২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লিটনের সংসদ সদস্যপদ বাতিল ও গ্রেফতার দাবিতে উত্তাল গাইবান্ধা

  • মুখে কালো কাপড় বেঁধে শহীদ মিনারে অবস্থান

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ৬ অক্টোবর ॥ সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের সংসদ সদস্য পদ বাতিল, অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার এবং তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদে সোচ্চার সর্বস্তরের মানুষ। উত্তাল হয়ে উঠেছে গাইবান্ধা।

মঙ্গলবার সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে গাইবান্ধা শহীদ মিনারে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান ধর্মঘটের কর্মসূচী পালন করে সর্বস্তরের বিক্ষুব্ধ মানুষ। এ সময় বক্তব্য রাখেন মঞ্জুরুল আলম মিঠু, নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক রোকেয়া খাতুন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম লিলি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী প্রমুখ।

এছাড়া শহরের আসাদুজ্জামান মার্কেট সংলগ্ন ডিবি রোডে একই দাবিতে একটি মানববন্ধনের কর্মসূচী পালিত হয়। মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখা, মানবাধিকার নাট্য পরিষদ, মানবাধিকার নারী সমাজ, মানবাধিকার আইনজীবী পরিষদ যৌথভাবে এই মানববন্ধন কর্মসূচীর ডাক দেয়। এই কর্মসূচীতে সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মারুফ মনা, জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক জনি, মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কাজী মোঃ খালেক প্রমুখ।

বক্তারা সংসদ সদস্য পদ বাতিলসহ এমপি লিটনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, মাদকে আসক্ত মাতাল কোন ব্যক্তির পক্ষে সংসদে বসে আইন প্রণেতার দায়িত্ব পালন করা কোনক্রমেই সমীচীন নয়। তদুপরি তার মতো মদ্যপ ও হটকারি ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মতো স্বাধীনতা স্বপক্ষের একটি বিশাল দলের সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করলে দলের ভাবমূর্তি বহুলাংশে ক্ষুণœ হবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে বিতর্কিত এমপি লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি এবং তার শ্বশুর, জেঠা শ্বশুর ও শ্যালকদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা গেছে তারা জামায়াত এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে এখনও সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। তারা এমপি লিটনকে ঘিরে রেখে সুন্দরগঞ্জে আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করে প্রকৃত পক্ষে জামায়াত ও বিএনপির সকল অপতৎরতা সৃষ্টির পথকে সুগম করে তুলছেন এবং ওই দুটি দলকেই মূলত রাজনীতিতে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করছেন।

জানা গেছে, এমপি লিটনের স্ত্রী এবং তার এপিএস সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি ছাত্রজীবনে বগুড়া আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। বিয়ের পর রাতারাতি ভোল পাল্টে তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে যান এবং বর্তমানে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের শ্বশুর ও স্মৃতির বাবা মোশাররফ হোসেন বাদশা মিয়া ও তার বড় ভাই তোজাম্মেল হক ছিলেন জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। জামাতা এমপি হওয়ার পর এখনও গোপনে তারা জামায়াতের কর্মী হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। মৃত তোজাম্মেল হকের ছেলে সেলিম মিয়া, জিলানি মিয়া ও মিরান জামায়াতের সক্রিয় ক্যাডার থেকে এমপি লিটনের সক্রিয় কর্মী হওয়ায় এখন নব্য আওয়ামী লীগে পরিণত হয়েছেন। লিটনের স্ত্রী স্মৃতির মদদে এবং নির্দেশে তারা নানা অপকর্ম করে সুন্দরগঞ্জের মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। এছাড়া স্মৃতির আপন বড় ভাই বাদল ছিলেন জামায়াতের সক্রিয় ক্যাডার। বেতার মিয়া জাতীয় পার্টির সক্রিয় কর্মী। অপর ভাই সোহাগ ও তারিকুল ইসলামও জামায়াতের ক্যাডার থেকে দুলাভাই এমপি লিটনের কারণে নব্য আওয়ামী লীগ হিসেবে স্মৃতির নির্দেশ ও অপকর্ম বাস্তবায়নের সক্রিয় ক্যাডারে পরিণত হয়েছে। এই বেতার মিয়া, জিলানি ও মিরান ইতোপূর্বে চাঁদাবাজি করার দায়ে এবং চাঁদা না দেয়ায় শিবরাম স্কুল এ্যান্ড কলেজে হামলা চালানোর অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দীর্ঘদিন জেলও খেটেছেন।

স্থানীয় লোকজন এমপি লিটনের অপকর্মে অতিষ্ট নয়, বরং তার স্ত্রী ও একান্ত এপিএস সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি এবং তার ভাইদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সুন্দরগঞ্জে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল করতে প্রতিটি দলিলে এমপি লিটনের নির্দেশে তার শ্যালকদেরকে ৪শ’ টাকা করে চাঁদা প্রদান করতে হয় বলে অভিযোগে জানা গেছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যেকটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন এমপি ছাড়াও তার স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি, তার শ্যালক এবং ঘনিষ্ট আত্মীয়স্বজন। সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি শিবরাম স্কুল এ্যান্ড কলেজ, বামনডাঙ্গা আব্দুল হক কলেজসহ আরও কয়েকটি নাম করা প্রতিষ্ঠানের তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন। এমপির ওইসব আত্মীয়স্বজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে অবাধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে লুটপাট করে চলেছেন। ফলে এই উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দাফতরিক নিয়োগে এমপি লিটনের স্ত্রী স্মৃতির নির্দেশে প্রতিটি স্কুল থেকে মাথাপিছু ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে বলে সরেজমিনে সুন্দরগঞ্জ পরিদর্শন করে জানা গেছে।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের ছোড়া গুলিতে শুক্রবার ভোরে সৌরভ মিয়া (৯) নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সৌরভ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।