২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াতকে সন্দেহ করছে ভারত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে পরপর দুই বিদেশী হত্যাকা-ের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ করছে ভারতীয় গোয়েন্দারা। মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে ভারতীয় গোয়েন্দাদের এ সন্দেহের কথা প্রকাশ করা হয়। ওই দুটি হত্যাকা-ে জঙ্গী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএসের) নাম এলেও এবং আইএস নিজেও দায় স্বীকার করলেও জামায়াতকেই দায়ী করছে গোয়েন্দারা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় ইতালির এনজিওকর্মী সিজার তাভেলাকে। ৩ অক্টোবর রংপুরে একই কায়দায় খুন করা হয় জাপানী নাগরিক কুনীও হোশিকে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাভেলা ও হোশির হত্যাকা-ের ঘটনায় আইএসের জড়িত থাকার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না গোয়েন্দারা। বরং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কয়েকজন নেতার মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া এবং আরও কয়েকজনের দ- কার্যকরের প্রক্রিয়া চলায় জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্যই এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতির বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে ভারতের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সামনে জামায়াতে ইসলামীর আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হতে পারে। এদের মধ্যে মৃত্যুদ-াদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে মতিউর রহমান নিজামীর আপিল শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। ধারণা করা যায়, বিদেশী হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটিয়ে আইএসের উপস্থিতি প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বের নজর কাড়তেই বিদেশি হত্যা। জামায়াত নিজেদের জঙ্গীদের দিয়ে এ সব কাজ করিয়ে তার দায় আইএসের ওপর চাপানোর চেষ্টা করতে পারে। এর মধ্যে দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হবে এবং হাসিনা সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অকার্যকর, তা প্রমাণ করার চেষ্টা হতে পারে।

আইএসের হত্যা প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যার মিল নেই উল্লেখ করে ভারতীয় গোয়েন্দারা আরও বলেন, আইএস শিরñেদের মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে এবং সেসব ভিডিও প্রচার করে ভীতি ছড়ায়। কিন্তু বাংলাদেশে দুই বিদেশীকে হত্যা করা হয়েছে গুলি করে।

এদিকে তাভেলা হত্যায় কাউকে আটক করা না হলেও হোশি হত্যায় বিএনপির দুই নেতাকে আটক করা হয়েছে। তবে আটককৃতরা হত্যাকা-ে জড়িত কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে অপর এক ভারতীয় গোয়েন্দা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, যাদের আটক করা হয়েছে, তারা হয়ত ঘটনার মূল নায়ক নয়। এখনও অনুসন্ধান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি, যাতে এসব ঘটনায় আইএসের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হয়। জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার ওপর জোর দিয়ে ওই গোয়েন্দা আরও বলেন, এখানে একটাই ব্যাখ্যা হতে পারে, আর তা হচ্ছে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা। যারা হয়ত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নিজেদের শীর্ষনেতাদের বিচারে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদেশী হত্যার মাধ্যমে হাসিনা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়।