২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উজবেকদের কাছে বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শেষ ম্যাচে জিতলে মূলপর্বে উন্নীত বা ড্র করলে গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ার পাশাপাশি সেরা পাঁচ রানার্সআপ হয়ে মূলপর্বে যাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল স্বাগতিক বাংলাদেশের। কিন্তু ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলের অসহায় আত্মসমর্পণে সেই সম্ভাবনা ধুলোয় মিশে গেছে। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এএফসি অনুর্ধ ১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের এই ম্যাচে বিজয়ী দল ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। এই জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে এ আসরের মূলপর্বে খেলার যোগত্যা অর্জন করল উজবেকিস্তান। আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্সআপ হলো বাংলাদেশ। ফলে সেরা ৫ রানার্সআপ দলের একটি হওয়া হলো না লাল-সবুজদের। কেননা সেরা রানার্সআপ হওয়ার তালিকায় যারা ছিল, তাদের প্রত্যেকের পয়েন্টই ছিল ৬!

অথচ উজবেকিস্তান শক্তির নিরিখে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে তাদের সঙ্গে প্রায় সমানতালেই লড়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে বাংলাদেশের পারফর্মেন্সের অধোগতি ছিল লক্ষ্যণীয়। প্রথম ম্যাচে জয় (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে), দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র (ভুটানের সঙ্গে ১-১) এবং তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে হার। আসলে ভুটানের সঙ্গে ওই অপ্রত্যাশিত ড্রতেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। ফলাফলÑ স্বপ্নের সলিল সমাধি। গোলবারে সাহসী ভূমিকায় ছিলেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক আনিসুর, তার কারণেই কমপক্ষে দুই হালি গোল হজম করেনি বাংলাদেশ! উজবেকিস্তান প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ভাসায় গোলবন্যায় (৭-০)। পরের ম্যাচে হারায় শ্রীলঙ্কাকে (৩-০)। এখনও তারা কোন গোল হজম করেনি এবং গোলও (১৩) করেছে বাকিদের চেয়ে বেশি। ম্যাচ শুরুর ১৩ সেকেন্ডে উজবেকিস্তানের গানিজনভের শট বাংলাদেশের বারে লেগে ফেরত আসে। এর ঠিক এক মিনিট পরই (১ মিনিট ১৩ সেকেন্ড) জটলা থেকে বাঁ পায়ের তীব্র শটে বাংলাদেশের জালে বল পাঠান দস্তন ইব্রাজিমভ (১-০)। ৬২ মিনিটে কদিরকুলভ সানজার বাঁপ্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে বাংলাদেশের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গড়ানো শটে গোল করেন (২-০)। ৭৯ মিনিটে বল নিয়ে বাংলাদেশের বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে ওয়ান টু ওয়ান পজিশনে পেয়ে দুর্দান্ত শটে লক্ষ্যভেদ করেন উজবেক বদলি ফরোয়ার্ড আব্দিক্সলিকভ (৩-০)। ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে বক্সে ঢুকে হেডে বাংলাদেশের জাল কাঁপান বদলি মিডফিল্ডার শোখরব নূরুল্লভ (৪-০)। প্রথম ১৯৭৫ সালে, সর্বশেষ অংশগ্রহণ ২০০২ সালে। প্রতি আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। ব্যতিক্রম ১৯৮০ সালে। সেবার অবশ্য পাঁচ দল লীগ পদ্ধতিতে খেলেছিল। সর্বোচ্চ ৪ ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। চার ম্যাচে দুই পয়েন্ট সংগ্রহ করা বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম। এ আসরের মূলপর্বে উজবেকরা মোটামুটি সফল দল। একবার হয়েছে রানার্সআপ। ২০০৮ সালে তারা সংযুক্ত আবার আমিরাতের কাছে ফাইনালে হেরেছিল ১-২ গোলে।