২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লেবাননের পাহাড়েরও আছে চোখ!

  • মু. আবদুল্লাহ আলআমিন

লেবাননের পথে প্রান্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বালুর মতো রঙের শিলাখন্ডগুলো চারপাশের প্রাকৃতির অবস্থার সঙ্গে যেন ঠিক খাপ খায় না। পাথরগুলোর এক পাশ থেকে বেরিয়ে এসেছে বৈদ্যুতিক তার। বেশিরভাগ পাথরের একপাশে রয়েছে সমকোণ আকৃতির খাঁজ। যা উন্মুক্ত প্রান্তরের পরিবেশের সঙ্গে ঠিক মানায় না। লেবাননের এক গ্রামবাসী একদিন পথ চলতে গিয়ে এমনি এক শিলার সঙ্গে হোঁচট খেলে বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষের গোচরে আনেন। শেষ পর্যন্ত জানা গেল এগুলো আসলে পাথর নয়।

লেবাননের সেনাবাহিনীর দেয়া তথ্য মতে, এগুলো আসলে গোপন ক্যামেরা। চারটি ব্যাটারির সাহায্যে ক্যামেরাগুলো চালান হয়। ব্যাটারিগুলো বসানো আছে নকল পাথরের মধ্যে। গত মাসের শেষের দিকে তারা এই বক্তব্য দেয়। তারা ধারণা করছে, এগুলো আসলে ইসরাইলের গুপ্তচর সরঞ্জাম হয়ে থাকবে। তবে এগুলো এখনও সক্ষম বা নিষ্ক্রিয় আছে কী না সে বিষয়ে লেবানিজ সেনাবাহিনী কিছু বলেনি। ইসরাইল থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে লেবানন সীমান্তের ভেতর সরঞ্জামগুলোর হদিস মিলেছে। লেবাননের এই অংশটি ইসরাইল ১৯৮৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দখল করে রেখেছিল। ইসরাইলের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইসরাইলকে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র বলেছেন, তারা এই খবরের বিষয়ে কোন মন্তব্য করবে না।

২০১০ সাল থেকেই লেবাননের আনাচে কানাচে থেকে বিভিন্ন রকম গোপন নজরদারি সামগ্রীর খোঁজ পাওয়া যেতে শুরু করেছে। লেবাননের সেনাবাহিনীর গত বছরও জানিয়েছিল তারা এমন দুটো কৃত্রিম পাথরের খবর পেয়েছে যেগুলোতে বসানো রয়েছে গোপন ক্যামেরা। ওই ক্যামেরার সঙ্গে থাকা ডিভাইসের গায়ে ‘বিম সিস্টেমস ইসরাইল লি.’ এই সিল লাগানো ছিল বলে তারা জানিয়েছে। এ রকমই এক পাথর অপসারণ করতে গিয়ে প্রভাবশীল শিয়া গ্রুপ হিযবুল্লাহর এক সদস্য বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন। হিযবুল্লাহর সশস্ত্র শাখা আলমানার দাবি করেছিল, মাটিতে পেতে রাখা সরঞ্জামাদ থেকে পাঠানো সংকেতের সহায়তায় ইসরাইল চালক বিহীন ড্রোন বিমান ব্যবহার করে তাকে হত্যা করে।

এদিকে ইসরাইল অধিকৃত লেবাননের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শেবা এলাকায় আরো নজরদারি ক্যামেরা বসানোর কথা ইসরাইল গত বছর ঘোষণা দিয়েছিল। পার্শ্ববর্তী এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী ও লেবানিজ সেনাবাহিনীর দিকে দৃষ্টি রাখা ছাড়া সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধ কোন দিকে গড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা ইসরাইলের এমন কর্মকান্ডের লক্ষ্য হয়ে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সাড়ে চার বছরের গৃহযুদ্ধে ইসরাইল কয়েকবার সিরিয়া সীমান্তের ভেতর বোমা বর্ষণ করেছে। এই সঙ্কটে হিযবুল্লাহ সিরিয়ার শাসক বাশার আল আসাদকে সরাসরি সহায়তা করছে। যা ইসরাইলের একটি উদ্বেগের কারণ। উল্লেখ্য সিরিয়া ও ইসরাইল সীমান্তে ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে এক লাখের বেশি ফিলিস্তিনী শরণার্থী রয়েছে। ইসরাইল বহুবার দেশটিতে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে।

লেবানন একমাত্র দেশ নয় যেখানে পথে প্রান্তরে এমন ‘নকল পাথরের’ ছড়াছড়ি রয়েছে। ২০০৬ সালে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো শহরের এক ফুটপাথের ওপর এমনি এক রহস্যময় পাথরের সন্ধান মিলেছিল। রাশিয়া এর জন্য যুক্তরাজ্যকে দায়ী করেছিল। ছয় বছর পর ২০১২ সালে জোনাথন পাওয়েল নামে একটি বৃটিশ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘রাশিয়াই আমাদের এ কাজের পথ দেখিয়েছে’। পাওয়েল সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের একজন ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন।