২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন অর্থবছরের আগাম বাজেট পরিকল্পনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে

  • উচ্চাভিলাষী এসব বাজেটের বাড়তি অর্থ সংগ্রহে গুরুত্ব পাবে তিন খাত

এম শাহজাহান ॥ বতর্মান সরকারের চলতি মেয়াদের আগাম তিনটি অর্থবছরের জন্য বাজেট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় বাজেট বাস্তবায়নে তিন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এগুলো হচ্ছে- রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বৈদেশিক সহায়তার হার বৃদ্ধি এবং স্বশাসিত সংস্থাগুলো থেকে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত আদায়। সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ অর্থবছরে (২০১৮-১৯) বাজেটের আকার হবে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এই উচ্চাভিলাসী বাজেট ভাবনার ওপর মতামত জানাতে সব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে সম্প্রতি ডিও লেটার (আধা সরকারীপত্র) দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে অর্থমন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, সরকারের চলতি মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২০১৯ সালে। ওই সময়ের মধ্যে আরও তিনটি বাজেট প্রণয়নের সুযোগ রয়েছে সরকারের। রূপকল্প-২১ বাস্তবায়ন, সপ্তম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বাজেটের আকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। এই বাজেটের মধ্যে রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা থাকছে। এ লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের (২০১৬-১৭) জন্য পৌনে ৪ লাখ কোটি টাকা এবং ২০১৭Ñ১৮ অর্থবছরের তা বাড়িয়ে সোয়া ৪ লাখ কোটি টাকার বাজেট দেয়ার একটি পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী তিন অর্থবছরের বাজেট যথাক্রমে ১৫ শতাংশ ২০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে অর্থমন্ত্রণালয়।

আগাম এই বাজেট পরিকল্পনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ডিও লেটারে বলেছেন, স্বশাসিত সংস্থা তাদের উদ্বৃত্ত সরকারকে সব সময় দেয় না। তাদের আদায়ের উর্ধগতি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের উদ্বৃত্ত সরকারী হিসাবে নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বর্তমান সরকার উন্নয়নের একটি বিশ্ব মডেল। এই মডেলের মর্যাদা বজায় রাখার জন্য আমাদের বাজেট নিয়ে আগাম প্রক্ষেপণ অতি প্রয়োজন।

এদিকে, অর্থমন্ত্রীর ডিও লেটার পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তিন বছরের আগাম বাজেট সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের পাশাপাশি উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে হলে বাজেটের আকার বাড়ানোর পাশাপাশি তা বাস্তবায়ন করতে হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, আগামী তিন বছরের বাজেট প্রণয়নের বিষয়টি মাথায় রেখে ইতোমধ্যে সরকার উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই রূপরেখার মধ্যে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের উচ্চতর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিরূপণ করা হয়েছে। ওই সময়ে কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, শিল্পের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।