২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গুলিতে স্কুলছাত্র আহত হওয়ার বিষয়ে বিবৃতি দিলেন এমপি লিটন

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ৬ অক্টোবর ॥ সুন্দরগঞ্জের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন তার পিস্তলের গুলিতে আহত স্কুলছাত্র সৌরভের চিকিৎসার সব খরচ শিক্ষা ও আজীবন ভরণপোষণের ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দিয়েছেন।

এমপি লিটনের স্ত্রী ও এপিএস সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি দৈনিক জনকণ্ঠকে মোবাইল ফোনে তার বরাত দিয়ে এই ঘোষণাটির কথা জানান এদিকে মঙ্গলবার মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন দৈনিক জনকণ্ঠের গাইবান্ধার নিজস্ব সংবাদদাতার ব্যক্তিগত ই-মেইল এবং গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের ই-মেইলে নিজ স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি পাঠান। এতে ২ অক্টোবর ভোরে পিস্তলের গুলি ছুড়ে সৌরভকে আহত করার ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন তিনি।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের দায়িত্ববান বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বর্তমানে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা দেখে ও শুনে আমি অত্যন্ত মর্মাহত ও হতাশ। উপজেলার যে ছেলেটি আহত হওয়া নিয়ে এত হৈ-চৈ তার প্রকৃত কারণ যা সংবাদ মাধ্যমে এসেছে তা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃত ব্যাপারটি হলো তিনি অন্যান্য দিনের ন্যায় ঘটনার দিন শুক্রবার ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে বাড়ি থেকে নদীর মাছ কিনতে ঘটনাস্থলের (ব্র্যাকমোড়) পাশ দিয়ে হরিপুর বাজারের দিকে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে ব্র্যাকমোড়ে পৌঁছামাত্র ১০-১৫ জন অজ্ঞাত লোক তার গতিরোধ করে এবং বার বার গাড়ির হর্ন দিলেও তারা সরে না যাওয়ায় তিনি তার জীবন রক্ষার্থে ফাঁকা গুলি চালাতে বাধ্য হন। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং তিনি বাসায় ফিরে আসেন। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন সৌরভ নামে একটি ১২ বছরের ছেলে আহত হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনাটি তার কাছে দুরভিসন্ধিমূলক বলে মনে হয়েছে। ইতোপূর্বে এ রকম অনেকবার আক্রমণের শিকার তাকে হতে হয়েছে।

বর্তমানে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী ও উচ্ছৃঙ্খল দলছুট দলীয় পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তাদের সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, তিনি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সংসদ সদস্য ২৯-গাইবান্ধা-১ বিগত ২০০০ সালে সুন্দরগঞ্জে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার গোলাম আযমের একটি বৃহৎ দলীয় প্রোগ্রাম বানচালের মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের জঙ্গী জামায়াতের একচ্ছত্র আধিপত্য ভেঙ্গে তাদের টার্গেটে পরিণত হন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাহসী আওয়ামী নেতৃবৃন্দ ও বঙ্গবন্ধুর চেতনায় উজ্জীবিত কর্মীদের সহায়তায় জঙ্গী জামায়াত বিএনপির সঙ্গে লড়াই করে আসছেন।

তার নির্বাচনী এলাকটি অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া জনপদ হওয়ায় এবং ২০০১ এর নির্বাচনে এখানে ১৯৭১ সালের ঘৃণিত রাজাকার কমান্ডার মোঃ আব্দুল আজিজ এমপি নির্বাচিত হলে এলাকাটি বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। জঙ্গী জামায়াতের আর্থিক সহায়তা ও জান্নাত লাভের টিকেট প্রদান ব্যবসার মাধ্যমে এক বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থন তারা লাভ করতে সক্ষম হন। ফলে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় যখন তখন নানা বাহানায় বিশেষ করে ৭১-এর ঘৃণিত রাজাকারদের বিচারের সময় এলাকাটি উতপ্ত করে তুলতে তারা প্রয়াস পায়। যার ফলশ্রুতিতে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ি জ্বালিয়ে দেয়া এবং চার পুলিশ সদস্যকে নির্মম ভাবে হত্যা করে, উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও লুটপাট করে। এছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি ও হিমাগারে হামলা করে ভাংচুর করে এবং তার আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

বিগত ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার অসীম বদান্যতায় ও সুবিবেচনার কারণে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টিসহ আরও তিন জনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জনগণের ভোটে ১৯৭৩ সালের পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগের ব্যানারে এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচনটি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি জামায়াতের ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার কারণে পুনরায় ১৬ জানুয়ারি ২০১৪ ভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।