২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোলায় ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা, ৫৫ জেলে আটক

  • মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা, ৬ অক্টোবর ॥ ভোলার লালমোহনে মা-ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জেলেরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুলচন্দ্র দাসের ওপর হামলা চালায়। এতে ম্যাজিস্ট্রেটের ডান চোখ, নাক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকালে লালমোহন উপজেলার ফাতেমাবাদ এলাকায়। অপরদিকে মা-ইলিশ পরিবহনের অভিযোগে লালমোহনে গ্রামীণ ব্যাংক ও গ্রামীণ শক্তির ৪ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আটক করে এক বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে। এছাড়া মনপুরায় ৫৫ জেলেকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সকালে লালমোহনের ফাতেমাবাদের ডগিরখালে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ট্রলার নিয়ে নদীতে অভিযানে যায়। এ সময় জেলেরা অভিযান টিমকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহত হন।

ঘটনার সময় জেলেরা বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি। খবর পেয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অন্যরা সেখান থেকে ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্ধার করে লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত ম্যাজিস্ট্রেট বিপুলচন্দ্র দাস বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ গুলি ছুঁড়তে চাইলেও আমি বারণ করি।

এদিকে সোমবার রাতে উপজেলার দেবীরচর বড়পুল এলাকা থেকে ১০ হালি ইলিশ মাছসহ গ্রামীণ ব্যাংকের চার কর্মচারী-কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ। এরা হচ্ছে গলাচিপা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া এলাকার আহাম্মদ আলীর ছেলে ইব্রাহিম, দশমিনা উপজেলার খলিশাখালী এলাকার আসমান আলীর ছেলে হেমায়েত, বাউফল উপজেলার বটকাজল এলাকার আজিজ মৃধার ছেলে ফিরোজ ও একই উপজেলার মদনপুর এলাকার সেকান্দরের ছেলে মোতালেব। এরা সবাই গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ শক্তিতে চাকরি করে ভোলার মনপুরার মেঘনায় ইলিশ ধরার অপরাধে ৫৫ জেলেকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। আটককৃতদের বাড়ি চরফ্যাশন ও লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে।

ঝালকাঠিতে ৮০

কেজি জব্দ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝালকাঠি থেকে জানান, মঙ্গলবার সকালে ৮০ কেজি ইলিশ মাছ ও ২০ হাজার মিটার জাল আটক করা হয়েছে। এছাড়া তিন জেলে আনোয়ার, বাদল ও রাকিবকে গ্রেফতার করে ১৫ দিনের সাজা প্রদান করা হয়েছে।

দাদনদারদের চাপে লক্ষ্মীপুরে

মা-ইলিশ শিকার

নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর থেকে জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষ্মীপুরে ইলিশ শিকারী জেলেরা মেঘনা নদীতে যাচ্ছে। গোপনে চলছে মা ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় ও সংরক্ষণ। তবে মাছ ঘাটে নয়, নানা কৌশলে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসন নিষিদ্ধ জাল, নৌকা, মাছসহ জেলেদের আটক করে জেল-জরিমানা করলেও থেমে নেই ইলিশ ধরা। অভিযান সফল করতে উপকূলীয় রামগতি, কমলনগর, রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর সদরের ৪৪ টি বরফ কলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিলেও অসাধু জেলে ও দাদনদারদের কারনে তা ভেস্তে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মহাজনরা জেলেদের নদীতে যেতে বাধ্য করে। তারা দাদন নিয়ে মহাজনের কাছে অসহায়।

রামগতি ও কমলগরে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন মহাজন জেলেদেরকে জানিয়েছে,স্থানীয় প্রশাসন ম্যানেজ করা হয়েছে। নদীতে যেতে কোন ভয় নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,অভিযানের প্রথম দিন থেকে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মৎস্য বিভাগ, রামগতির বড়খেড়ি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি,কোস্টগার্ড ও থানা পুলিশ নদীতে অভিযান চালাচ্ছে। এরমধ্যেও রামগতি ও কমলনগরে জেলেরা মাছ ধরার উৎসবে নেমেছে।