২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকারী ব্যবস্থাপনায় যাওয়া হাজীরা সৌদিতে অর্থসঙ্কটে

  • ধৈর্য ধরতে বললেন ধর্মমন্ত্রী

বাবুল হোসেন, মক্কা থেকে ॥ সরকারী ব্যবস্থাপনায় আসা ২৬৩ হাজী মক্কা ও মদিনায় চরম অর্থ সঙ্কটে পড়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকে সৌদিতে অবস্থানরত স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ বিমানের চাহিদা মোতাবেক ৩০০-৫০০ রিয়াল জমা দিয়ে ফ্লাইটের তারিখ এগিয়ে দেশে চলে গেছেন। এ জন্য বিমানের আসন বিন্যাস করতে বিমান কর্তৃপক্ষকে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। অনেকের চাহিদামতো বিমানের টিকেট মিলছে না। যেসব হাজীর দেশে ফেরার ফ্লাইট নিশ্চিত হয়েছে, তারা এ সময়ের মধ্যে কীভাবে বাকি দিন পার করবেন তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। মক্কা ও মদিনায় অবস্থানরত সরকারী ব্যবস্থাপনায় আসা হাজীদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে মদিনায় অবস্থানরত ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। অনেক হাজী ধর্মমন্ত্রীর কাছে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে এই সঙ্কটের কথা বলেছেন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে। এ জন্য তিনি সরকারী ব্যবস্থাপনায় আসা হাজীদের ধৈর্য ধরতে বলেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় ও সৌদির হজ মিশনের সূত্রগুলো জানায়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গত ৩ সেপ্টেম্বর জারি করা সরকারী আদেশে (জিও) এসব হাজীকে ৫ অক্টোবর দেশে ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরে ওই তারিখ ২৪ ও ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। শেষ মুহূর্তে নতুন করে জারি করা এই জিও এর কথা জানতে পারেননি অনেকে। বিমানে ওঠার পর অনেকে শুনেছেন নতুন এই জিও এর কথা!

সরকারী জিওতে ২২-২৩ দিনের প্যাকেজে মক্কা ও মদিনায় খাবার বাবদ প্রত্যেক হাজীর জন্য দৈনিক খাওয়া, কোরবানি ও যাতায়াতের জন্য টাকা আগাম ও নগদ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। তড়িঘড়ি করে আসা হাজীরা ২২-২৩ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে হজে আসার পর সময় বাড়ানোর কারণে এই সঙ্কট সৃষ্টি হয়। সরকারী ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে ঢাকা থেকে গত ১২ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটে আসা গণমাধ্যম কর্মী মফিজুল হক সৌদি আরব পৌঁছান গত ১৩ সেপ্টেম্বর। সরকারী জিওতে তার ফিরতি ফ্লাইট ছিল ৫ অক্টোবর। ২৩ দিনের জন্য খাবার বাবদ নগদ আগাম বরাদ্দ পান তিনি ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। ইতোমধ্যে মফিজুলের টাকা শেষ। এখন কীভাবে বাকি দিন পার করবেন ভেবে কূলকিনারা করতে পারছেন না। হজ শেষে পড়েছেন মহাফাপড়ে। মফিজুলের মতো সরকারী ব্যবস্থাপনায় আসা সব হাজীর ফিরতি ফ্লাইটের তারিখ পরে ৫ অক্টোবর এর পরিবর্তে ২৪ ও ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়া হয়। হিসাব মতে এসব হাজীদের ২৩ দিনের বদলে এখন মক্কায় ও মদিনায় ৪২-৪৩ দিন অবস্থান করতে হবে। এই হিসেবে অতিরিক্ত ২০ দিনের জন্য যে পরিমাণ বাড়তি অর্থের প্রয়োজন তা নেই অনেক হাজীর পকেটে। উল্টো এ সময়ে অনেকের পকেট খালি করে ফেলেছেন। এমনকি অনেকে ধারদেনা করতে শুরু করেছেন। আগামী ২৪ ও ২৫ অক্টোবর ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল এ রকম অন্তত ২০-২৫ জন হাজীকে বিমানের নিয়ম অনুযায়ী ৩০০-৫০০ রিয়েল জমা দিয়ে আগেভাগেই সৌদি ছেড়ে যেতে হয়েছে।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরকালি গ্রাম থেকে আসা হাজী আবু সাদেক সরকার জানান, জিওতে বলা হয় ৫ অক্টোবর বিমানের সম্ভাব্য ফিরতি ফ্লাইট। গত ১২ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটে আসা হাজী সাদেক জানান, সরকারী বরাদ্দের টাকার বাইরে তিনি নিজে বাড়তি কিছু টাকার প্রস্তুতি নিয়ে সৌদি আরব আসেন। যে পরিমাণ টাকা তিনি সঙ্গে এনেছিলেন তাতে সিডিউল অনুযায়ী দেশে ফিরতে পারলে কোন অসুবিধায় পড়তে হতো না। কিন্তু গত ৫ অক্টোবরের পর থেকে চলতে হচ্ছে সৌদিতে অবস্থান করা স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে। সাদেক সরকারের মতো সরকারী ব্যবস্থাপনায় আসা অনেক হাজী জানান তাদের পকেটে টান পড়ার কথা। খাওয়া, কোরবানি ও যাতায়াতে টাকা তো শেষের পথে, বাকি ২০-২২ দিন কীভাবে পার করবেন এ নিয়ে আছেন মহা দুশ্চিন্তায়। একই এলাকার হাজী সারোয়ার ম-ল ও ঝালকাঠির আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা হাজী মকবুল হোসেন তালুকদার অতিরিক্ত দিন অবস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর কাছে বাড়তি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।