২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযুদ্ধের কালজয়ী গানের রচয়িতা নয়ীম গহর আর নেই

মুক্তিযুদ্ধের কালজয়ী গানের রচয়িতা নয়ীম গহর আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’, ‘নোঙ্গর তোলো তোলো সময় যে হলো হলো’ কিংবা ‘পূবের ঐ আকাশে সূর্য উঠেছেসহ অসংখ্য গানের প্রণেতা নয়ীম গহর আর নেই (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মেয়ে ইলোরা গহর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের বড় মসজিদে বুধবার বাদ আছর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাজধানীর মীরপুর বৃদ্ধিজীবী কবরস্থানে মাগরিবের আজানের ১০ মিনিট পূর্বে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে দেশের সঙ্গীতাঙ্গনের শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত গীতিকবি নয়ীম গহরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার লেখা দেশাত্মবোধক গান স্বাধীনতাপ্রেমী জনগণকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। জাতি তার এই অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণে রাখবে। প্রধানমন্ত্রী শোকবার্তায় মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন এ তথ্য জানান। গীতিকবি নয়ীম গহরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। মন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। এছাড়া তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ আরও অনেকে।

বরেণ্য এ গীতিকার গান লেখার পাশাপাশি একজন ঔপন্যাসিক, গায়ক, অভিনেতা ও নাট্য রচয়িতাও ছিলেন তিনি। বিবিসি বাংলার ভাষ্যকার ও সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। ছয় মাস আগে স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ) করার কারণে তার স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। গত মাসে তার ঊরুতে একটি অস্ত্রোপচারের পর সেখানে পচন ধরে। দীর্ঘদিন বিছানায় থাকায় তার পিঠেও ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। সবমিলিয়ে বর্তমান অবস্থা বেশ গুরুতর আকার ধারণ করেছিল। ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক সহযোগিতায় নয়ীম গহরের ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল। এরপর থেকে তেমন কোন সহায়তা তিনি পাননি। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই সম্প্রতি বিএসএমএমইউয়ে তার চিকিৎসা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তার চিকিৎসার সব ব্যয়ভারও বহন করেছিলেন। নয়ীম গহর ২০১২ সালে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ পান।

নির্বাচিত সংবাদ