২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নবেম্বরে আসছে জিম্বাবুইয়ে

  • বাংলাদেশের সঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ, নান্নু, বাশার, গামাগের মেয়াদ বাড়ল ১ বছর

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে যে একটা লম্বা বিরতি পড়ে গিয়েছিল, তা দূর হয়ে যাচ্ছে। নবেম্বরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে জিম্বাবুইয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল। সিরিজটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে। বুধবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভা করে তা নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার আইসিসি সভায় সূচী ঠিক হবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দুই ম্যাচের টেস্ট, তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ খেলার কথা ছিল জিম্বাবুইয়ের। সেই সময়ের সিরিজ থেকে দুটি টেস্ট নবেম্বরেই খেলে ফেলবে জিম্বাবুইয়ে। বাংলাদেশ সফর স্থগিত করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর থেকেই জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বিসিবি এ নিয়ে যোগাযোগ করে যায়। তাতে সাফল্যও মিলে। নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ সফরে ক্রিকেট সিরিজ খেলতে আসেনি অস্ট্রেলিয়া। অক্টোবরে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। সিরিজ না হওয়ায় এ সময়টায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিরতি পড়ে গিয়েছিল। সেই বিরতি ঘোচাতে বিসিবি চেষ্টা চালাচ্ছিল জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে। বিপিএলের আগেই সেই সিরিজ করতে চেয়েছে বিসিবি। এবং সেই স্টেট সিরিজও নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ের।

অক্টোবরের ১৬ তারিখ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিম্বাবুইয়ে পাঁচ ওয়ানডে ও দুটি টি২০ খেলবে। আফগানদের বিপক্ষে সিরিজ শেষেই বাংলাদেশে আসবে জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে। জিম্বাবুইয়ে নবেম্বরে সিরিজ খেলতে রাজি হয়ে যাওয়াতে ভালই হলো। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যে সেই আগস্ট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে না, আবার তাতে ফিরতে পারবে।

গত বছর শেষদিকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলে গেছে জিম্বাবুইয়ে। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে যে সিরিজ ছিল, সেখানে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজও ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহে চেয়েছিলেন তিনটি নয়, দুটি টেস্ট খেলতে। তাই একটি টেস্ট কমানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে পাঁচ ওয়ানডে থেকে ২টি ওয়ানডেও কমানো হয়েছিল। এখন জিম্বাবুইয়ে নবেম্বরে ২ টেস্ট ম্যাচের সিরিজ খেলতে আসবে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ১২তম সভা হয় বুধবার। এ সভায় নির্বাচক কমিটির দুই সদস্য মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমনের ১ বছর করে মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সঙ্গে মহিলা ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ চাম্পিকা গামাগের মেয়াদও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। সভা শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনই এমনটি জানিয়েছেন।

এরআগেও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই নির্বাচক নান্নু এবং সুমনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী ৩০ জুলাই শেষ হওয়ার কথা এ দুই নির্বাচকের মেয়াদ। কিন্তু সিরিজ থাকায় নির্বাচক কমিটিতেই রেখে দেয়া হয়। তাদের সাফল্যের কথা বিবেচনা করে এবার চতুর্থ দফায় আবারও নতুন করে তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়াল বিসিবি। ২০১৪ সালের জুন মাসে হাবিবুল বাশার ও মিনহাজুল আবেদীন জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পান পরবর্তী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। এরপর সেটা বাড়িয়ে ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। নতুন চুক্তি অনুযায়ী এই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান প্রধান নির্বাচক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর উক্ত পদে দায়িত্ব পান ফারুক। চলতি বছরের ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত এই পদে থাকবেন তিনি। গত এক বছর ধরে ফারুক, মিনহাজুল ও হাবিবুল এই তিন নির্বাচকদের অধীনে বাংলাদেশ দল অনেক সাফল্য পেয়েছে। আর তাই নির্বাচক কমিটির দুই সদস্যের মেয়াদ ১ বছর করে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

গত বছর আগস্টে মহিলা ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গামাগে। শ্রীলঙ্কার সাবেক এ পেসার এক বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। বুধবার মহিলা ক্রিকেট দলের সঙ্গে পাকিস্তান সফর করে দেশে ফিরেছেন। ফিরেই এক বছর মেয়াদ বাড়ার সংবাদটি শুনেছেন।

বিসিবির সভায় এ সিদ্ধান্তগুলো ছাড়াও বিপিএল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিসিবির বাজেটও অনুমোদন হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশে খেলতে আসেনি। ভবিষ্যতে যেন নিরাপত্তা অজুহাত না দেখায় এজন্য আইসিসি সভায় সব দেশকে বোঝানো হবে।