১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভৈরবে কারেন্ট জালের রমরমা ব্যবসা

  • অবাধে পোনা নিধন ॥ নির্বিকার মৎস্য বিভাগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভৈরব, ৭ অক্টোবর ॥ ভৈরবে অবৈধ কারেন্ট জালের চলছে রমরমা ব্যবসা। সরকারী বিধি উপেক্ষা করে অসাধু ব্যবসায়ীরা চোরাপথে ভৈরব বাজারে কারেন্ট জালের অবাধ বাণিজ্য গড়ে তুলেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের গুদামে প্রায় কোটি টাকার কারেন্ট জাল মজুদ আছে বলে চোরাকারবারী সূত্রে জানা গেছে।

ভৈরবের প্রতিটি খাল-বিলে শুরু হয়েছে পোনা মাছ নিধনের মহোৎসব। বিশেষ করে মেঘনা নদীতে এখন শত শত জেলেকে কারেন্ট জালের সাহায্যে মাছ আহরণ করতে দেখা যায়। কারেন্ট জাল ব্যবসায়ীরা মৎস্য বিভাগের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে উৎকোচ দিয়ে মাছ শিকার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নদীতে কারেন্ট জাল পেতে রাখার কারণে লঞ্চ, কার্গো ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার চলাচলে বিঘœ ঘটছে। প্রায়ই ঘটে ছোট ছোট দুর্ঘটনা। ভৈরব উপজেলা মানিকদী, জামালপুর, বাঁশগাড়ি, আকবনগর, কালিকাপ্রসাদ, ফাঁড়ি রঘুনাথপুর, মধ্যেরচর ও কালী নদীতে এক সময় নানা ধরনের মাছ পাওয়া যেত। এখন শুধু কারেন্ট জাল ব্যবহারে পোনা মাছ শিকার হচ্ছে। রাতারাতি বড় লোক হওয়ার জন্য এক শ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহাজনদের দাদনের টাকায় চলে জেলে পরিবারগুলোর জীবন সংসার। কারেন্ট জালে যে কোন সাইজের মাছ ধরা পড়ে বিধায় তা বন্ধ করা হচ্ছে না। ছোট মাছ শুরু করে ডিমওয়ালা মাছ শিকার হচ্ছে সমান তালে। মৎস্য শিকার ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৪.৫ সে মি জালের ব্যবহার করার কথা থাকলেও কোন জেলেই এই নিয়ম নীতি মানছে না। ভৈরব মৎস্য অফিসের কর্মকর্তার চোখের সামনে জেলেরা ব্যবহার করচ্ছে ০.৫ সে মি ও ১.৫ সে মি জাল। বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নদীর গভীর পানি থেকে মাছ ডিম ছাড়তে খালে বিলে আসে। আর তখনই ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধড়া পরে কারেন্ট জালে।

এছাড়া কিছু ডিমওয়ালা মাছ এই জালের ফাঁকফোকর থেকে বেরিয়ে ডিম ছাড়লেও অল্পদিনের মধ্যে তারা মারা পড়ে। রেণু পোনাগুলো বেড় জালে এবং ছোট মাছ কারেন্ট জলে ধরা পড়ে। যার ফলে অঙ্কুরেই মৎস্য বৃদ্ধির সম্ভবনা শেষ হচ্ছে। এই জাল ব্যবহার শুধু নদী খালে-বিলে সীমাবদ্ধ নয়। বিল-ঝিলেও ব্যবহার হচ্ছে। এমনকি পুঁটিমাছ, কৈ মাছ পর্যন্ত এই জালের ফাঁদে আটকা পড়ে। এসব প্রজাতির মাছ ভৈরবে এখন খুব কম পাওয়া যায়। প্রকাশ্যে ভৈরব মৎস্য আড়তে মেঘনা নদীর পারে মাছের আড়তে ছোট ছোট মাছ বিক্রি হচ্ছে। অথচ ভৈরবে মৎস্য অফিস থাকা সত্ত্বেও তারা রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। ভৈরব বাজারে অবাধে কারেন্ট জাল বিক্রি করছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, কারেন্ট জাল বিক্রির জন্য প্রতিমাসে মৎস্য অফিসে মাসোহারা দিয়ে এ ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা মৎস্য অফিসারের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।