২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আসছে ১ বিলিয়ন ডলারের ‘টাকা বন্ড’

  • এই ‘টাকা বন্ড’ যে কেউ কিনতে পারবে ॥ গবর্নর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলারের ‘টাকা বন্ড’ ছাড়তে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এখন আইএফসি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালয় বসে একটি কাঠামো ঠিক করে দ্রুত এই বন্ড ছাড়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান। মঙ্গলবার পেরুর রাজধানী লিমায় অনুষ্ঠিত ‘ইমপ্যাক্ট অব ডি-রিস্কিং/ডি-ব্যাংকিং অন ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন এ্যান্ড রেমিট্যান্স’ শীর্ষক কমনওয়েল্থ সেন্ট্রাল ব্যাংক গবর্নরদের এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফাইন্যান্সিয়াল এ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল ভেগা সেরানো। বিশ্বের ১৫টিরও বেশি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

গবর্নর বলেন, প্রবাসীদের জন্য ‘ডলার বন্ড’ থাকলেও বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো ‘টাকা বন্ড’ ছাড়া হচ্ছে। এর আগে ভারতেও এ ধরনের বন্ড চালু করে আইএফসি।

তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়, এই প্রথম আমাদের টাকা আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। আমাদের টাকা লন্ডন স্টক মার্কেটে লেনদেন হবে। যে কেউ এই বন্ড কিনতে পারবে। ডলার দিয়ে এই বন্ড কিনতে হবে। সেই ডলার টাকায় কনভার্ট হয়ে তা বিনিয়োগ করা হবে। ড. আতিউর রহমান বলেন, ১১ অক্টোবর আইএফসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিন ইয়ং কাইয়ের সঙ্গে আমাদের অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ‘টাকা বন্ডের’ সুদহারসহ কাঠামোগত অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশে বেসরকারী খাতে বিনিয়ে বাড়াতেই আইএফসি এই বন্ড ছাড়ছে জানিয়ে গবর্নর আতিউর বলেন, আইএফসি বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুতখাতে বিনিয়োগ করেছে। এই ১ বিলিয়ন ডলার ‘টাকা বন্ড’ ছাড়ার মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

আইএফসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশী মুদ্রা টাকায় এ দেশের বাজারে ছাড়বে। যে কেউ এ বন্ড কিনতে পারবে। এই বন্ড প্রবাসীদের জন্য ‘আকর্ষণীয় হবে’ মন্তব্য করে গবর্নর বলেন, বিদেশের ব্যাংকে টাকা রাখলে কোন সুদ পাওয়া যায় না। টাকা বন্ডে ৪/৫ শতাংশের মতো ইন্টারেস্ট থাকবে। আমাদের প্রবাসীরা তাদের সঞ্চয় ব্যাংকে না রেখে ‘টাকা বন্ডে’ বিনিয়োগ করলে ভাল মুনাফা পাবেন। অন্যরাও এ বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন। মূলত দেশে বিনিয়োগ বাড়াতেই সরকার আইএফসির প্রস্তাবে রাজি হয়েছে বলে জানান আতিউর। এ কথা সত্যি যে, আমাদের বিনিয়োগে ঘাটতি আছে। এই বন্ড ছাড়ার মধ্য দিয়ে সে ঘাটতি পূরণ হবে আশা করি।

গবর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শক্তিশালী এফআইইউ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। দেশের পেমেন্ট সিস্টেমে এবং আর্থিক খাতের ব্যাপক আধুনিকায়নে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা, মোবাইল ফোন ও স্মার্ট কার্ডভিত্তিক আর্থিক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে দ্রুত এবং সুবিধাজনক উন্নয়নের ফলে একটি নিখুঁত এএমএল/সিএফটি অঞ্চল গঠন করা সম্ভব হয়েছে। এসব টেকসই পদক্ষেপ মাদক ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বিষয়ে এফএটিএফ সংক্রান্ত আশঙ্কা থেকে দেশকে পুরোপুরি মুক্ত করেছে। ড. আতিউর রহমান কমনওয়েল্থ সিনিয়র কর্মকর্তাদের এক সভায় বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একটি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে রেমিট্যান্সের সম্ভাব্য উপযোগিতার ওপর বক্তব্য দেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর (এসডিজি) অর্থায়নের উৎস হিসেবে রেমিট্যান্সের কৌশলগত ভূমিকার ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি চারটি কৌশলগত নীতি যেমন বৈশ্বিকভাবে সুরক্ষিত এবং ক্রসবর্ডার শ্রমবাজার এর উদারিকরণ, শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা এবং দক্ষতা অর্জন, সুরক্ষিত ও দক্ষ, সাশ্রয়ী এমএল-টিএফ প্রভাবমুক্ত রেমিট্যান্স চ্যানেল এবং রেমিট্যান্সকে বিনিয়োগে রূপান্তর করতে উন্নয়নশীল দেশের আর্থিক বাজারকে আরও বেগবান করার কথা বলেন। আতিউর রহমান আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর খলিল সাদিকীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেন। এরপর ড. আতিউর রহমান বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. কৌশিক বসুর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার উদ্বোধন হবে ৯ অক্টোবর। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার পেরুতে পৌঁছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।