১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এসএসসি ও এইচএসসিতে এমসিকিউ থেকে ১০ নম্বর কমছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নে বহুনির্বাচনী বা এমসিকিউ অংশ থেকে ১০ নম্বর কমিয়ে তা সৃজনশীল অংশে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১৭ সাল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। এছাড়া আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা থেকেই এমসিকিউ অংশের পরীক্ষা নেয়া হবে সৃজনশীল অংশের আগে। এতদিন এ পরীক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা শুরুতে সম্পন্ন হতো, এরপর অনুষ্ঠিত হতো এমসিকিউ অংশের পরীক্ষা। বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদে সভাপতিত্বে পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার বিষয়ক এ সভায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও শিক্ষা বোর্ডসমূহের চেয়ারম্যান, রাজধানীর বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী স্কুল কলেজের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের পরীক্ষার পূর্বে তা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়। এমসিকিউ পরীক্ষার মোট নম্বর থেকে ১০ নম্বর কমিয়ে আনার বিষয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে যেসব বিষয়ে ৪০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা হয় সেসব বিষয়ে ৩০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা হবে। আর যেসব বিষয়ে ৩৫ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা হয়, সেসব বিষয়ে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নরপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ দু’টি পরীক্ষায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্রে হ্রাসকরা ১০ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে যুক্ত হবে। সভায় প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও প্যাকেটজাতকরণের জন্য বিজিপ্রেসকে সম্পূর্ণভাবে অটোমেশন এর আওতায় আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। বিজিপ্রেসকে পুরোপুরি অটোমেশন করা হলে প্রশ্নপত্র প্রণয়ণের ক্ষেত্রে মানুষের কোন প্রকার স্পর্শ ছাড়াই প্রশ্নপত্র ছাপানো ও প্যাকেটজাতকরণ সম্ভব হবে। সভায় জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি ৩টি পরীক্ষাতেই দিনের সংখ্যা ও সময়সীমা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়, তবে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী সভায় বলেন, প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিহার করাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময় বৃদ্ধি ও প্রাইভেট কোচিং নিরুৎসাহিত করার জন্য আরো উন্নত পরীক্ষা পদ্ধতি খুঁজে বের করার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের মানের পরিমাপক হিসেবে যথার্থ পরীক্ষা পদ্ধতি খুঁজে বের করার উপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের এ আলোচনা একেবারেই প্রাথমিক ও ‘ব্রেন স্টোমিং’ পর্যায়ে রয়েছে। ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা, সেমিনার, কর্মশালার আয়োজনসহ সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।