১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রধানমন্ত্রী আজ তিন বিদ্যুত কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ তিনটি বিদ্যুত কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন। আশুগঞ্জে নির্মাণ করা তিনটি বিদ্যুত কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৪৭৬ মেগাওয়াট। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আশুগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্র তিনটি উদ্বোধন করবেন। স্থানীয় জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে সমন্বয় করছে।

বিদ্যুত উৎপাদন মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আশুগঞ্জ বিদ্যুত কেন্দ্র পুরনো ও অধিক গ্যাসে কম বিদ্যুত উৎপাদনকারী ইউনিটের জায়গায় নতুন ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৩ সালের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশুগঞ্জে নতুন ৫টি ইউনিটের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ইউনিটগুলো হচ্ছে ২২৫ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট, ৪৫০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (সাউথ), ৪৫০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (নর্থ), ২০০ মেগাওয়াটের মডিউলার পাওয়ার প্লান্ট ও বেসরকারী মালিকানায় আইপিপি ৫১ মেগাওয়াটের মিডল্যান্ড পাওয়ার প্লান্ট। সব বিদ্যুত কেন্দ্রই গ্যাসচালিত। এর মধ্য দিয়ে আশুগঞ্জের আধুনিকায়ন হচ্ছে। দীর্ঘদিন এখানে পুরনো বিদ্যুত কেন্দ্রে অতিরিক্ত গ্যাস অপচয়ের অভিযোগ ছিল। এখন অধিক উৎপাদন দক্ষতার কেন্দ্র নির্মাণ করায় পুরনো কেন্দ্র অবসরে দেয়া সহজ হবে বলে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন এখানে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে। যে কেন্দ্রটি আগামী বছর বন্ধ হয়ে যাবে। ভাড়ায় চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ হলে এখান থেকে গ্যাস পাওয়া যাবে নতুন বিদ্যুত কেন্দ্র চালাতে। সম্প্রতি আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের নতুন কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন এবং পেট্রোবাংলার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হয়।

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন সূত্র বলছে, বর্তমানে আশুগঞ্জ থেকে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। আগামী জানুয়ারি মাসে এখান থেকে এক হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাবে।

আশুগঞ্জ বিদ্যুত কেন্দ্র সূত্র জানায়, আশুগঞ্জ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল) দুই হাজার ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করছে। কেন্দ্রটির সিম্পল সাইকেল উৎপাদন শুরু করেছে। সেখান থেকে ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন হচ্ছে। বিদ্যুত কেন্দ্রটির কম্বাইন্ড সাইকেল উৎপাদনে আসবে আগামী নবেম্বরে। তখন পুরো ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাবে। আশুগঞ্জের পুরনো ৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রটি এ জন্য বন্ধ করা হয়েছে। ৩৩ বছরের পুরনো এই বিদ্যুত কেন্দ্রটি চালাতে দৈনিক ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হতো। কিন্তু এর থেকে মাত্র ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বেশি ব্যবহার করে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন হবে। বলা হচ্ছে বিদ্যুত কেন্দ্রটির উৎপাদন দক্ষতা ৫১ ভাগ। চালাতে রোজ ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে।

এ ছাড়া ইউনাইটেড আশুগঞ্জ ২০০ মেগাওয়াট মডিউলার পাওয়ার প্লান্টটি সরকারী আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন লিঃ এবং বেসরকারী ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজেস এ্যান্ড কোম্পানি লিঃ-এর যৌথ মালিকানায় স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম বিদ্যুত কেন্দ্র যার প্রকল্প ব্যয় এক হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। মিডল্যান্ড ৫১ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টটি ভিয়েলাটেক্স লিমিটেড ও শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণের মোট ব্যয় ৩০০ কোটি টাকা। এই কেন্দ্র নির্মাণে অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। এখান থেকে ১৫ বছরের বিদ্যুত ক্রয় চুক্তি করেছে পিবিডি। বিদ্যুত কেন্দ্র দুটি আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের মূল হাব থেকে দুই কিলোমিটার দূরে স্থাপন করা হয়েছে। আশুগঞ্জ পাওয়ার কোম্পানি তাদের পরিকল্পনা বলছে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় তারা মেঘনার তীরে জমি অধিগ্রহণ করছে নতুন বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে।