১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ল্যাংটা ফকিরসহ দু’জনকে কুপিয়ে হত্যার স্বীকারোক্তি সুজনের

  • আদালতে জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বাংলাবাজার এলাকার মাজারে ঢুকে ল্যাংটা ফকির ও আবদুল কাদের নামে দু’জনকে নৃশংসভাবে খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে ডাবল মার্ডার মামলার আসামি মোঃ সুজন ওরফে বাবু। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবির সদস্য। বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ঝলক রায়ের আদালতে এই স্বীকারোক্তি প্রদান করে বাবু।

চট্টগ্রামের বাংলাবাজার এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছিল গত ৪ সেপ্টেম্বর। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হলেও হত্যাকারীদের গ্রেফতার কিংবা ঘটনার ক্লু বের হচ্ছিল না। গত মঙ্গলবার কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর এলাকা থেকে জঙ্গী সংগঠন জেএমবির সামরিক প্রধান তৌহিদুল ইসলাম ওরফে জাবেদসহ ৫ জনকে আটকের পর ওই ঘটনার রহস্যের জট খোলে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার জঙ্গীদের অন্যতম মোঃ সুজন ওরফে বাবু স্বীকার করে যে, দু’জনকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় সে জড়িত ছিল। সে নিজেই ল্যাংটা ফকির ও তার খাদেম আবদুল কাদেরের খুনী। এরপর তাকে ওই হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আদালতে উপস্থিত করা হয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান জানান, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে আদালতে নেয়া হয়। এরপর সে বিচারকের কাছে তার জবানবন্দী প্রদান করে। এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশ সুজনের দেয়া তথ্য মতে, হত্যাকা-ে ব্যবহৃত দা এবং তার মেস থেকে রক্তমাখা প্যান্ট, শার্ট উদ্ধার করে।

জবানবন্দীতে সুজন ওরফে বাবু জানায়, ইসলামবিরোধী কর্মকা-ের জন্যই ল্যাংটা ফকিরকে খুন করা হয়েছে। কথিত পীর ল্যাংটা ফকিরকে তার ভক্ত ও মুরিদরা সেজদা দিয়ে শ্রদ্ধা করত, যা ইসলামের দৃষ্টিতে খারাপ মনে করে জেএমবি। এছাড়া ল্যাংটা ফকির উলঙ্গ অবস্থায় থাকত। জবানবন্দীতে সে হত্যার বিবরণ দিতে গিয়ে সে জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন একটি দা নিয়ে মাজারে যায় সুজন। এ সময় ল্যাংটা ফকির ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুমন্ত অবস্থায় তার গলায় কোপ বসানো হয়। এ ঘটনা দেখে এগিয়ে আসে আরেকজন। এরপর তাকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয়। এরপর চলে যাওয়ার সময় ৫-৬ জন লোক এগিয়ে আসে তাকে ধরতে। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সে পালিয়ে যায়।