২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেসিক ব্যাংকের তথ্য নিয়ে ব্রিফিংকালে তোপের মুখে দুদক কর্মকর্তারা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাত্র ১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের মামলা দুদকের কাছে উল্লেখযোগ্য মনে হলেও বেসিক ব্যাংকের প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা ৫৬ মামলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে ‘উল্লেখযোগ্য’ হিসেবে স্থান পায়নি। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে মঙ্গলবার কমিশনের মাসিক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিংয়ে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের সব মামলার পরিসংখ্যান এবং উল্লেখযোগ্য মামলার তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে এসব তথ্য উঠে আসে। বেসিক ব্যাংকের তথ্য নিয়ে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন দুদক কর্মকর্তারা।

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে সকল মামলার তথ্য তুলে ধরা হলেও বেসিক ব্যাংকের ৫৬ মামলার তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেনি দুদক কর্তৃপক্ষ। সেপ্টেম্বর মাসের মামলার পরিসংখ্যানে বেসিক ব্যাংকের ৫৬ মামলার কোন তথ্য নেই কেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিব্রত হন কমিশনের মহাপরিচালক ড. মোঃ শামসুল আরেফিন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকের সবগুলো মামলার তথ্য আজই আপনাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগে ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বেসিক ব্যাংকের প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৫৬টি মামলা করে দুদক। সেপ্টেম্বর মাসের গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য মামলার মধ্যে এ মামলাগুলোর কোন ধরনের তথ্যই উপস্থাপন করা হয়নি।

ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে দায়ের করা ৫৬ মামলায় আসামি হিসেবে নেই ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই ওরফে বাচ্চু ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। এ বিষয়ে ড. মোঃ শামসুল আরেফিন বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে যে অনুসন্ধান করেছি তাতে বাচ্চুর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এখন মামলাগুলোর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে বাচ্চুসহ যে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে অভিযুক্ত হিসেবে আনা হবে। এরপর ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়, অর্থমন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দুদকে যেসব প্রতিবেদন ও নথিপত্র পাঠানো হয়েছে তাতে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ছিল। অর্থমন্ত্রীও বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বলেছেন। দুদক এসব কোন কিছু আমলে না নিয়ে চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদকে বাদ দিয়ে তাদের নির্দেশে যারা কাজ করেছেন তাদের আসামি করেছে। কেন?’

এমন প্রশ্নের উত্তরে দুদকের পরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, অনুসন্ধানকালে যাদের বিরুদ্ধে দালিলিক তথ্য পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা যাদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। তদন্তকালে অপরাধ পাওয়া গেলে খতিয়ে দেখা হবে। এমন উত্তরে প্রেক্ষিতে প্রশ্ন করা হয়, আপনারা এখন প্রাথমিক পর্যায় বলছেন। তিন বছর ধরে বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন। ফলাফল মূল অভিযুক্তকে বাদ। এটা কি কোন পক্ষের চাপে? উত্তরে দুদকের ডিজি শামছুল আরেফিন বলেন, না চাপে নয়। অনুসন্ধান পর্যায়ে আমাদের কিছু আইনী সীমাবদ্ধতা থাকে। যেমন আমরা চাইলেই যে কোন কিছু জব্দ করতে পারি না। তবে মামলার পরে তদন্তে আমাদের জব্দ করার সুযোগ থাকে।

২০১০ সালে বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে কমিশন। পাঁচ বছরে পাঁচবার অনুসন্ধানকারী টিম পুনর্গঠন করা হয়। সর্বশেষ দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি টিম এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগস্ট মাসে ৭৫২টি অভিযোগ পেয়েছে কমিশন। এর মধ্যে ৪২টি অভিযোগ কমিশন যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া আগস্টে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত ১৯টি দুর্নীতি সংক্রান্ত বিবেচ্য প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিবেদন অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। অপরদিকে, আগস্ট মাসে ৬১টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুমোদন দেয় দুদক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট ২৫৩টি মামলা দায়েরের অনুমোদন, ৩৭২টি চার্জশীট দাখিলের অনুমোদন এবং ৩৮০টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে ৮৮২টি দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে কমিশন। এর মধ্যে ৫৬টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেছে কমিশন।

দুদকের মাসিক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ছয় হাজার ৫৩৪টি দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪৯৩টি অভিযোগ কমিশন যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৩৫টি মামলা দায়েরের অনুমোদন, ৪২৬টি চার্জশীট দাখিলের অনুমোদন এবং ৪২১টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১৩৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি মামলায় সাজা এবং ৯৩টি মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন। মাসিক ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের পরিচালক মো. নূর আহম্মদ, পরিচালক মোঃ বেলাল ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টচার্য্য।