১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণঅর্থায়নে দেশীয় প্রথম চলচ্চিত্র ‘সংযোগ’ নির্মাণ শুরু

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আগে থেকেই গণঅর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ সাফল্যের সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গণঅর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র। ‘সংযোগ’ নামের এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন আবু সাইয়ীদ। চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে ‘গণঅর্থায়ন; স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার হয়। প্রাবন্ধিক মফিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকি, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, মানজারে হাসিন মুরাদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক ফাহমিদুল হক প্রমুখ।

সেমিনারের আগে গণঅর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু সাইয়ীদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ‘সংযোগ’ই প্রথম গণঅর্থায়নে চলচ্চিত্র নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ। বিশ্বব্যাপী নানারকম গণঅর্থায়ন কার্যক্রমের আলোকে এ ছবিতে জনসাধারণের অংশগ্রহণের জন্য কয়েকটি রূপরেখা করেছি। এতে বাংলাদেশে অবস্থানরত জনসাধারণ ছবিটিতে সম্মানিত দর্শক, পৃষ্ঠপোষক এবং সহযোগী, এই তিনভাবে আর্থিক অনুদান প্রদান করে অংশ নিতে পারবেন। সম্মানিত দর্শকের আর্থিক অনুদানের পরিমাণ একশত, এক হাজার ও দশ হাজার টাকা। একশত টাকায় একজন, এক হাজার টাকায় দুই জন এবং দশ হাজার টাকার কুপনে দশ জন ছবিটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে প্রবেশপত্র হিসেবে বিবেচিত হবেন। পৃষ্ঠপোষকের জন্য অনুদানের পরিমাণ এক, তিন ও পাঁচ লাখ টাকা। এদের ছবিটির ইউনিটের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে। সহযোগীদের ব্যক্তিগত আর্থিক অংশগ্রহণের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারিত পরিমাণ অনুদান সংগ্রহ করা। দশ লাখের অধিক অনুদান সংগ্রহ করলে একজন ব্যক্তি যথাক্রমে সহযোগী, সহযোগী প্রযোজক ও সহ-প্রযোজক হিসেবে বিবেচিত হবেন। তিনি আরও বলেন, ছবি নির্মাণের পর সিনেমা হল, টেলিভিশন ও ডিভিডি বিক্রয়ের মাধ্যমে যে অর্থ আসবে, তার পরিমাণ যাই হউক না কেন, তা দিয়ে আবার নতুন ছবি নির্মাণ করা হবে। ‘সংযোগ’ চলচ্চিত্র নির্মাণে যারা অনুদান প্রদান করবেন তাদের ০১৫৫৯০২৪১১২ এই ফোন নম্বর এবং এই ই-মেইল আইডি অথবা সংযোগ পেইজে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক আহমাদ মাযহার। প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তুতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক সাফল্য আসছে। অথচ সিনেমার কথা সেখানে অনুপস্থিত। কমে যাচ্ছে সিনেমা হলের সংখ্যা। সাম্প্রতিক সরকারী অনুদানের সংখ্যা বাড়লেও এই সুবিধার পরিমাণ অপ্রতুল। গত শতাব্দীর আশির দশকে একটা ছোট্ট ঢেউ উঠেছিল, যাতে বাংলাদেশের সিনেমায় কিছু পরিবর্তনের আভাস দেখা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা টিকে থাকেনি। বারবার বিনিয়োগজনিত সঙ্কট এ মাধ্যমটিকে এগিয়ে চলতে দেয়নি। জনগণের সম্মিলিত বিনিয়োগ হতে পারে সিনেমা তৈরির পুঁজি সংগ্রহের নতুন ধারণা। সমাজের মধ্যে সৃষ্টিশীল সিনেমা দেখার যে সম্মিলিত শুভ আকাক্সক্ষা বিরাজ করছে গণঅর্থায়ন হতে পারে তারই বাস্তবায়ন।

শিল্পকলায় সিএটির প্রযোজনায় ‘ম্যাকাব্রে’ মঞ্চস্থ ॥ কল্পনাশ্রিত, উপলব্ধি ও ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে স্বতঃপ্রণোদিত ছন্দময় এক প্রক্রিয়া প্রতিভাত হয়েছে ‘ম্যাকাব্রে’ নাটকে। মৃত্যুর অনুপ্রবেশ, সেখানকার সমাজব্যবস্থা, মানুষের দুর্দশা, যন্ত্রণা, নিপীড়ন, ব্যাধি এবং নোংরা পরিবেশে একসঙ্গে অনেক মানুষের বসবাসকে প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরা হয়েছে এতে। সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটারের (সিএটি) ২১তম প্রযোজনায় নাটকটির অষ্টম মঞ্চায়ন হয় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যায়। নাটকটি রচনা করেছেন আনিকা মাহিন এবং নির্দেশনা দিয়েছেন কামালউদ্দিন নীলু।

‘অষ্টম মিসবাহউদ্দিন খান স্মারক বক্তৃতা’ আজ ॥ ইতিহাসবিদ ও সমাজকর্মী মিসবাউদ্দিন খানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করেছে মুনতাসীর মামুন-ফাতেমা ট্রাস্ট। বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ‘অষ্টম মিসবাহউদ্দিন খান স্মারক বক্তৃতা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি। এতে বিশ শতকে পূর্ব বাংলায় সামাজিক সাংস্কৃতিক জাগরণ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠন শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর।