২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একদিন আগেও দায়িত্ব ছাড়বেন না ব্লাটার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘আমি ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজ করব। এর একদিন আগেও কাজ বন্ধ করব না। ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমি লড়াই চালিয়ে যাব। নিজের জন্য, আর ফিফার জন্য। আমি নিশ্চিত, অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে সত্যের জয় হবেই।’ কথাগুলো সেপ ব্লাটারের। বুধবার এক সাক্ষাতকারে এমন মন্তব্য করেন সুইস এই ফুটবল কর্তা।

সর্বশেষ নির্বাচনে পুনরায় ফিফা সভাপতি হওয়ার পর পদত্যাগ করেন ব্লাটার। এরপর অনেক নাটক হয়েছে। তবে সবশেষ সাক্ষাতকারে ব্লাটার জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন না। আগামী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশেষ কংগ্রেসে পরবর্তী ফিফা সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্লাটারের সমালোচনা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো তো সব মার্কিন কোম্পানি। ফিফার অন্যান্য স্পন্সর যেমন জার্মানির এ্যাডিডাস, দক্ষিণ কোরিয়ার হিউন্দাই আর রাশিয়ার গ্যাজপ্রোম আমার পাশেই আছে। তবে সময়টা মোটেও ভাল যাচ্ছে না ব্লাটারের। অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তার ওপরে ফিফা সভাপতির পদ থেকে যত দ্রুত সম্ভব তাকে সরিয়ে দেয়ার দাবিতে সোচ্চার ফিফার চার প্রভাবশালী স্পন্সর। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফায় দীর্ঘ সময় ধরে কর্তৃত্ব করছেন ব্লাটার। ১৯৯৮ সাল থেকে ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির উজ্জ্বল ভাবমূর্তিতে কলঙ্কের দাগ পড়েছে চলমান বছর। ঘটনার শুরু মে মাসের শেষ সপ্তাহে। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কংগ্রেসের ঠিক দু’দিন আগে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জুরিখেরই এক হোটেল থেকে আটক হন ফিফার সাত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ব্লাটার অবশ্য নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। কিন্তু টানা পঞ্চমবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মাত্র চারদিন পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে হতবাক করে দেন ফুটবল দুনিয়াকে।

তখন থেকেই সন্দেহের তীর তার দিকে। সন্দেহটা অনেক বেড়ে গেছে নতুন অভিযোগের কারণে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সুইজারল্যান্ডের তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ব্লাটারকে। পাশাপাশি ফিফার স্পন্সর কোকাকোলা, ভিসা, ম্যাকডোনাল্ডস ও বাডওয়াইজার যত দ্রুত সম্ভব তাকে অপসারণের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। তবে ব্লাটারের মতো তার মেয়ে কোরিনের দাবি, তিনি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার। একসময় ব্লাটারের পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করতেন কোরিন। কর্মক্ষেত্রে খুব কাছ থেকে দেখার সুবাদে বাবার সততা নিয়ে তিনি গর্বিত। ১৯৯৮ সাল থেকে ফিফা সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চলা ব্লাটারের ভাবমূর্তি ধ্বংসের জন্য গণমাধ্যমের দিকে অভিযোগের আঙুল কোরিনের। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, গণমাধ্যম তার (ব্লাটার) ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। কেন তারা তার পেছনে লাগল? তিনি তাদের কী ক্ষতি করেছেন? আমি জানি না। শুধু হিংসা নয়, বিদ্বেষ থেকে এটা করা হচ্ছে।