২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকারী পুকুর নিজের করে নিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

  • সিরাজগঞ্জে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ ॥ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হকের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা মূল্যে ১০ বিঘা জলাশয় (রাম রায় পুকুর) ভুয়া কাগজপত্র করে নিজের নামে করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। পরে উপজেলা পরিষদের ওই পুকুর তারা উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন, ভূমি কার্যালয় ও এলাকাবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রায় সাড়ে দশ বিঘা (৩ দশমিক ৪২ একর) আয়তনের রাম রায় পুকুরটি উপজেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপজেলা পরিষদ তিন বছর মেয়াদে পুকুরটি ইজারা প্রদান করে আসছে। ২০১৩ সালে সিরাজগঞ্জ জজ আদালতের ট্রাইব্যুনালে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হক, তার নিকট আত্মীয় মোশারফ হোসেন ও আব্দুল হাকিম মালিকানা দাবি করে মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি আদালত থেকে তাদের রাম রায় পুকুরটির মালিকানা ঘোষণা করে আদেশ দেয়া হয়। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা ভূমি তহশিল কার্যালয় থেকে পুকুরটি তিনজনের নামে নামজারি করে কাগজপত্র প্রদান করা হয়। এ দিকে বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। তাড়াশ সদর তহশিল অফিসের ভূমি কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নামজারি করার নির্দেশ আসায় এটি খারিজ করে তাদেরকে মালিকানার কাগজ দেয়া হয়েছে। সরকারী পুকুর দখল প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান তাড়াশ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আব্দুল হক জানান, আমার পিতাসহ তিন আত্মীয়ের পূর্বপুরুষগণ জমিদারদের নিকট থেকে পত্তনি গ্রহণ করে। সেইসূত্রে আমরা মালিক। বর্তমানে সরকার ক ও খ তপসীল আলাদা করায় ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। মামলার রায় আমাদের পক্ষে আসায় সরকার পক্ষ আপীল করে। সে আপীলেও তারা হেরে যায়। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিল্লুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারী পুকুরটি উদ্ধারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিদেশ পেলে ভূমি অফিসের মাধ্যমে আদালতে আপীল করা হবে।

নরসিংদী থেকে মানবপাচারকারী আটক

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ৬ অক্টোবর ॥ জেলার আড়াইহাজারের কল্যাণদি উত্তরপাড়া এলাকার যুবক ইয়াছিনকে পাচার করার অভিযোগে এমরান নামে মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। সোমবার রাত আড়াইটায় নরসিংদীর সদর থানার খাদিমারচর এলাকা থেকে এমরানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত এমরান নরসিংদীর সদর থানার খাদিমাচর এলাকার মৃত মোস্তফার ছেলে। র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি এমরান আড়াইহাজারের নিরীহ যুবক ইয়াছিনকে (১৮) মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে ৪ এপ্রিল মাইক্রোবাসযোগে চট্টগ্রাম নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে সিএনজিযোগে পাহাড়ী রাস্তায় বাঁশখালীতে আটকে রাখে। পরে ইয়াছিনসহ আরও তিনজনকে টেকনাফ সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার নিয়ে যায়। ৭ এপ্রিল ইয়াছিনকে জাহাজে ওঠায়। ওই জাহাজে আরও ৪০০ জন ছিল। পরবর্তীতে সাগর পথে ওই জাহাজে আরও ২৪০ জন উঠায়। এরপর ইয়াছিনসহ ৬৪০ জনকে নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে নিয়ে যায়। কিন্তু মালয়েশিয়া পুলিশের তৎপরতার কারণে তাদের মালয়েশিয়া সীমান্তে নামাতে পারেনি। এক পর্যায়ে জাহাজে নাবিক ও পাচারকারীরা স্পীডবোটে করে পালিয়ে যায়। ফলে ইয়াছিনসহ ৬৪০ জন জাহাজে ২৮ দিন সাগরে অবস্থান করে। পাচার যুবকদের মধ্যে হোসাইন নামে মিয়ানমারের নাগরিক জাহাজে চালিয়ে নিয়ে ইন্দোনেশিয়া সীমান্তে এক দ্বীপে পৌঁছায়।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া