২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ায় ওয়াহেদের ক্ষোভ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘কেন আমাকে বাদ দেয়া হয়েছে, তা জানি না। কোচকে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বলেছেন, তোমার পারফর্মেন্স খারাপ না। তারপরও আমি সুযোগ পেলাম না। অথচ পারফর্মেন্স যাচাই হয় ঘরোয়া লীগ দেখে। সেখানে আমার চেয়ে কম ম্যাচ খেলা, গোল না করা খেলোয়াড়ও রয়েছেন। এবার হয়নি, ভবিষ্যতে আরও ভাল পারফর্মেন্স উপহার দিয়ে অবশ্যই কোচ-নির্বাচকদের মন জয় করে জাতীয় দলে ফিরে আসব।’ কথাগুলো ওয়াহেদ আহমেদের। জাতীয় দলের তরুণ এই ফরোয়ার্ড মঙ্গলবার ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে এ্যাওয়ে ম্যাচের জন্য ঘোষিত ২৯ জনের প্রাথমিক দল (দ্বিতীয় বাছাই, প্রথম প্রাথমিক দলে ছিলেন ৪১ ফুটবলার) থেকে বাদ পড়েছেন ওয়াহেদ।

২৩ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে বুধবার। তার আগেই ২৮ জন নিয়ে বিকেএসপিতে চলা জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে ওয়াহেদকে। তার মতো একই পরিণতি হয়েছে গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানারও। তবে রানার বাদ পড়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ দলের জন্য তিন গোলরক্ষকের কোটায় কোচের পছন্দের তালিকায় আগে থেকেই ছিলেন শহীদুল আলম সোহেল, মাজহারুল ইসলাম হিমেল এবং রাসেল মাহমুদ লিটন। তাদের কারণেই দলে ঠাঁই পাননি রানা। তবে ওয়াহেদের বাদ পড়াটা ছিল বিস্ময়কর। কেননা সোমবার বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত অনুশীলন ম্যাচে জাতীয় দল ৪-১ গোলে হারায় বাফুফে একাদশকে। সেই ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে একটি গোল করেন ওয়াহেদ। তবে গোল করেও ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও লোপেজের মন জয় করতে পারেননি সিলেটের এই তারকা! এবার প্রিমিয়ার ফুটবল লীগে আবাহনী লিমিটেডের হয়ে ২টি গোল করেছেন ওয়াহেদ (নতুন বিয়ে ও মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার কারণে অনেক ম্যাচ খেলতে পারেননি)। অথচ ঘরোয়া লীগে তার চেয়ে কম ম্যাচ খেলে, কম গোল করেও ক্যাম্পে আছেন আরেক তরুণ স্ট্রাইকার। ওয়াহেদ আহমেদ নিজেকে চেনান সর্বশেষ সুপার কাপে। বিদেশীহীন এ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন মোহামেডানের মোট গোলসংখ্যা পাঁচ। তার মধ্যে ওয়াহেদ নিজে করেন তিন গোল আর উৎস ছিলেন বাকি দুটি গোলের! এ সুবাদে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় দলের ডাচ্ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফও তার মধ্যে খুঁজে পান স্ট্রাইকারসুলভ গুণাগুণ। এরপর সোজা সাফের জাতীয় দলে মোহামেডানের এই স্ট্রাইকার। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ফেডারেশন কাপে সাদাকালোর একাদশে তার ঠাঁই হয়নি! বদলি হয়ে তিন ম্যাচ খেলেন ২০ মিনিট, ১০ মিনিট ও ৫ মিনিট করে। এর মধ্যেও একটি গোল করেন রহমতগঞ্জের বিপক্ষে।

লীগের শেষদিকে এসে ইনজুরি আক্রান্ত মোহামেডানের নিয়মিত অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলির অনুপস্থিতি ঢেকে দেন ওয়াহেদ। মূলত তার কল্যাণেই শেষদিকে ছন্দে ছিল ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। সেবারের ম্যারাথন লীগে (২০১৩) ২৭ ম্যাচে মোহামেডান করে ৩৬ গোল। এর ১৫টিই করেন ওয়াহেদ। অথচ দলের হয়ে সব ম্যাচও খেলানো হয়নি তাকে। খেলেন ১৮-১৯ ম্যাচ। এর আগে ২০১১ সালেও জাতীয় দলের ট্রায়ালে ডাক পেয়েও পড়েছিলেন ওয়াহেদ। ওয়াহেদের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু ২০০৬ সালে। মোহামেডানের জুনিয়র টিমের হয়ে। মূলত প্রতিভা অন্বেষণ প্রক্রিয়াতেই তার আগমন। কোচ ছিলেন শফিকুল ইসলাম মানিক, সহকারী ছিলেন সাইফুল বারী টিটু। এরপর ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের হয়ে খেলেন ২০০৭-০৯ পর্যন্ত। ক্লাবের হয়ে খেলে এক মৌসুমে লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন। তারপর শেখ রাসেলে ২০১০ মৌসুমে। তারপর মোহামেডানে ২০১১-১৪ পর্যন্ত খেলে এখন খেলছেন আবাহনীর হয়ে।