২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশীদের নিরাপত্তায় আট পদক্ষেপ

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ ইতালি ও জাপানের দুই নাগরিক হত্যার পর দেশের বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের পক্ষ থেকে ৮টি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা, চেকপোস্ট, সাধারণ পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো, বিদেশীদের আবাসিক ও কর্ম এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, সন্ত্রাসীদের অনলাইনে অপপ্রচার পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রশাসনের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে জার্মানির অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ড. গ্রেড মুলার এখন ঢাকা সফর করছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এসব তথ্য জানায়।

দুই বিদেশী নাগরিককে হত্যার পর বিদেশী কূটনীতিকরা নিরাপত্তার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এ প্রেক্ষিতে সরকার থেকে তাদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিদেশী কূটনীতিকদের পাশাপাশি বিদেশী নাগরিকদেরও নিরাপত্তা বিশেষ নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে যেন বাস্তবায়ন করা হয়, সে বিষয়েও সরকারের নির্দেশনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া আট পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ঢাকার কূটনৈতিক জোন ও সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার। দেশের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট, গাড়ি তল্লাশি টিম ও মোবাইল টিম বাড়ানো হয়েছে। কূটনৈতিক জোনে সাধারণ পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদেশী নাগরিকদের আবাসিক এলাকা ও কর্মস্থল, বিনোদন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের চলাচলের জন্য বিভিন্ন রুটে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

সরকারের নেয়া পদক্ষেপের মধ্যে আরও রয়েছে, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় সারাদেশে সন্ত্রাসীদের তৎপরতার তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। পুলিশ সুপার, পুলিশের ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারদের প্রতি সারাদেশের বিদেশী নাগরিকদের পদমর্যাদা অনুযায়ী বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অনলাইনে অপপ্রচার পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা বাড়াতে বিশেষ টাস্ক গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এই গ্রুপটি সন্ত্রাসীদের কর্মতৎপরতা ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শনিবার রংপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন জাপানের নাগরিক হোসে কোনিও। এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে সিজার তাভেলাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি আইসিসিও কো-অপারেশন নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রুফ (প্রফিটেবল অপরচ্যুনিটিজ ফর ফুড সিকিউরিটি) কর্মসূচীর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ছিলেন। আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জঙ্গী হুমকি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ’ জানিয়েছে। তবে আইএসের এই দাবির সত্যতা যাচাই হয়নি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দুই বিদেশী নাগরিককে হত্যার ঘটনায় বিদেশী কূটনীতিকদের ইতোমধ্যেই ব্রিফিং করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে ঢাকার বিদেশী কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করে সরকার। এরপর তাদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে সরকার। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।