২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৭ শতাংশ জিডিপি অর্জন আমরা করে দেখাব

  • একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ৭ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন, তবে আমরা এটা করে দেখাব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় ২ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকার চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। চারটি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে ১ হাজার ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে ১ হাজার তিন শ’ ৮৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়।

একনেক চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশাবাদী বাঙালী পারবে, আমরা বিজয়ী জাতি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আগে বলত বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি হবে ৪ থেকে ৫ শতাংশ। তারা এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলছে ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ হবে। তবে আমি আশাবাদী, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার হবে ৭ শতাংশ। এটা আমরা করে দেখাব। শেখ হাসিনা আরও বলেন, এই কঠিনকে অর্জন করতে পারবে বাঙালী। কারণ, আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে বিজয়ের সাড়ে তিন বছরের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। পঁচাত্তরে তাঁকে হত্যা না করা হলে বাংলাদেশ অনেক আগেই আরও অনেক উন্নতি করত।

বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার লক্ষ্য, বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে ছোট করে দেখা, এটা আমাকে সব সময় কষ্ট দিত। বাংলাদেশকে নিয়ে নেতিবাচক বললে আমি সহ্য করতে পারি না। ৫৫ হাজার বর্গমাইলে ১৬ কোটি মানুষ বাস করে। তাদের মুখে খাবার দিচ্ছি, এটা সহজ কথা নয়। গরিব মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার লক্ষ্যকে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা লাকি। কারণ, প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, কিন্তু মূল্যস্ফীতি বাড়েনি। মতিয়া আপাকে (কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী) নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশ ঘুরে বেড়াতাম, গ্রামেও ঘুরে বেড়াতাম। তখন মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতাম। দেখতাম, গায়ে পোশাক আছে কি-না। তখন মানুষের গায়ে একটু কাপড় থাকত, পায়ে স্যান্ডেলও থাকত না। এখন গ্রামে অনেক উন্নয়ন কাযর্ক্রম পৌঁছে গেছে। এখন গ্রামেও আয় বৈষম্য নেই। প্রতিটি গ্রামই একেকটি ছোট ছোট শহর হবে। গ্রামে যাবে বিদ্যুত সেবা। ডিজিটালাইজড হবে গ্রামগুলো। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট এ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পাওয়ায় একনেক সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ অর্জন আমাদের সবার। এ অর্জন আপনাদেরও। এ অর্জন দেশবাসীকে উৎসর্গ করছি। আমরা দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। এমডিজি কার্যক্রম যখন শুরু হয়, তখনও আমি প্রধানমন্ত্রী ছিলাম, এসডিজি’র সময়ও আছি। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে কাক্সিক্ষত অর্জন করা সম্ভব নয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আফম মুস্তাফা কামাল। এ সময় সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি হচ্ছে ‘জাতীয় ডাটা (তথ্য) সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্প। সরকারের ‘ভিশন-২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুমোদিত ফোর টায়ার জাতীয় ডাটা সেন্টার প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সাত একর জমির ওপর ডাটা সেন্টারটি স্থাপন করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ভূমি মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুত বিভাগের ডিজিটালাইজেশনের জন্য ডাটা সেন্টারের সেবার চাহিদা রয়েছে। এসব দিক বিবেচনায় প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পে মূল অর্থায়ন করবে চীন। সরকারের তহবিল থেকে ৩১৬ কোটি টাকা দেয়া হবে। এতে বলা হয়, এরই মধ্যে চীনের জেডটিই কর্পোরেশনের সঙ্গে কম্পিউটার কাউন্সিলের বাণিজ্যিক চুক্তি হয়ে গেছে। প্রকল্প শুরু চলতি বছরের জুলাইয়ে এবং ২০১৮ সালের জুন মাসে শেষ হবে। প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সকল কাযর্ক্রম পেপার লেস হয়ে যাবে। ফাইল টানাটানির দিন শেষ হয়ে যাবে। আমাদের ডাটার চাহিদা অনেক কিন্তু সেই অনুযায়ী পাচ্ছি না। প্রকল্পের মাধ্যমে ডাটার চাহিদা পূরণ করা হবে। দেশ আরও ডিজিটাল হয়ে যাবে। অন্য তিনটি প্রকল্পের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিতাস নদী পুনঃখনন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এর মোট ব্যয় ১৫৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এছাড়া ৮৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন হতে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ রক্ষার্থে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ‘বিশ্বখাদ্য কর্মসূচীর সহায়তায় দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবসহন’ প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেয় একনেক সভা। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারী অর্থায়ন ছিল ৫২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ডাব্লিউএফপি’র প্রকল্প সাহায্য ছিল ৫০৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে থেকে ৩২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ফিরিয়ে নিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (ডাব্লিউএফপি)। এতে করে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে মাত্র ৭১৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ডাব্লিউএফপ’র প্রকল্প সাহায্য থাকছে মাত্র ১৮৬ কোটি ৫ লাখ টাকা।