২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরত সন্ধ্যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ধ্রুপদী জীবনের পদ্য

শরত সন্ধ্যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ধ্রুপদী জীবনের পদ্য
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ। মঙ্গলবার স্মরণ করা হলো বিংশ শতাব্দীর অন্যতম এই আধুনিক কবিকে। বইয়ের পাতায় থাকা তাঁর কবিতাগুলো উচ্চারিত হলো বাকশিল্পীদের কণ্ঠে। সেই সব কবিতার দোলায়িত ছন্দে মোহাবিষ্ট হলো কবিতাপ্রেমীরা। কাব্যমালার শিল্পিত উচ্চারণে ভাবের ব্যঞ্জনায় উপস্থাপিত হলো প্রকৃতি-প্রেমসহ নানা বিষয়। শরতের সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এই আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জীবনানন্দ দাশের নির্বাচিত কবিতায় সাজানো অনুষ্ঠানটির শিরোনাম ছিল ‘ধ্রুপদী জীবনের পদ্য।’ বাংলাভাষার শুদ্ধতম কবির প্রয়াণ দিবসকে সামনে রেখে এ আবৃত্তিসন্ধ্যার আয়োজন করে স্বরচিত্র আবৃত্তিচর্চা ও বিকাশ কেন্দ্র।

‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’ কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় জীবনানন্দ-আশ্রয়ী কবিতাসন্ধ্যার। বাঁশির সুরেলা শব্দধ্বনির সঙ্গে সম্মিলন ঘটিয়ে সাম্মিরুন ইসলামের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়- বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ/খুঁজিতে যাই না আর; অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে/চেয়ে দেখি ছাতার মতো বড় পাতাটি নিচে বসে আছে/ভোরের দোয়েলপাখিÑ চারদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ/জাম-বট-কাঁঠালের-হিজলের-অশথের করে আছে চুপ/ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে/মধুকর ডিঙা থেকে না জানি সে কবে চাঁদ চম্পার কাছে/এমনই হিজল-বট-তমালের নীল ছায়া বাংলার অপরূপ রূপ...। এরপর যেন বয়ে যায় কাব্যবীজের স্ফুরণ। খান জাহাঙ্গীর আলম পাঠ করেন ডাকিয়া কহিল মোরে রাজার দুলাল শিরোনামের কবিতা। নাজমুন নাহার পঠিত কবিতার শিরোনাম ছিল নদী, নক্ষত্র ও মানুষ। নগ্ন নির্জন হাত কবিতাটি আবৃত্তি করেন আনিসুর রহমান। নদী নামের কবিতাপাঠ করেন সুস্মিতা সাহা।

আসিফ আরমানের কণ্ঠে উচ্চারিত কবিতার শিরোনাম ছিল আমি যদি হতাম। অদ্ভুত আঁধার শীর্ষক কবিতা আবৃত্তি করেন শিপ্রা রহমান। এছাড়াও একক কণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন মোস্তাফিজ তানভীর, মীম জাহান তন্নী, কানিজ ফাতেমা আলম, সাদমান আলিফ, তামান্না ডেইজী ও মাহিদুল ইসলাম। তাঁদের পঠিত কয়েকটি কবিতার শিরোনাম ছিলÑ আকাশলীনা, পাখী, সহজ, তিমির হননের গান, নির্জন স্বাক্ষর, কুড়ি বছর পরে, আমাকে তুমি, মিতভাষণ, ক্যাম্পে, বনলতা সেন ও আবার আসিব ফিরে। সব মিলিয়ে পাঠ করা হয় ২৭টি কবিতা।

জাদুঘরে আজ ভাস্কর নভেরা প্রদর্শনী ॥ বাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যশিল্পের পথিকৃৎ ভাস্কর নভেরা আহমেদ। প্রয়াত এই শিল্পীর ৪০টি ভাস্কর্য সংরক্ষিত রয়েছে জাতীয় জাদুঘরে। সেখান থেকে নির্বাচিত ৩৪টি ভাস্কর্য নিয়ে শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার থেকে জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে শুরু হবে ভাস্কর নভেরা শীর্ষক এই বিশেষ প্রদর্শনী।

আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। ১৩ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শেষ হবে ১৯ অক্টোবর।

‘ওগো নিরুপমা’ এ্যালবামের প্রকাশনা ॥ সালমা কিবরিয়ার পরিচয় শিশুসাহিত্যিক হিসেবে। শিশু-কিশোরদের জন্য নিয়মিত লিখছেন গল্প, কবিতা ও ছড়াসহ নানা কিছু। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি গানও করেন। আধুনিক গান গেয়ে ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন বিশেষ পরিচিতি। শিল্পী সালমা কিবরিয়ার ছেলে সাদমান মাহতাব কিবরিয়াও গান করেন। এবার প্রকাশিত হলো মা ও ছেলের যৌথ এ্যালবাম ‘ওগো নিরুপমা’। হারানো দিনের আধুনিক বাংলা গান দিয়ে সাজানো হয়েছে সঙ্গীত সঙ্কলনটি। প্রকাশ করেছে ফাহিম মিউজিক।

মঙ্গলবার এ এ্যালবামের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় এ্যালবামের মোড়ক উšে§াচন করেন এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম।