২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওয়ানডেতেও সালমারা হোয়াইটওয়াশ

ওয়ানডেতেও সালমারা হোয়াইটওয়াশ
  • দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের মেয়েরা ৬ উইকেটে জয়ী

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পাকিস্তান সফরে গিয়ে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলকে। চার ম্যাচের একটিতেও জয় ধরা দিল না। মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ওয়ানডেতেও পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট দলের কাছে ৬ উইকেটে হার হলো। প্রথম ওয়ানডেতে ২০ রানে হারায় দুই ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। এর আগে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হয়েছিলেন সালমারা।

ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন সালমা খাতুন। কিন্তু ১২৩ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। আবার ব্যাটিংয়ে ভরাডুবি হয়। ওপেনার আয়েশা রহমান সর্বোচ্চ ৩৯ রান করতে পারেন। আনাম আমিন একাই ৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন। জবাবে ৩৮.৩ ওভারে বিসমাহ মারুফের ৪১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। সেই সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজও হাতের মুঠোও করে নেয়।

দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজের দুটি ম্যাচেই হারের পর দুই ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও হার হলো বাংলাদেশের। প্রথম ওয়ানডেতে ২০ রানে হারের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে হার হজম করতে হয়েছে। প্রথম ওয়ানডেতে জিতেই সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডে হেরে হোয়াইটওয়াশই হলো। ২০১৪ সালে কক্সবাজারে যে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ, এর প্রতিশোধ নিয়ে নিল পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট দল। দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজ শেষে রবিবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট দলের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ শুরু হয়। দুটি টি২০ ম্যাচ বড় ব্যবধানে হারলেও প্রথম ওয়ানডেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে বাংলাদেশ। প্রথম টি২০তে ২৯ রানে হারের পর দ্বিতীয় ও শেষ টি২০তে ৩৪ রানে হেরে সিরিজই হেরে যায় সালমা খাতুনবাহিনী। ২-০ ব্যবধানে টি২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়। দুটি ম্যাচেই ব্যাটাররা চরম ব্যর্থ হন। প্রথম টি২০তে ১২৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২০ ওভারে ৯৫ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টি২০তেও ভরাডুবি হয়। ১১৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৮০ রানের বেশি করা যায়নি। তবে ওয়ানডেতে ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। হার হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ প্রথম ওয়ানডেতে মিলেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আবারও সেই ভরাডুবি হয়।

এবার ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মহিলা ক্রিকেট দলের মধ্যে চার অফিসিয়াল ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ম্যাচগুলোতে দুই দলের হার-জিত সমানে সমান ছিল। পাকিস্তান যেখানে জিতেছিল দুটি ম্যাচে। বাংলাদেশও সমান সংখ্যক ম্যাচ জিতে নিয়েছিল। ২০১২ সালে দুই দলের মধ্যকার প্রথম অফিসিয়াল ওয়ানডে সিরিজ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সেই ম্যাচে ৪২ রানে হারে বাংলাদেশ। এরপর একই স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ উইকেটে হার হয়। তবে ২০১৪ সালে ভরাডুবি হয় পাকিস্তানের। বাংলাদেশে খেলতে এসে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাকানি-চুবানি খায়। পরপর দুই ম্যাচেই হারে। যেন বাংলাদেশ ২০১২ সালের প্রতিশোধ নেয়। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে দেয়। এবার পাকিস্তানও যেন প্রতিশোধ নেয়ার নেশায় বুদ হয়ে ছিল। অবশেষে সেই প্রতিশোধ নেয়াও হয়ে গেল।

পাকিস্তানে যাবে কি না বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল, এ নিয়ে সংশয় ছিল। শেষপর্যন্ত সংশয় দূর হয়ে পাকিস্তানে খেলতে গেল। এবং সিরিজ খেলাও শেষ হয়ে গেল। আজ বাংলাদেশে এসেও পড়বে।

স্কোর ॥ বাংলাদেশ ইনিংস ১২৩/৯; ৫০ ওভার (আয়েশা ৩৯, শামীমা ৩, ফারজানা ০, লতা ০, রুমানা ২, সালমা ৭, জাহানারা ০, নিগার ৩০*, রিতু ২৮, নাহিদা ১, কুবরা ৪*; আনাম ৪/৭, আসমাভিয়া ৩/৩৮)।

পাকিস্তান ইনিংস ১২৪/৪; ৩৮.৩ ওভার (বিসমাহ ৪১, মারিনা ৩১, নাইন ২২, সানা ১২*; নাহিদা ২/২২)।

ফল ॥ পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা ॥ আনাম আমিন (পাকিস্তান)।