২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অপহৃত পর্যটকদের জন্য মুক্তিপণ চায় আরাকান বিদ্রোহীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, ৭ অক্টোবর ॥ রুমা উপজেলায় বেড়াতে এসে দুই পর্যটকসহ এক গাইড অপহৃত হলেও তারা এখনও জীবিত আছে এবং তাদের মুক্তিপণ হিসেবে অর্ধকোটি টাকা দাবি করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি)! অপহৃতদের জীবন নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকলেও তারা জীবিত আছেন বলে জনকণ্ঠকে নিশ্চিত করেন খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ চাহেল তস্তুরী বলেন, মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি জানা নেই। তবে দুই পর্যটক ও গাইড রাঙ্গামাটি সীমান্তে সুস্থ আছে বলে আমরা শুনেছি। তিনি আরও বলেন, তাদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

শনিবার বিকেলে উপজেলার বগা লেকের রাইক্ষ্যং পুকুরপাড়ার কাছ থেকে অপহৃত হন ঢাকার মিরপুরের পর্যটক মুন্না (৩৫) ও জুবায়ের (২৮) এবং তাদের গাইড মাংসাই ম্রো। জেলায় পর্যটন শিল্প বিকাশের পর পর্যটক অপহরণের ঘটনা এই প্রথম হওয়ায় জেলার প্রশাসনজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর আদলে পোশাক পরিহিত ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায় রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি সীমান্তের গহীন অরণ্যে। বুধবার অপহৃত গাইডের ভাই পাসিং ম্রোকে ফোন করে সশস্ত্র এএলপি গ্রুপ অর্ধকোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। গাইড মাংসাই ম্রোর ভাই পাসিং ম্রো বুধবার দুপুর ২টায় জনকণ্ঠকে বলেন, এএলপি কমান্ডার আমাকে ফোন করে বলেছে, ৫০ লাখ টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।

জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর মুন্না ও জুবায়ের ঢাকা থেকে বান্দরবানের রুমায় বেড়াতে আসে। এ সময় তারা স্থানীয় একজন গাইডকে সঙ্গে নেয়। শনিবার বিকেলে রুমার বগা লেকের পাশের রাইক্ষ্যং পুকুরপাড়ায় আসার পর তারা অপহৃত হয়।

বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, অপহরণের ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তাই বান্দরবানে পর্যটকের আগমন কমে আসছে।

রুমা থানা সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে উপজেলার পর্যটন এলাকায় প্রবেশের আগে থানায় অবহিত করা বাধ্যতামূলক। তবে ওই দুই পর্যটক এ ব্যাপারে থানায় অবহিত করেননি। তাই তাদের ব্যাপারে পুলিশের কাছে আগাম কোন তথ্য ছিল না। পর্যটকসহ অপহৃতদের উদ্ধারের দাবিতে সোমবার উপজেলা বাজারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে গাইডসহ স্থানীয় লোকজন।