১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘শৈবালে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শৈবাল চাষের মাধ্যমে দেশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শৈবালের বাণিজ্যিক চাষাবাদ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শৈবাল খাদ্য হিসাবে পুষ্টিগুণ পূরণে সক্ষম হতে পারে, তবে এজন্য প্রয়োজন আরও গবেষণা ও পর্যালোচনা।

বুধবার রাজধানীর কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের বিএআরসি’র সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ সি-ইউ উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ’ সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আযাদের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ।

বাংলাদেশ মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহের বলেন, সামুদ্রিক শৈবাল বিশেষ করে সেন্টমার্টিনে পাওয়া যায়। ২০০ এর মত প্রজাতি রয়েছে, ৫২ টি প্রজাতি আলাদা করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে সামুদ্রিক শৈবালের ওপর আরও গবেষণা করতে হবে। কোনগুলো কোন কাজে ব্যবহার করা যায়, তা আমাদের জানতে হবে। মানুষের খাওয়ার জন্য কোনটি, কোনটি হারবাল চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতে পারে তাও উদ্ভাবন করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট’র মহাপরিচালক ড. মো: রফিকুল ইসলাম মন্ডল বলেন, সামুদ্রিক শৈবাল বিষয়টি অনেকের কাছে নতুন। হয়ত আগামী দিনে এর উৎপাদনও আরও বাড়বে। দিন দিন উৎপাদক্ষম ভূমির পরিমাণ কমছে সে কারণে সমুদ্রের উপর আমাদের নির্ভরতা বাড়ছে। শৈবাল খাদ্য হিসাবেও ব্যবহৃত হতে পারে, আশা করা যায় ২ থেকে ৩ বছরের খাদ্য হিসাবে শৈবালের বহু প্রচলন ঘটতে পারে। তবে তা নিয়ে আরও গবেষণা করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আযাদ বলেন, শৈবাল কী কী উপকারে আসতে পারে তা নিয়ে আরও বেশি গবেষণা করতে হবে। নতুন জিনিস হিসাবে অনেক প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে। বর্তমানে সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন ও ইনানীতে এর উৎস। খাদ্য হিসাবে পুষ্টির ব্যবহার কতটা বেশি নিশ্চিত করা যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এর ফলে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচিত হল।

কর্মশালায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, মৎস অধিদফতর, বাংলাদেশ মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলানগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, বেসরকারী উদ্যোক্তা, এনজিও প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণসহ ৮০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।