১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এসব হচ্ছেটা কী?

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটাকে অস্থিতিশীল করে তোলার যে পাঁয়তারা চলছে আর সে লক্ষ্যে দেশজুড়ে অরাজকতার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে এখন বিশ্বজুড়েই। এসব কেন করা হচ্ছে, কি তাদের উদ্দেশ্য, তা নিয়ে নানা মত পাওয়া যায়। কিন্তু আসল তথ্য তো জনগণেরও জানা। বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদের ঘাঁটি বানানোর অপচেষ্টা যারা চালাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। নতুন করে যে নাশকতা ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, তার লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষমতাসীন সরকার উৎখাত করে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা। বর্তমান সরকার আমলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ঘটছে দ্রুত। বিশ্বে বাংলাদেশ নানা ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে যা দেশীয় অনেকের জন্য গাত্রদাহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গোষ্ঠী মূলত সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের ওপর ভর করে গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে আসছে, এমনকি তারা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন থেকেই। ক্ষমতা হারানোর পর এদের অপতৎপরতার মাত্রা বেড়ে গেছে। এই চক্রটি চায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারের পতন ঘটিয়ে জঙ্গীদের সহায়তায় ক্ষমতাবলে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করা এবং দেশকে জঙ্গীনির্ভর করে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে সর্বশেষ চলতি বছরের গোড়ায় পেট্রোলবোমা ছুড়ে যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো শুধু নয়, দেড় শতাধিক মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে। টানা তিন মাসের বেশি এই নাশকতামূলক সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়েও যখন সরকারের পতন ঘটানো যায়নি বরং সন্ত্রাসীরা গণরোষের শিকার হয়ে ওঠে তখন পিছু তারা হটে গিয়েছিল। কিছু সময় বিরতি দিয়ে তারা নতুন পদ্ধতিতে নতুনভাবে নাশকতায় যে নেমেছে তা তাদের বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে। তারা বলছে শীঘ্রই দেশে ঝড় উঠবে।

কিন্তু সেই ঝড় তারা শুরু করেছে ভিন্নভাবে। দেশী মানুষ জীবন্ত পুড়িয়েও যখন কামিয়াব হতে পারেনি, তখন বিদেশী হত্যা করে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ শুধু নয়, দেশকে জঙ্গীবাদের আস্তানায় পরিণত করার পাকিস্তানী পদ্ধতি অবলম্বন করতে চাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর তাদের রক্ষার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি-জামায়াত জোটসহ দেশী-বিদেশী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং মাফিয়াচক্র। এদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। এমনকি ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোও এদের সঙ্গে সংযোগ রেখে সন্ত্রাসবাদের প্রসার ঘটাতে তৎপর। দুই যুদ্ধাপরাধীর আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে রয়েছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে। তাই বিভিন্ন জঙ্গী ও মাফিয়াগোষ্ঠী তাদের রক্ষায় এক হয়েছে বলা যায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিকভাবে হত্যাকা- ঘটানোর মধ্য দিয়ে তারা তাদের শক্তিমত্তা যেমন প্রদর্শন করেছে, তেমনি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ শুধু নয়, জঙ্গীগোষ্ঠীর সমর্থক দেশগুলোর সমর্থন লাভের চেষ্টাও করছে। তবে একথা ঠিক, সরকার দৃঢ়ভাবে জঙ্গীবাদ তথা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। যে কোন অপশক্তির অপতৎপরতা রোধে সরকার বদ্ধপরিকর। এদেশের মানুষও সম্পূর্ণরূপে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। তাই প্রত্যাশা করা যায়, যারা নতুন করে দেশকে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের পথে নিতে চায় তাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে, সরকার কঠোর হস্তে এদের দমন করবে।