২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দাবি না মানলে পাবলিক ভার্সিটি শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতি

  • শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সমস্যা সমাধানে উভয়পক্ষের আশাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলতি মাসের (অক্টোবর) মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী ১ নবেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মর্যাদা এবং বেতন বৈষম্যের বিষয়গুলো মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো এবং অষ্টম বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের পদমর্যাদার অবনমনের অভিযোগ তুলে দাবি-দাওয়া পূরণের বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকে দৃশ্যত কোন সমঝোতা না হলেও শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষক নেতারা আশা করছেন, শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে। বৈঠকের পর ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা সাংবাদিকদের নতুন কর্মসূচীর কথা জানান।

বৈঠকে ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল সহ ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রীও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকের শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সর্বোচ্চ সম্মানের ব্যক্তিত্ব শিক্ষক। বেতন-বৈষম্য নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠিত কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। সরকার শিক্ষকদের দাবি আমলে নিয়েছে। শীঘ্রই কমিটির সভা হবে, কমিটি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে। সরকার শিক্ষকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। বেতন এবং পদমর্যাদা বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি কমিটি বিবেচনা করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘœ করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে আমরা লাগাতার ক্লাস-পরীক্ষায় হাত দেইনি। তিনি বলেন, আমাদের সম্মানের জায়গায় হাত দেবেন না, বেতন না দেন সমস্যা নেই। মর্যাদার সুষ্ঠু সমাধান না হলে লাগাতার আন্দোলনে যাওয়ার চাপ রয়েছে। আমরা মনে করি, সে কর্মসূচীতে যাওয়া লাগবে না। আশা করি এর মধ্যে সুষ্ঠু সমাধান হবে।

দাবি মেনে না নেয়া হলে ১ নবেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়া হবে বলে জানান ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, শিক্ষকদের দাবি উপেক্ষিত হলে লাগাতার কর্মবিরতি পালন ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না। এক প্রশ্নের জবাবে এই শিক্ষক নেতা বলেন, বেতন বৈষম্য নিরসনে সাত সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটির মধ্যে অর্থমন্ত্রী ছাড়া সবাইকে চিঠি দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য সুবিবেচনাপ্রসূত ছিল না। দাবি মেনে নিলে কমিটিকে অভিনন্দন জানাব।

শিক্ষকদের মর্যদা এবং বেতন কাঠামো নিয়ে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে তার সমাধানে অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের মান, ইজ্জত, সম্মান আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য যে প্রস্তাব তারা দিয়েছেন তা পূর্ণগঠিত মন্ত্রিসভা কমিটিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করব। আশা করছি, সুষ্ঠু সমাধান বেরিয়ে আসবে। শিক্ষকরা ভর্তি, ক্লাস-পরীক্ষাসহ একামেডিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন, আমাদের ওপর তাদের আস্থা আছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

গত ৭ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদনের পর পদমর্যাদা এবং বেতন বৈষম্য নিরসনের জন্য ক্লাস বর্জনসহ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষকরা। শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড বাদ দিয়ে ও বিশেষ গ্রেড সৃষ্টি করে বেতন-ভাতার দিক দিয়ে দৃশ্যত শিক্ষকদের চার ধাপ নিচে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে শিক্ষকদের মর্যাদা নিচে নামবে। এমনকি বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সেও শিক্ষকদের মর্যাদাহানির বিষয়টি বহুল আলোচিত। এসব বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি বেতন কমিশন গঠনের দাবি জানান শিক্ষক নেতারা।

স্বতন্ত্র বেতন স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ঘোষিত অষ্টম বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করে সিনিয়র অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা গ্রেড-১, অধ্যাপকদের গ্রেড-২, সহযোগী অধ্যাপকদের গ্রেড-৩, সহকারী অধ্যাপকদের গ্রেড-৫ ও প্রভাষকদের বেতন কাঠামো সপ্তম গ্রেডে নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। প্রস্তাবিত গ্রেড-১ প্রাপ্ত সিনিয়র অধ্যাপক থেকে ২৫ শতাংশ শিক্ষককে সুপার গ্রেডের দুই নম্বর ধাপে বেতন-ভাতা প্রদানের দাবি জানান শিক্ষকরা। আর রাষ্ট্রীয় ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সে শিক্ষকদের প্রত্যাশিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী পদমর্যাদাগত অবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।