২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ ॥ মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার

ফিরোজ মান্না ॥ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার বাংলাদেশ ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বের ১৮৯ দেশের মধ্যে আইটিইউ ও ইউনেস্কোর জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এই দুটি সংস্থার জরিপে বলা হয়েছে, ১৮৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯ তম। অন্যদিকে, ভারতের অবস্থান ১৫৫ ও পাকিস্তানের ১৫৬তম। ব্রডব্যান্ড সংযোগের দিক থেকে বাংলাদেশ ১৩৩ দেশের মধ্যে ১০১তম স্থানে। এ ক্ষেত্রে ভারত এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে। তবে পাকিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পেছনে। পাকিস্তান ১৩৫তম অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি আইটিইউ ও ইউনেস্কো প্রকাশিত এক জরিপে বলা হয়, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রতি এক শ’ জনে ৬ দশমিক ৪। ভারতে ৫ দশমিক ৫ ও পাকিস্তানে ৫ দশমিক ১। জাতিসংঘের ব্রডব্যান্ড কমিশনের সেপ্টেম্বরের সভায় এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অন্য আরেকটি জরিপে বলা হয়েছে, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৩তম স্থানে অবস্থান করছে। কয়েক বছর আগেও এই অবস্থান অনেক নিচে ছিল। একইভাবে আউটসোর্সিং র‌্যাংকিংয়ে অনেক ওপরে উঠে এসেছে। ঘরে বসেই আয়ের উৎস তৈরি হয়েছে। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত সবখান থেকেই এখন বিশ্ব ছোট হয়ে আসছে। এমন অগ্রগতি দেশের মানুষকেও গতি দিয়েছে। সরকারের কাজের স্বীকৃতি গোটা বিশ্ব দিচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে দারিদ্র্যের অবসান, মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, সবার জন্য স্বাস্থ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিতে সর্বজীনন প্রবেশ নিশ্চিত হবে। আইসিটি এসব অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে। আইসিটি (তথ্য প্রযুক্তি) দ্রুত বদলে দিচ্ছে মানুষের জীবন যাত্রাকে। সৃষ্টি করেছে সীমানাহীন তাৎক্ষণিক যোগাযোগ সুবিধা। তথ্যপ্রযুক্তি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গোটা জাতিকে নিয়ে যাবে উন্নত দেশের কাতারে। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তিকে এশিয়ার দেশগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ এই সেক্টর নিয়ে সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে নানা ধরনের কাজ শুরু করেছে বেশ আগে থেকেই। আইসিটি মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে চলে আসছে। সরকার প্রথম মেয়াদে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করেছিল। প্রথম মেয়াদে তথ্য প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি এগিয়ে গেছে বহুদূর। ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি প্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়েছে, মানুষ যাতে ঘরে বসে সব ধরনের সেবা পেতে পারেন। স্কুল কলেজে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করে ছাত্রছাত্রী গড়ে তোলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়, ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ই-গবর্নেন্সের আওতায় আনা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, মূলত সরকারের নীতিগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ইন্টারনেট বর্তমানে মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে চলে এসেছে। মানুষের প্রয়োজনীয় নানা বিষয়ের সঙ্গে ইন্টারনেটের সংযোগ রয়েছে। মানুষ যাতে অল্প খরচেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন তার জন্য সরকার ব্রডব্যান্ডের দাম কমিয়েছে। এতে ব্যক্তি পর্যায়েও দাম কমে আসছে। এ জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে ৫ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ইন্টারনেট বেকার সমস্যা অনেকটাই দূর করেছে। বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে থেকেই উপার্জন করছে।

বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ এন করিম জনকণ্ঠকে জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার নীতিনির্ধারণী কাজ শেষ করেছে। অনেক কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি কাজ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ পর্যাপ্ত রয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের পুরোপুরি না হলেও বেশিরভাগ মানুষ আইসিটির আওতায় চলে আসবে। আইসিটি সেক্টরটি একটি বড় সেক্টর। এখানে কাজের কোন শেষ নেই।

এদিকে আইটিইউ ও ইউনেস্কোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাড়ি বাড়ি ইন্টারনেট সংযোগ আছে এমন ১৩৩ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০১ ও এর হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ফিক্সড ব্রডব্যান্ড তালিকায় ১৮৯ দেশের মধ্যে ১৩২তম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর হার ১ দশমিক ২ শতাংশ। ভারত অবশ্য বাংলাদেশের চেয়ে একধাপ এগিয়ে ১৩১তম স্থানে। পাকিস্তান ব্রডব্যান্ড সংযোগের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। পাকিস্তানের অবস্থান ১৩৫ আর ব্যবহারকারীর হার ১ দশমিক ১ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের দিক থেকে বাংলাদেশে ব্যক্তি ব্যবহারকারীর অবস্থান ১৬২তম অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ