২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে-

সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি তহবিল গঠন করা হবে। তহবিলে সরকার ছাড়াও দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। এমন বিধান রেখে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন-২০১৫-এর খসড়া তৈরি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে খসড়াটি প্রশাসনিক উন্নয়ন বিষয়ক সচিব কমিটিতে অনুমোদন পেয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্যই যে আইনটি করা হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আইনটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সুযোগ নিশ্চিত হবে। সরকার বা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং প্রশংসাযোগ্য। নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার সংবিধানে স্বীকৃত। তবে রাষ্ট্রের অর্থ সঙ্কট, পরিকল্পনায় দুর্বলতা, লুটপাট, দুর্নীতি, সেবাকর্মীদের অনীহা ও দায়িত্বে অবহেলার মতো বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অতীতে মানুষের ওই অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। সঠিক সেবা না পেয়ে অনেক দরিদ্র মানুষ মারা যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় সরকার সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

দেশের সিংহভাগ মানুষ এই সেবা থেকে বঞ্চিত। এর মূল কারণ সম্পদের সীমাবদ্ধতা। নানান সীমাবদ্ধতার মাঝেও সরকার নানানভাবে মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে। সে লক্ষ্যে নানানমুখী পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। ইতোপূর্বে রেকর্ডসংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিয়েছে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি হাসপাতাল চালু করেছে। বিভিন্ন রোগের সেবা নিয়ে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই কার্ডের আওতায় দেশের সব ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জেলা পর্যায়ের সরকারী হাসপাতাল ও সরকারী মেডিক্যাল কলেজ থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করা যাবে। আর এর বিনিময়ের জন্য চালু হবে নির্ধারিত পেমেন্ট পদ্ধতি। এজন্য তৈরি হয়েছে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ আইনটিও। হেলথ কার্ড তৈরির জন্য উপজেলা ও থানাভিত্তিক যোগ্য কার্ডধারী ও সুবিধাভোগীদের তালিকা করা হবে। নতুন আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, দেশের পাঁচ শ্রেণীর মানুষকে হেলথ কার্ডের মাধ্যমে সেবা দেয়া হবে। সেখানে প্রাধান্য দেয়া হবে দারিদ্র্যসীমার নিম্ন শ্রেণী, প্রাান্তিক আয়ের শ্রেণী, মধ্যম আয়ের শ্রেণী, উচ্চ-মধ্যম ও উচ্চ আয়ের শ্রেণী। তালিকায় স্বামী-স্ত্রী, নির্ভরশীল সন্তান, নির্ভরশীল পিতা-মা, নির্ভরশীল ভাই-বোন ও নাতি-নাতনি অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। এমনকি গৃহকর্মীদেরও তালিকায় যুক্ত থাকার সুযোগ থাকছে।

স্বাস্থ্যসেবা পেতে ভোগান্তিই শুধু নয়, অনেক পরিবার অসুস্থ সদস্যের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে জায়গা-জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হচ্ছে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় বলা হয়েছে, চিকিৎসার জন্য কাউকে নিঃস্ব হতে হবে না। কিছু সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হোক। চিকিৎসক সঙ্কট, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকা, যা আছে তার যথাযথ ব্যবহার না হওয়া, ওষুধ নিয়ে দুর্নীতি-অনিয়মসহ নানান অভিযোগ ও অসঙ্গতির পরও সরকার মানুষকে তাদের প্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে যে অঙ্গীকারাবদ্ধ এবং আন্তরিক তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে সরকারের গৃহীত নানান কর্মসূচীতে। হেলথ কার্ড প্রদানের যে উদ্যোগ এবং উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এবং সেই প্রচেষ্টা সফল হোক, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হোক।