২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিজ গ্রেনেডে নিহত হলো জেএমবি প্রধান

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ জেএমবির চট্টগ্রাম শাখার সামরিক প্রধান মোঃ জাবেদকে (২৬) নিয়ে মঙ্গলবার পুলিশ গ্রেনেড বিস্ফোরক উদ্ধার অভিযানে গেলে গ্রেনেড বিস্ফোরণে তিনি নিহত হন। এ সময় তিন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। আগের দিন জেএমবির পাঁচ সদস্যসহ সামরিক প্রধানকে গ্রেফতার করার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জাবেদ তার কাছে আরও অস্ত্র ও বিস্ফোরক থাকার কথা জানালে তাকে নিয়ে পুলিশ ভোরের দিকে চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকায় অভিযানে যায়। জাবেদকে নিয়ে অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে একটি খেজুর গাছের নিচে গেলে সেখানে রাখা গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটে। এতে জাবেদ এবং পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। গ্রেনেড বিস্ফোরণে জেএমবির সামরিক প্রধান জাবেদ নিহত ও তিন পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তার। চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানান, আগের দিন সোমবার বিকেলে কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর আজিমপাড়া এলাকার আইয়ুব বিবি সিটি কর্পোরেশন কলেজ রোড সংলগ্ন একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জাবেদসহ পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই বাসা থেকে ৯টি হ্যান্ডগ্রেনেড, ১২০ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তল, ১০টি ছুরি ও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় তল্লাশির সময় জাবেদ পুলিশের দিকে গ্রেনেড ছোড়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশ। জাবেদকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নিয়ে অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানেই এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে জাবেদকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গোয়েন্দা পুলিশ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জাবেদ তার কাছে আরও অস্ত্র ও বিস্ফোরক থাকার কথা জানালে তাকে নিয়ে পুলিশ ভোরের দিকে অক্সিজেন এলাকায় অভিযানে যায়। অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে একটি খেজুর গাছের নিচে গ্রেনেড ও বিস্ফোরক মজুদ রাখা ছিল। জাবেদকে নিয়ে সেখানে যাওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে। এতে জাবেদ এবং তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। বিস্ফোরণে আহত এসআই মোঃ ইলিয়াস, এসআই লিয়াকত আলী ও কনস্টেবল ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানিয়েছেন, জেএমবির সামরিক প্রধান জাবেদের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এবং তিনি পেশায় একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। ২০১২ সাল থেকে তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবির সঙ্গে যুক্ত। খোয়াজনগরে তিন কক্ষের যে বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়, গত ১ অক্টোবর সেটি তিনি ভাড়া নিয়েছিলেন। পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নেয় জাবেদ। ওই বাসা থেকে জাবেদকে গ্রেফতারের আগে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সুজন ওরফে বাবু (২৮), ফুয়াদ (৩৩), মাহবুব (৩৭) ও কাজল (৪০) নামে আরও চার জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

২০০৫ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর মধ্যবাড্ডা থেকে হুজি প্রধান মুফতি হান্নানকে, জেএমবির আমির শায়খ আব্দুর রহমানকে ২০০৬ সালের ২ মার্চ সিলেটের পূর্ব শাপলাবাগ এলাকার সূর্র্যদীঘল বাড়ি থেকে, ২০০৬ সালের ৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানাধীন চেচুয়া বাজারের রামপুরা গ্রাম থেকে জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইকে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অপারেশনাল কমান্ডার মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে, ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর জেলার বানিয়াচালা মেম্বার মসজিদের মেহমান খানা থেকে, আব্দুল আউয়াল ওরফে আদিলকে ২০০৫ সালের ১৮ নবেম্বর ঠাকুরগাঁও থেকে, জেএমবির সূরা সদস্য আতাউর রহমান ওরফে সানিকে ২০০৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে, জেএমবির সূরা সদস্য হাফেজ রাকিব হাসান ওরফে মাহমুদকে ২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে, জেএমবির সূরা সদস্য মোঃ সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে তৌহিদকে ২০০৬ সালের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিডিএ এলাকার একটি বাড়ি থেকে, জেএমবির সূরা সদস্য ফারুক হোসেন ওরফে খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে সিরাজ ওরফে আমজাদকে ২০০৬ সালের ৪ এপ্রিল রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া ডগাইর এলাকার আইডিয়াল পাড়ের ৮ নম্বর বাড়ি থেকে, জেএমবির সামরিক কমান্ডার মোঃ মোহতাসিম বিল্লাহ ওরফে বশিরকে, ২০০৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে, জেএমবির বোমা বিশেষজ্ঞ মোঃ জাহিদ হোসেন সুমন ওরফে বোমা মিজানকে ২০০৯ সালের রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগ এলাকা থেকে ও জেএমবির আইটি শাখার প্রধান বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এমরানুল হক ওরফে রাজীব ওরফে মঈনুল ওরফে আবু তোবা ওরফে ইকবালকে রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকা থেকে ২০০৯ সালের জুন মাসে গ্রেফতার করা হয়। ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, মাসুম, খালিদ সাইফুল্লাহর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের ভয়াবহ উত্থান ঘটে। এরপর শুরু হয় জঙ্গীদের ভয়াবহ হামলা। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলার (মুন্সীগঞ্জ বাদে) হাইকোর্ট, সুপ্রীমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, বাংলাদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারী আধা-সরকারী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়। দেশের ৩শ’ স্থানে মাত্র আধঘণ্টার ব্যবধানে একযোগে ৫শ’ বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে দু’জন নিহত ও দু’শতাধিক লোক আহত হয়। সর্বশেষ জেএমবির চট্টগ্রাম শাখার সামরিক প্রধান মোঃ জাভেদকে (২৬) নিয়ে মঙ্গলবার পুলিশ গ্রেনেড বিস্ফোরক উদ্ধারাভিযানে গেলে গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।