গঞ্জালেসের পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে তাঁকে। রিয়ালের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ৩২৩ গোলের রেকর্ড ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন এ দু’জন। যদিও ইউরোপের সফলতম ক্লাবে রাউলের (৭৪১) চেয়ে রোনাল্ডোর (৩০৮) ম্যাচের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। অবশ্য আরেকটি হিসেবে রাউলকে টপকে গেছেন সি আর সেভেন। রোনাল্ডোর উইকিপিডিয়ায় দেখানো হচ্ছে তার গোলসংখ্যা রিয়ালের হয়ে ৩২৪টি। এটি হলে রাউলকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। তবে রোনাল্ডোর একটি গোল ফিফা স্বীকৃতি দেয়নি। লা লীগার একটি ম্যাচে রোনাল্ডোর করা গোল ভুলবশত পেপের নামে লেখা হয়।

রিয়ালের জার্সিতে গোলসংখ্যা সমান হলেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের হিসেবে রাউলকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন রোনাল্ডো। ইউরোপের সেরা ক্লাব টুর্নামেন্টে রিয়ালের হয়ে রাউলের গোল ৬৬টি। মালমোর বিরুদ্ধে দুই গোল করে রোনাল্ডোর গোলসংখ্যা ৬৭। ৮২ গোল নিয়ে পর্তুগালের অধিনায়ক এখন চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সফলতম খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা। পাঁচ গোল কম নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন রোনাল্ডোর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি। গোলসংখ্যায় পাশে থাকলেও ম্যাচের সংখ্যার দিক দিয়ে রাউলকে বিপুল ব্যবধানেই পেছনে ফেলেছেন পর্তুগিজ তারকা। ১৯৯৪ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ৭৪১টি ম্যাচ খেলে রাউল যেখানে ৩২৩ গোলের কীর্তি গড়েছেন। রোনাল্ডোর সেখানে এই কীর্তি ছুঁতে লেগেছে মাত্র ৩০৮ ম্যাচ। রিয়ালে যোগ দেওয়ার আগে রোনাল্ডো খেলেছেন, স্পোর্টিং লিসবন ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ২০০৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ম্যানইউর হয়ে ২৯২টি ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১১৮। তাঁর প্রথম ক্লাব লিসবনের হয়ে তিনি করেছেন ৩১ ম্যাচে ৫ গোল। পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১২২ ম্যাচে করেছেন ৫৫ গোল। রোনাল্ডোর বর্তমান গোলসংখ্যা ৫০১টি। এরমধ্যে ক্লাবের হয়ে করেছেন ৪৪৬ গোল এবং জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ৫৫ গোল।

দুর্দান্ত অর্জনে উচ্ছ্বসিত রোনাল্ডো। তিনি বলেন, আমি খুব খুশি। এই অর্জন স্পর্শ করতে সাহায্য করায় আমার সব সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাবে খেলার সময় এমন একটা রেকর্ড গড়তে পারা দারুণ সম্মানজনক ব্যাপার। ক্লাবের পক্ষে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়ার পর দলের অন্যতম নির্ভরতা সিআর সেভেনকে এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানিত করেছে স্পেনের স্বনামধন্য এ ক্লাব রিয়াল। ২ অক্টোবর সান্টিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে নিজের পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে উপস্থিত রোনাল্ডোকে দেয়া হয় একটি সুদৃশ্য ট্রফি। চলতি আসরেও রিয়াল যতগুলো গোল করেছে তার অর্ধেকই এসেছে রোনাল্ডোর পা থেকে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লীগের রেকর্ড ৮২ গোল করে তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে। তিনবার ফিফা বর্ষসেরা হওয়া এ পর্তুগীজ তারকার সঙ্গে অবশ্য মিডিয়াকর্মীদের সম্পর্কে আছে টানাপড়েন। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এ কারণে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন তাঁদের কাছে।

তিনি এ সময় স্বীকার করেছেন বিভিন্ন সময়ে যে দুর্ব্যবহার করেছেন সেটা শুধু অসদাচরণই ছিল না, পাশাপাশি নির্লজ্জতা ছিল। যে ক্লাবকে এত গোল উপহার দিয়েছেন তারাও ভোলেনি রোনাল্ডোকে সম্মানিত করতে। নতুন অর্জনের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিআর সেভেনের নিকটাত্মীয়, পরিজন ও বন্ধুদের আমন্ত্রণ করে পুরস্কৃত করেছে রিয়াল। আর এখানেই মিডিয়াকর্মীদের কাছে অতীত বাজে ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চান রোনাল্ডো। তিনি বলেন, আমি অনেক আনন্দিত, সতীর্থদের অনেক ধন্যবাদ। তাঁরা ব্যতীত আমার পক্ষে এই স্মরণীয় অর্জন সম্ভব হতো না। তাছাড়া আমার সকল কোচকে ধন্যবাদ। তারা সবসময়ই আমাকে সহায়তা করেছেন। আমি মিডিয়াকেও অনেক ধন্যবাদ জানাই। কারণ আমি জানি অতীতে কিছুটা নির্লজ্জ আচরণ করেছি তাদের সঙ্গে। কিন্তু তবু তারা আমার সঙ্গে থেকেছেন। আমি বাজে আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

নির্বাচিত সংবাদ